fbpx
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

প্রস্তুত শহীদ মিনার

২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০৩:৪২

বেদির আলপনা রাতেই শেষ হয়েছে। মূল চত্বরের কাজও শেষ। চারদিক ঘেরাও করে রাখা। আইনশৃঙ্লা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কড়া নজর। তবে সড়কগুলোতে এখনো চলছে আলপনার কাজ। চারুকলার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অগণিত মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। কয়েক ঘণ্টা পরেই ফুলে ফুলে ভরে উঠবে শহীদ মিনার। স্মরণ করা হবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এর সাজসজ্জা করে থাকেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে দেখা যায়, মূল মিনারসহ চারদিকে নতুন রং করা হয়েছে। মিনারের পাশেই ফুটন্ত পলাশ শোভা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আলপনা ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে ১৬ ফেব্রুয়ারি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, বিকেলের মধ্যেই শেষ হবে।

শহীদ মিনারের আলপনা ঘিরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ উৎসাহ। মো. সুলায়মান রঙের বালতি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর তো টিভিতে দেখতাম সবাই কাজ করছেন। আগ্রহ হতো। এবার নিজেই অংশ নিয়েছি। ভালো লাগছে।’

১৫ বছর ধরে শহীদ মিনারে আলপনা ও সাজসজ্জার সঙ্গে যুক্ত চারুকলার সাবেক শিক্ষার্থী কুমার বিশ্বজিৎ অপু। মিনারে প্রবেশের ঠিক সামনের সড়কে রং-তুলি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কাজের ফাঁকেই জানালেন, ‘এই সময়টা এলে আমি হাতে কোনো কাজ রাখি না। পুরো সময়টা এখানেই দিই।’ মূল বেদির আলপনা নিয়ে কুমার বিশ্বজিৎ বলেন, এবার পলাশ ফুলকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তিনি বলেন, এখানে চারুকলার সব শিক্ষার্থীই অংশ নিতে পারে। গতকাল রাতে শেষ হয়েছে মূল মিনারের কাজ। আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে বাকি আলপনার কাজ শেষ করতে হবে।

শহীদ মিনারের সামনের সড়ক থেকে শুরু করে জগন্নাথ হলে যাওয়ার সড়ক, দোয়েল চত্বরে যাওয়ার সড়ক এবং শাহবাগে চারুকলা পর্যন্ত আলপনা হবে। শহীদ মিনারের আশপাশের দেয়ালগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের তুলির আঁচড়।

দর্শনার্থীরা সংখ্যাও কম নয়। স্কুল ছুটির পরই আকিফ রহমান বন্ধুদের নিয়ে দেয়ালের চিত্রগুলো দেখছে। স্কুল শেষে মায়েরাও এসেছেন বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে।
দলে দলে ভাগ হয়ে শিক্ষার্থীরা কাজ করছেন। শিক্ষকেরা পাশে থেকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। কোথায় কোন রং, কোন নকশা হবে, তা–ও বুঝিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।

ফেব্রুয়ারি এলে শহীদ মিনারের কদর বেড়ের যায়। অন্য সময় এখানে ভবঘুরেদের আস্তানা হয়ে যায়। এ ব্যাপারে চারুকলার কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, একটি দিন ঘিরে সবাই বেশ পরিশ্রম করে। কিন্তু পরদিন থেকেই আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করে। এটা সারা বছর দেখভাল করার জন্য বলেন শিক্ষার্থীরা।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: