করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৫৮৪ ◈ আজকে মৃত্যু : ১৬ ◈ মোট সুস্থ্য : ৪৭৫,০৭৪

বন কর্মকর্তার যোগশাজসে সুন্দরবনের কটকায় চলছে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার!

১১ জানুয়ারি ২০২১, ৭:২৫:৫০

মাসুম বিল্লাহঃ
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকার বিভিন্ন নদী ও খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার করার সুযোগ তৈরী করে দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার আবুল কালাম। এর আগেও জেলেদের মারধর, ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ওঠে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কালামের ব্যাপারে শাস্তিমুলক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তিনি এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সাধারণ মৎস্যজীবি ও জেলেদের অভিযোগ, মাছ শিকারের জন্য বরগুনার পাথরঘাটা ও বাগেরহাটের শরণখোলায় রয়েছে একটি শক্তিশালী চক্র। চক্রটি কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা আবুল কালামকে ম্যানেজ করে রাতের আধাঁরে অভয়ারণ্যের খাল ও নদী থেকে বিষ প্রয়োগ ও নিষিদ্ধ জাল ফেলে অবৈধ ভাবে অবাধে মাছ শিকার করেন। তবে, মাছ ধরা চক্রের মুল হোতা পাথরঘাটার পদ্মাসুলিজ এলাকার হালিম খাঁ, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার ইকড়ির জাকির তালুকদার, শরণখোলার কদমতলার এমাদুল শরীফ, বকুলতলার চান্দু ও লিটন মাতুব্বর সহ আরো বেশ কয়েক জন। এদের নিয়ন্ত্রনে থাকা শতাধিক জেলে নৌকা অভয়ারণ্য এলাকার কাদেরের খাল, বেতমোর, বন্দে আলীর খাল, হুমরার খাল, কস্তুরা, ডিমেরচর, পক্ষিদিয়ার চর, দুধমূখী, ঝাপা, কচিখালী ও কটকা নদী সহ আশে পাশের নদী ও খালে দিবা রাত্রি জাল পেতে ও কীটনাশক (বিষ) প্রয়োগে বিভিন্ন প্রজাতির লাখ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিচ্ছেন। এদের মধ্যে জাকির তালুকদার ও এমাদুল শরীফ বেতমোর, দুধমূখী নদী ও কটকা অফিসের সামনে, চান্দু কটকা জেটির সামনে ও টাওয়ারের খাল, হালিম খাঁ কটকা অফিস পার্শ্ববর্তী কাদেরের খাল, জামতলা সী-বীচ ও দুধমুখীর বালির খাল, এবং লিটন মাতুব্বর সিডাকটকা, কচিখালী সাপের খাল, অফিস খাল সহ আশেপাশের খালে মাছ ধরেন। এসব খালে সাধারণ জেলে ও বড়শির জেলেদের মাছ ধরতে দেওয়া হয়না। এছাড়া লিটন মাতুব্বর সুন্দরবনে জেলেদের মাঝে কীটনাশক সরবারহ করে মাছ ধরতে উৎসাহিত করে থাকেন। যার ফলে ইতি পুর্বে কয়েক মাস সুন্দরবনে মাছ ধরার জন্য পাশ দেয়া বন্ধ করেছিল বনবিভাগ কিন্তু একটি মহলের মদদে আবার লিটনকে মাছ ধরার সুযোগ দেয়া হয়েছে। মাছ ধরার জন্য জেলেরা সংশ্লিষ্ট এলাকার বিশেষ করে, কটকা, কচিখালী, চান্দেশ্বর টহল ফাঁড়ি ও সুপতি ফরেষ্ট ষ্টেশন অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে ঘোন (মৌসুম) হিসেবে চুক্তি করে। তারা প্রতি ৯ দিনে জেলে গ্রুপ প্রতি ৩০/৪০ হাজার টাকা করে কটকার বনরক্ষীদের অগ্রিম দিতে হয় বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন।

প্রতি মাসে ২ টি ঘোনে জেলেরা অভয়ারণ্যে কটকা (ওসির ) নেতৃত্বে ৬/৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়। তবে, এসব জেলেরা দিনের বেলায় সুন্দরবনের ছোট ছোট খালে নৌকা সহ নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং রাতের আধাঁর নামলেই নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরে খুব ভোরে আড়তে নিয়ে যায়। এসব মাছ প্রতিদিন ভোরে পাথরঘাটার পদ্মাসুলিজ বাজার ও বনসংলগ্ন শরণখোলা বাজারের মৎস্য আড়তে বিক্রি করে এবং পিকাপের মাধ্যমে খুলনা ও ঢাকায় পাঠানো হয়।
জেলেরা আরো জানায়, চিংড়ির জালে প্রতি ঘোনে একেকটি নৌকায় ৪০/৫০ মণ ছোট মাছ ধরা পড়ে যা তারা নদী ও সাগরে ফেলে দেয় এতে ধংস হচ্ছে সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ। কীটনাশক দিয়ে মাছ ধরার কারণে গত দুই ঘোনে চিংড়ি মাছ আগের মতো পাওয়া যাচ্ছেনা বলে সাধারণ জেলেরা জানায়।

সুন্দরবনের জীব বৈচিত্র সুরক্ষায় শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি, কচিখালী, ও কটকা এলাকাকে অভয়ারণ্য ঘোষনা করে সরকার। প্রায় ২১ বছর ধরে ওই অভয়ারণ্যে এলাকার সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরন নিষিদ্ধ করা হয়। কারন ওই এলাকার নদী ও খাল মৎস্য প্রজননের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা ফরেষ্টার মোঃ আবুল কালাম অভিযোগের বিষয়গুলো মিথ্যা বলে দাবী করেন।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, কটকা অভয়ারণ্যে মাছ ধরার খবর সঠিক নয়। তবে কিছু অসাধু লোক অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে অনেক সময় মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়।
সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, কটকা অভয়ারণ্যে মাছ ধরার খবর তার জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: