করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৫০০,৪৬৮

বন কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রজনন মৌসুমেও চলছে মা কাঁকড়া নিধন

১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৫:৩৯:১৭

মাসুম বিল্লাহ্ঃ
প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া আহরন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পুর্ব সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁকড়া আহরণ অব্যাহত রেখেছেন এক শ্রেনীর অসাধু জেলে চক্র। এক শ্রেনীর অসাধু বন কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশে মহাজন নামধারী অসাধু জেলে ও স্বার্থান্বেষী একাধিক মহলের ছত্রছায়ায় মা কাঁকড়া নিধনের কারনে প্রাকৃতিক এ সম্পদ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মৎস্য বিভাগ, বন-বিভাগ ও প্রশাসন সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এবং প্রজনন মৌসুমে এভাবে কাঁকড়া আহরণ অব্যহত থাকলে উৎপাদন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি গভীর সংকটের মুখে পড়বে প্রাকৃতিক এই সম্পদ।

অভিযোগ উঠেছে, শুটকি পল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ মৌসুমে রামপাল ও মোংলা এলাকার প্রায় অর্ধশত জেলেদের কাছ থেকে প্রতি গোনে (১৫দিনে) দুই হাজার টাকা করে উৎকোচ নিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা হতে কাঁকড়া আহরণে জেলেদের সহয়তা করছেন। এছাড়া পুর্ব সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জ কার্যালয়ের সম্মুখে স্থানীয় শরনখোলা বাজারে একাধিক ব্যবসায়ী প্রতি দিন সুন্দরবন থেকে আহরিত ৮/১০ মন কাঁকড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় চালান করে আসলেও বনরক্ষীরা দেখেও না দেখার ভান করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারী দুই মাস সুন্দরবনের নদ-নদী ও জলাভূমিতে বেড়ে ওঠা দেশের রপ্তানি পণ্য শিলা কাঁকড়া সহ সব ধরনের কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম। এ সময়ের মধ্যে মা কাঁকড়া ডিম দেয়। একারনে মা কাঁকড়া রক্ষার জন্যই প্রতি বছরের এই সময়ে সুন্দরবন থেকে জেলেদের কাঁকড়া আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সুন্দরবনের নদ-নদী ও জলাভূমিতে বেড়ে ওঠা সব ধরনের কাঁকড়া আহরণ ১ জানুয়ারী থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে বনবিভাগ।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁকড়া আহরণের সবচেয়ে বড় ভান্ডার সুন্দরবন। কাঁকড়া নদী বা খালে বেড়ে উঠলেও এর প্রজনন হয় সাগরের মোহনা বা গভীর সাগরে। তাই এই সময় মা কাঁকড়া ডিম দেয়ার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরের দিকে ছুটতে থাকে। প্রজনন মৌসুমে খালের পানি থেকে সাগরের পানি গরম এবং নদীর পানির থেকে সাগরের পানির লবনাক্ততা বেশি হবার কারণে নদী ও খাল থেকে কাঁকড়া সাগর মোহনায় ছুটতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কাঁকড়া সাগরে ছুটে যাওয়ার মুহূর্তে যাতে তাদের কেউ ধরতে না পারে সেজন্য কাঁকড়ার অভয়ারণ্য সুন্দরনের মা কাঁকড়া রক্ষায় প্রতি বছর এই নিষেধাজ্ঞা দেয় বন বিভাগ। এছাড়া মা কাঁকড়া যখন ডিম দেয় ওই মুহুর্তে তারা দুর্বল থাকে। তাদের সামনে যে কোন খাবার দেয়া হলে তা দ্রুত খাওয়ার জন্য এগিয়ে আসে। যার ফলে প্রজনন মৌমুমে খুব সহজেই জেলেরা কাঁকড়া শিকার করতে পারেন।

শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিঃ বিনয় কুমার রায় বলেন, প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা না গেলে উৎপাদন চরম ভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এ সম্পদ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা সহ প্রাকৃতিক এ সম্পদ রক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপ জরুরী।
জানতে চাইলে দুবলা ফাঁড়ির কর্মকর্তা প্রলাদ চন্দ্র রায় বলেন, সুন্দরবন জুড়ে কাকড়া আহরণের বিষয়টি সঠিক নয়। সে ক্ষেত্রে কাউকে কোন প্রকার সহয়তা করাও হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে পুর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডি.এফ.ও) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রজনন মৌসুমে কোন জেলেকে কাঁকড়া আহরনে অনুমতি দেয় না বনবিভাগ। কিছু অসাধু জেলে বেশি লাভের আশায় এমন কাজ করতে পারে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন খোঁজ-খবর নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: