শিরোনাম
     করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ১,০০৯,৯৭৫

প্রচন্ড তাপমাত্রা কদর বেড়ছে তাল পাখার

৪ মে ২০২১, ৯:০১:০৪

জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

আমাদের ঋতুচক্রে বৈশাখ মাস এলেই শুরু হয় প্রচন্ড গরম। আর এই গরমে প্রাণ জুড়ানো শীতল বাতাস পেতে বাংলার গ্রামে গঞ্চে পরিবেশ বান্ধব তালপাখার কোন জুড়ি নেই। গ্রামীণ জীবন গরমকালে এখনো তালের পাখা ভুমিকা অপরিহরিসীম। আধুনিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির যৃগে পাখার বিকল্প অনেক যন্ত্রের আবিস্কার হলেও শীতল বাতাসের জন্য তাল পাখার জুড়ি নেই । গ্রামে ও শহরে বিদ্যুৎ না থাকলে বাড়ে এই তাল পাখার কদর। তাইতো প্রবাদ আছে “আমার নাম তালের পাখা শীতকালে ভাই দেইনা দেখা গ্রীষ্মকালে প্রাণের সখা”। আবার এ নিয়ে গান ও রচিত হয়েছে তোমার হাত পাখার বাতাসে আমার প্রাণ জুড়িয়ে আসে । গরমকাল আসলেই গ্রামে গঞ্চে হাটে বাজারে দোকান পাটে বৈশাখী মেলাসহ বিভিন্ন মেলায় এই তাল পাখা বিক্রয় করতে দেখা যায় । এছাড়া কাধেঁ করে ফেরি করে ও তাল পাখা বিক্রয় করতে দেখা যায়।
তেমনি এক জন তাল পাখা বিক্রেতা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার করফা গ্রামের মো. সামচুর গাজীকে ।

সারা বছর লেপ তোশক তৈরির কাজ করলেও গরমের সময় আসলেই তিনি লোহাগড়া বাজারে তাল পাখা বিক্রয় করেন। পাখা বিক্তেতা মো. সামচুর গাজী বলেন, আমি লাহুড়িয়া থেকে পাখা পাইকারি কিনে নিয়ে আনি। আমাদের লোহাগড়ার লাহুড়িয়ায় তালের পাখা তৈরি কারখানা আছে সেখানে মাহাজনেরা লোহাগড়া, লাহুড়িয়া, দিঘলিয়া এলাকা থেকে প্রতিটি তাল পাতা ডাগুরসহ ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কিনে। ডাগুরগুলোকে ফেড়ে একটি তালের ডাগুর খেকে দুইটি করে পাখা হয়। তারপর পাখার আকার গোল করে কেটে পানিতে ভিচিয়ে ও রোদে শুকানোর পর সুতা ও বাঁশের শলাতে রং সেলাই করে পাখা তৈরি করা হয়।

প্রতিটি পাখা তৈরি করতে গড়ে ১২ থেকে ১৫ টাকা খরচ পড়ে। পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন ১৮ থেকে ২০ টাকায়। এ পেশায় পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান তালে কাজ করছে। এখন থেকে মাহাজনরা কিনে নিয়ে দেশের বড় বড় শহর গুলোতে তা চালান করে। এক এক টি পাখা ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রয় করা হয়ে থাকে ।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: