করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬৯৮,৪৬৫

পীরগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হারিকেন

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৩:১১:৪৬

ফাইদুল ইসলাম,পীরগঞ্জ ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ হারিকেনকে এক সময় রাত্রিকালীন সঙ্গী হিসেবে অনেকেই আখ্যায়িত করত। এক সময় হারিকেন হাতে নিয়ে ডাকপিয়ন ছুটে চলতেন শহর থেকে গ্রামে গ্রামে। বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সবাই রাতের বেলাই হারিকেন হাতে নিয়ে বের হতেন। হারিকেনের আলো গৃহস্থালির পাশাপাশি ব্যবহার হতো বিভিন্ন যানবাহনে। কিন্তু আধুনিকার ছোয়ায় বিভিন্ন বৈদ্যুতিক বাতিতে বাজার ভরপুর। যার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে রাত্রিকালীন আলোর একমাত্র উৎস ঐতিহ্যবাহী হারিকেন।

সরেজমিনে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও এলাকা ঘুরে জানা গেছে, তখনকার সময়ে হারিকেন মেরামতের জন্য উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে মিস্ত্রী বসতো। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি বাজারে ছিল হারিকেন মেরামতের ভার্সমান দোকান।এরা বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে -ঘুরে হারিকেন মেরামতের কাজ করত। এছাড়া অনেকে গ্রামের বিভিন্ন বাড়ীতে গিয়ে হারিকেন মেরামত করত। কিন্তু এখন আর হারিকেন ব্যবহার না করার ফলে হারিকেন মিস্ত্রীদের এখন আর দেখা যায় না আগের মতোন।
উপজেলার দক্ষিন পালিগাঁ গ্রামের মসজিদের ঈমাম আব্দুস সামাদ বলেন, এক সময় হারিকেন ছাড়া রাতে চলাচল করা যেত না। কিন্তু এখন বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের এলইডি লাইট বের হওয়ায় এখন আর হারিকেনের প্রয়োজন হয় না।
বিরহলী গ্রামের লুৎফর রহমান বলেন, আগে রাতে পড়তে বসার আগেই হারিকেন নিয়ে টানা টানি করতে হতো। কিন্তু এখন ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। তাছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের এলইডি বাল্ব অনেক কম দামে পাওয়া যায়। যার কারণে এখন আর হারিকেনের প্রয়োজন হয় না।

কেডগাঁও গ্রামের ফসর আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই যুগেরও অধিককাল ধরে হাটবাজারে বসে আমার বংশধর হারিকেন মেরামতের কাজ করতেন। তখনকার সময়ে গ্রামের প্রতিটি ঘরে ছিল হারিকেনের ব্যবহার। এতে কাজও হতো প্রচুর। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক ইলেকট্রনিক্স লাইট বাজারে ভরপুর হওয়ায় হারিকেনের প্রচলন বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার ১নং ভোমরাদহ ইউনিয়নের ইসাহাগ আলী জানায় এখন কার সময়ে কিছু কিছু ঘরে হারিকেন থাকলেও তা আর কেউ ব্যবহার করে না। তিনি আরও বলেন, সময়ের পরিক্রমায় এক সময় হারিকেন দেখতে যেতে হবে জাদুঘরে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবেও না হারিকেনের ইতিহাস।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: