করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ১,৪৮৮ ◈ আজকে মৃত্যু : ২৬ ◈ মোট সুস্থ্য : ২৭৩,৬৯৮
প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

বাবরি মসজিদের বিকল্প জায়গায় প্রথমে হাসপাতাল পরে মসজিদ নির্মাণ

৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১:২২:৪৩

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের বিকল্প হিসাবে যে পাঁচ একর জমি দেওয়া হয়। এখন সেই জমিতে মসজিদেরও আগে একটি হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই ট্রাস্টের ওপরে ওই জমিতে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নতুন জায়গাটি বাবরি মসজিদ – রাম মন্দির থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে, ধন্নিপুর গ্রামের একটি সরকারি কৃষি ফার্মে। সেখানে এখনও কৃষিকাজ চলছে, একটি দরগাও রয়েছে।

নতুন পরিসরে মসজিদ যেমন থাকবে, তেমনই তৈরি হবে হাসপাতাল, যৌথ রান্নাঘর এবং ভারতীয়-ইসলামিক গবেষণা কেন্দ্র। ওই ট্রাস্টের সচিব আতহার হুসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, “নতুন এই পরিসরটিকে বাবরি মসজিদ বলা হবে না। এর নাম হবে ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট কমপ্লেক্স। ওখানে একটি মসজিদ থাকবে ঠিকই, কিন্তু হাসপাতাল, যৌথ রান্নাঘর, একটি ইন্দো-ইসলামিক গবেষণাকেন্দ্র এবং একটি সংগ্রহশালাও থাকবে। ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইসলামিক সংস্কৃতির মিলন, ভারতীয় সমাজের ওপরে তার প্রভাব – এসব নিয়েই গবেষণা হবে সেখানে,”

মাত্র দুদিন আগেই তারা এই প্রকল্পের স্থপতি হিসাবে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার স্থাপত্য বিভাগের ডিন অধ্যাপক এস এম আখতারকে বেছে নিয়েছেন। আখতার বলেছেন যে নতুন এই পরিসরটি একেবারেই পুরোনো বাবরি মসজিদের মতো দেখতে হবে না। আধুনিক ভবন তৈরি হবে সেখানে।

এস এম আখতার বলেন, “স্থাপত্য বিদ্যায় কোনও কিছুই হুবহু নকল হয় না, সবসময়েই নতুন কিছু সৃষ্টি হয়। যা কিছু পুরোনো, তা পুরাতত্বের বিষয় আর আমরা যখন কিছু বানাই, সেটা হয় নতুন সৃষ্টি,”

তিনি আরও বলেন, “তিন গম্বুজওয়ালা যে বাবরি মসজিদের ছবি মানুষের মনে গেঁথে আছে, সেটার মতো কখনই হবে না নতুন জায়গাটি। পুরোনো বাবরি মসজিদের নকল যেমন হবে না, তেমনই মানবিকতা, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ইসলামের মূল চিন্তা – তিনটি বিষয়ই একত্রিত হবে নতুন পরিসরের নকশায়,”

ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের সচিব আতহার হুসেন বলছিলেন, তারা চাইছেন করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে অযোধ্যা ফৈজাবাদের মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে প্রথমে হাসপাতাল ভবনটি তৈরি করতে।

তিনি বলেন, “সবকটি ভবন তৈরির কাজ একই সঙ্গে চলবে, কিন্তু প্রথমেই হাসপাতালটি চালু করার ইচ্ছা আছে। মহামারির সময়ে হাসপাতালে শয্যার অভাবে কীভাবে মানুষ মারা যাচ্ছেন, সবাই দেখছে। অন্তত একটা জেলার মানুষকে তো বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাবে হাসপাতালটি চালু হয়ে গেলে!”

ট্রাস্টের সচিব আতহার হুসেন এবং স্থপতি এস এম আখতার দুজনেই বলেছেন যে নতুন পরিসরটিকে তারা একটি ল্যান্ডমার্ক হিসাবে তৈরি করতে চান, যা ভবিষ্যতের আইকন হয়ে উঠবে।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: