fbpx
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

বাংলাদেশ নারী দলের ভারতীয় কোচরা পাকিস্তানে যাবেন না : রাজনৈতিক ইস্যু নাকি বিসিবির সিদ্ধান্ত?

৩ অক্টোবর ২০১৯, ৬:৩০:০৬

পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ও পাকিস্তানের নারী ক্রিকেট দলের মধ্যকার আসন্ন ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশ দলের সাথে থাকছেন না দলটির ভারতীয় কোচদের ইউনিট। নারী দলের কোচ অঞ্জু জৈন, সহকারী কোচ দেবিকা পাল শেখর ও ট্রেনার কবিতা পাণ্ডে এই পাকিস্তান সফরের অংশ হচ্ছেন না। তবে পাকিস্তানে সফরের বিষয়ে ভারতীয় এই তিনজন কোচ বোর্ডকে আলাদাভাবে কিছু জানায়নি বলে দাবি করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন।

নিজামুদ্দিন চৌধুরী বলছেন, ‘আসলে কোচরা অপারগতা প্রকাশ করেন নি। আমাদের দুইটা টিম একই সাথে যাচ্ছে একটা যাচ্ছে পাকিস্তান একটা শ্রীলঙ্কাতে। আমরা ভাগ করে দিয়েছি কে কোথায় যাবে। তবে হ্যাঁ, কিছু বিষয় তো অবশ্যই আছে।’ তবে সেই কিছু বিষয় নিয়ে মুখ খোলেননি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী।

কিন্তু পাকিস্তানের যে সফর সেখানে জাতীয় দল যাচ্ছে, আর শ্রীলঙ্কায় যাবে এমার্জিং দলের মোড়কে, অনূর্ধ্ব ২৩ নারী ক্রিকেট দল। তাহলে জাতীয় দলের কোচরা ইমার্জিং দলে যাবেন কেন? নিজামুদ্দিন যোগ করেন, ‘এখানে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের পাকিস্তান সফরের দলের সঙ্গে না পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কা পাঠানোর। ইমার্জিং ক্রিকেট দলও আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। মূলত আমরাই এই তিন ভারতীয় নারী কোচকে পাকিস্তান সফরে পাঠাচ্ছি না।’

জাতীয় দলের কোচ কেন অনূর্ধ্ব ২৩ দলে?
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নারী ক্রিকেট উইংয়ের প্রধান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল বলছেন, ‘নারী ক্রিকেট দলের কোচদের কোনো চাওয়া-পাওয়া ছিল না, এটা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিজ উদ্যোগে তাদের শ্রীলঙ্কা পাঠাচ্ছে। যেহেতু আন্তর্জাতিক একটি টুর্নামেন্ট হবে শ্রীলঙ্কায়, তাই আমরা তাদেরকে সেখানে দিচ্ছি। এটা আমাদের নারী উইং ও বোর্ডের সিদ্ধান্ত।’

জাতীয় দলের বদলে এমার্জিং দলের মোড়কে, অনূর্ধ্ব ২৩ নারী ক্রিকেট দলের সাথে প্রধান কোচরা যাচ্ছেন – এই ব্যাপারটা একটু ঘোলাটে নয় কি? শফিউল আলম বলেন, ‘নিশ্চয়ই এর পেছনে বিভিন্ন কারণ আছে, আমরা বোর্ড থেকেই এটা করেছি, ওনাদের এখানে কোনো বক্তব্য নেই। আমরা স্বীকার করি আর না করি কিছু সমস্যা তো আছেই। পরিস্থিতির কারণেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটা ততটা সহজ পরিস্থিতি না।’

নেপথ্যে ভারত-পাকিস্তান ইস্যু?
যেহেতু বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের তিনজন কোচই ভারতীয় নাগরিক, তাই পাকিস্তান সফরে কূটনৈতিক কিছু দিক আছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান রাজনৈতিক সংকটের মাঝে, কোনো ভারতীয় যদি পাকিস্তানে সফর করতে চায় সেক্ষেত্রে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রায়োজন হয়। তাই সেই জটিল প্রক্রিয়া এড়াতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অগাস্ট মাস থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েছে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা উঠিয়ে নেয়ার পর থেকেই দু দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পকে ফাটল দেখা গিয়েছে। ভারতের এনডিটিভি, দ্য হিন্দুর মতো গণমাধ্যমে বাংলাদেশের ভারতীয় কোচদের পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার খবর এভাবে এসেছে, কাশ্মীর ইস্যুতে চলমান দুদেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ভেতর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের নারী দলের সাথে পাকিস্তানে ভারতীয় কোচদের ইউনিটকে পাঠাচ্ছে না।

পাকিস্তান সফরে কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক কোচ দিপু রায় চৌধুরী। দলের ম্যানেজার হিসেবে থাকবেন সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম। সাথিরা জাকির জেসি পাঁচ বছর পর জাতীয় দলের সাথে যোগ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ভারতীয় কোচদের না থাকাটা ছন্দে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে দিপু রায় চৌধুরী নারী দলের সাথে আগে দীর্ঘদিন কাজ করেছে তাই এটা নতুন না।

সাথিরা জাকির বলেন, ‘যারা এখন কোচ বিশেষ করে দিপু রায় চৌধুরী, তিনি বহু বছর নারী দলের কোচ ছিলেন, ওনার জন্য বা ক্রিকেটারদের জন্য এটা নতুন কিছু নয়। যেহেতু ওনারা ইন্ডিয়ান পাকিস্তানের ভিসা নিয়ে কিছু জটিলতা থাকতে পারে, তাই আমরা দিপু স্যারের ওপর নির্ভর করছি। আশা করছি এটা পুষিয়ে নেয়া যাবে,’ বলছিলেন সিনিয়র ক্রিকেটার জেসি।

পাকিস্তান সফরে তিনটি টি-য়েন্টি এবং দুইটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। পাঁচটি ম্যাচই লাহোর গাদ্দাফী স্টেডিয়ামে হবে। আগামী ২৬শে অক্টোবর থেকে সিরিজ শুরু হবে। সফরে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে আইসিসির নজরদারি থাকবে জানিয়ে জাভেদ ওমর বলেন, ‘পাকিস্তানে দীর্ঘদিন খেলা বন্ধ। এখন শ্রীলঙ্কা গিয়েছে। ‘তাই আমাদেরও রাজি হওয়া। আইসিসিও বিষয়টা নজরে রাখবে।’

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: