করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩৬৪,৬১১
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

ফ্রান্সে মহানবীর (সা.) ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে বিশ্ব আহমদিয়া খলিফার তীব্র নিন্দা

৭ নভেম্বর ২০২০, ৭:০৪:১৩

ফ্রান্সে মহানবীকে (সা.) কটাক্ষ করে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনী ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর ইসলামকে কটাক্ষ করার প্রতিবাদে নিখিলবিশ্ব আহমদিয়া মুসলিম জামাতের খলিফার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন এবং মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান।

বিশ্ব আহমদিয়া খলিফা ৬ নভেম্বর ২০২০ জুমার খুতবা প্রদানকালে ফ্রান্সে মহানবীকে (সা.) কটাক্ষ করে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনীর প্রতিবাদ এবং সাম্প্রতিককালের ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলেন, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ইসলামকে সংকটের ধর্ম বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদি সংকটের ধর্ম থেকেই থাকে তবে তা তাদের নিজেদের ধর্ম (খ্রিষ্ট ধর্ম)। এমনিতে তো তারা কোন ধর্ম মানে না। খ্রিষ্টধর্মও তারা ভুলে বসে আছে। সংকটে নিপতিত তো তাদের ধর্ম। ইসলাম আল্লাহতায়ালার কৃপায় জীবন্ত ধর্ম এবং ফুলে-ফলে সুশোভিত ধর্ম এবং তাতে ফুল এবং ফল ধরছে। আর আল্লাহতায়ালা প্রত্যেক যুগে তা সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। প্রকৃত বিষয় হল, ইসলাম বিরোধী অপশক্তি বা বিরোধী লোকেরা এমন কাজ এ কারণে করে, আর এমন বিবৃতি দেয়, কারণ তারা জানে, মুসলমানদের মাঝে একতা নেই।
আহমদিয়া খলিফা আরো বলেন, মুসলমাদের মাঝে একতা নেই যার ফলে এ সবকিছু ঘটছে। প্রত্যেক মুসলিম দেশ অন্য মুসলিম দেশের বিরোধী। মুসলমানদের বিভক্তি বিশ্বকে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মুসলমানদের মাঝে দলাদলি আছে। জগত যদি জানতো যে মুসলমানরা একতাবদ্ধ, এক খোদা ও এক রাসুলের অনুসারী এবং তার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত, তাহলে কখনো এমন কাজ তারা করতে পারত না। কোন পত্রিকা মহানবী (সা.)-এর ব্যাঙ্গ চিত্র আকার সাহস পেত না। কয়েক বছর পূর্বেও ডেনমার্ক এবং ফ্রান্সে যে কার্টুন ছেপেছিল সেসময়ও এর প্রতিবাদে রাজপথে চিৎকার চেচামেচি করা হয়েছিল আর তাদের জিনিস বয়কট করার তথা ক্রয় না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল এরপর তারা আবার চুপচাপ বসে থেকেছে। কিছুই হয় নি। কয়েক মাস পরেই নিশ্চুপ হয়ে গেছে। সে সময়ও আহমদীয়া মুসলিম জামাতই সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তাদের সামনে মহানবী (সা.)-এর অনিন্দ্য সুন্দর সীরাত (জীবন চরিত) উপস্থাপন করেছে। যা অনেক অমুসলিম, শিক্ষিত লোক, নেতারা এমনকি সাধারন জনগণ অনেক পছন্দ করে এবং প্রশংসা করে। আর সেই কাজই আজও আমরা করে চলেছি। আর আমরা বলি, গুটিকয়েক লোকের ইসলামের নামে অন্যায় কর্মকাণ্ডকে ইসলাম নাম দিও না। কোন দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাজ এটি নয় যে, কোন ব্যক্তির অন্যায় আচরণকে ইসলামের শিক্ষা আখ্যা দেয়া এবং ইসলাম ধর্মকে সংকটের ধর্ম বলে নিজ লোকদেরকে উত্তেজিত করা।
তিনি বলেন, আমি পূর্বেও বিবৃতি দিয়েছি যে, ব্যাঙ্গচিত্র বানানো এবং মহানবীর (সা.) অবমাননা, তা যেকোন ভাবেই করা হোক না কেন, কোন আত্মাভিমানী মুসলমান সেটি সহ্য করতে পারে না। আর অনেক মুসলমানের আত্মাভিমানকে তাদের এই কর্মকাণ্ড উত্তেজিত করতে পারে আর উত্তেজিত করেও বটে। আর এর ফলে যদি কারো দ্বারা বেআইনি কাজ সংঘটিত হয়ে যায়। কোন ব্যক্তি যদি আইন নিজ হাতে তুলে নেয়, তাহলে তার দায়ভার এইসব অমুসলিমদের ওপর বর্তায় বা এসব দেশের ওপর বর্তায়। অথবা নামসর্বস্ব স্বাধীনতা যাকে বাকস্বাধীনতা নাম দেয়া হয়ে থাকে। মোটকথা এইসব অমুসলিম বিশ্ব মুসলমানদের আবেগকে উস্কে দেয়। পূর্বে যখন এ বিষয়টি এসেছিল, তখনও আমি সুদীর্ঘ খুতবায় সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলাম যে, কীভাবে আমাদের সঠিক প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত আর কী করা উচিত।
আমরা যতদূর সম্ভব আইনের ভিতরে থেকে ইসলাম এবং মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা বিরোধী প্রত্যেক কাজের জবাব দিয়ে থাকি আর দিতে থাকবো। আর তা ফলপ্রসূও হয়। আর এই অবস্থা সাব্যস্ত করে, আইনের ভিতরে থেকে প্রত্যেক পদক্ষেপ নেয়া আবশ্যক। আর সবচেয়ে বড় কাজ হল, মহানবীর (সা.) প্রতি দরুদ প্রেরণ করা আবশ্যক। এক বা দুই বা চারজন ব্যক্তিকে হত্যা করে সাময়িক উত্তেজনা তো প্রশমিত হয়, কিন্তু এটি চূড়ান্ত সমাধান নয়। মুসলিম উম্মাহ যদি স্থায়ী সমাধান চায় তাহলে সমস্ত মুসলিম বিশ্ব এক হয়ে যাক। ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির প্রতিবাদে তুরষ্কের প্রধানমন্ত্রী বিবৃতি দিয়েছে। আরো দু’একটি দেশের প্রধান বিবৃতি দিয়েছে। এভাবে ততটা প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব না যতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে সমস্ত মুসলিম বিশ্বের একতাবদ্ধ প্রতিক্রিয়া।
আমি সংক্ষেপে কেবল এতটুকু বলতে চাই, দোয়া করুন, মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো অন্যদের সামনে যেন একতাবদ্ধভাবে আওয়াজ তোলে। এরপর দেখবেন, কী প্রভাব সৃষ্টি হয়। আমরা তো আমাদের কাজ করছি আর করতে থাকবো, ইনশাআল্লাহ। ইসলামের অনিন্দ্যসুন্দর শিক্ষা জগতে প্রচার করুন। মহানবী (সা.)-এর অতি চমৎকার চেহারা জগতের সম্মুখে উপস্থাপন করুন। আর ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিন্তে বসবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত পৃথিবীকে মহানবীর (সা.) পতাকাতলে না নিয়ে আসবেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: