করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৩,০২৭ ◈ আজকে মৃত্যু : ৫৫ ◈ মোট সুস্থ্য : ৭৮,১০২
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

ফেসবুকে প্রেম অতঃপর প্রেমিককে দেখে অজ্ঞান!

২৭ জুন ২০২০, ৮:৫০:২৫

মাসুম বিল্লাহ, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আট মাস ধরে প্রেম। প্রেমের টানে প্রেমিকের বাড়ি ছুটে গিয়ে কলেজ ছাত্রী দেখতে পান প্রেমিক শারীরিক প্রতিবন্ধী। সাথে সাথে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। মন ভেঙে চুড়মার হয়ে যায় তার। ফিরে আসতে চাইলো নিজ বাড়িতে। কিন্তু প্রেমিক ও স্থানীয়রা তরুণীকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোড় করে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এমন সময় খবর পেয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতা ওই তরুণীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য-খোন্তাকাটা গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিকে মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের জনৈক ব্যক্তির অনার্স পড়ুয়া মেয়ে সুমি (২০) (ছদ্ধ নাম) এর সাথে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার আমতলা গ্রামের সেলিম মীরের ছেলে ইজিবাইক চালক রিয়াজ (২৬) এর সাথে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ আদান প্রদানের মাধ্যমে প্রেমের সূচণা হয়। ধীরে ধীরে তা গভীরতায় রুপ নেয়। প্রেমিক রিয়াজ তার শারীরিক সমস্যা ও ইজি বাইক চালানোর কথা লুকিয়ে ছিলো প্রেমিকা সুমির কাছে। সুমি এসব কিছু না জেনেই সরল বিশ্বাসে ভালবেসেছে রিয়াজকে। এভাবেই ৭/৮ মাস ধরে ফোনের মাধ্যমে চলতে থাকে তাদের প্রেম। গত ১৭ জুন সিদ্ধান্ত নেয় দুজনে বিয়ে করে ঘর বাঁধবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রেমিকা সুমি ও প্রেমিক রিয়াজ পরিকল্পনা করতে থাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুমি গত ২৪ জুন বুধবার সকালে কাউকে না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ছুটে যান প্রেমিক রিয়াজের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে প্রেমিককে দেখে সুমির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরলো। রিয়াজ যে প্রতিবন্ধী তা এই প্রথম দেখলো সুমি। এরপর জানতে পারল প্রেমিক কোনোরকম পড়াশোনা জানা একজন ইজিবাইক চালক। এসব দেখে সুমির মাথা ঘুরতে থাকে এবং সে সেখান থেকে বাড়ি চলে আসতে চাইলে রিয়াজ ও তার পরিবারের লোকজন সুমিকে আটকে রেখে জোর করে রিয়াজের সাথে বিবাহ দিতে চাপ সৃষ্টি করে ও ভয় ভীতি দেখায়। এদিকে সুমির পরিবার হন্নে হয়ে খুঁজে বেড়ায় মেয়েকে। কিন্তু কোথাও কোনো খোঁজ পায়না তারা। এরই মধ্যে ২৫ জুন বৃহস্পতিবার মঠবাড়িয়া থেকে প্রেমিক রিয়জের চাচা ইউপি সদস্য খলিল মীরের ফোন আসে তরুণীর বাড়িতে। খবরে পেয়ে শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খাঁন মহিউদ্দিন বিষয়টা নিয়ে কথা বলেন খোন্তাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম সরদার এর সাথে। তিনি বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বললে ২৬ জুন শুক্রবার সকালে ট্রলারযোগে স্থানীয় নেতা কর্মীদের নিয়ে তাইজুল ইসলাম মঠবাড়িয়ার আমতলা ছুটে যান। সেখানে গেলে ওই ছেলের পরিবার রিয়াজ ও সুমির বিবাহর প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামীলীগ নেতা তাইজুল নিজ ভূমিকায় সেখান থেকে সুমিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে এবং পরিবারের হাতে তুলে দেয়।

এ ব্যাপারে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাইজুল ইসলাম সরদার বলেন, অনেক খোঁজাখুজির পর ওই ছেলের বাড়ীতে। মেয়েটি শরণখোলার রায়েন্দা সরকারি কলেজে অনার্স পড়ে। তারা মেয়েটিকে আটকে রেখে ছেলে মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিল কিন্তু তা আমরা করতে দেইনি। মেয়েকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে তুলে দিয়েছি।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: