প্রচ্ছদ / শিক্ষা / বিস্তারিত

ফাহাদ হোসেন হৃদয়

নোবিপ্রবিতে প্রতিনিধি ঃ

বিএনসিসি এর ৪১ তম প্রতিষ্ঠা দিবস

২৩ মার্চ ২০২০, ১০:৫০:৪২

মোঃ ফাহাদ হোসেন হৃদয় নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

আজ ২৩ মার্চ বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ( বিএনসিসি) দিবস। ২৩ ই মার্চ ১৯৭৯ সালে তৎকালীন সরকার একটি সরকারি আদেশে তৎকালীন বাংলাদেশ ক্যাডেট কোর (বিসিসি) ,ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ট্রেনিং কোর ( ইউওটিসি) ও জুনিয়র ক্যাডেট কোর ( জেসিসি) কে সংগঠিত করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর ( বিএনসিসি) গঠন করে।

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্হায় সহায়ক শক্তি হিসেবে তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ, বহিঃশক্তির আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য দ্বিতীয় সারির প্রতিরোধ বাহিনী গঠন, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ,দেশসেবা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবেলা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক তৈরীই ছিলো বিএনসিসি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

বিএনসিসি গঠনের ইতিহাস ব্রিটিশ শাসনামলের সাথে জড়িত । ১৯২০ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতবর্ষের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠন করে ” ইউনিভার্সিটি কোর “। যা পরবর্তীতে ” ইউনিভার্সিটি ট্রেনিং কোর ” ( ইউটিসি) হিসেবে পরিচিত হয়।১৯২৭ সালে ১০০জন শিক্ষার্থী ও ১৬ জন শিক্ষককে ইউটিসির তত্বাবধানে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় । ১৯২৮ সালের জুন মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ইউটিসি তার শাখা প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৪৩ সালে ইউটিসি থেকে ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ট্রেনিং কোর ( ইউওটিসি) নামকরণ করা হয়।

১৯৫০ সালে এটি ব্যাটেলিয়ন পর্যায়ে উন্নত হয়। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সরকার ইউওটিসির সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তীব্র ছাত্র আন্দোলনের চাপে ১৯৬৬ সালে আবার পাকিস্তান ক্যাডেট কোর ( পিসিসি) ও জেসিসি নামে পূর্ণরায় কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন পিটিসি ও জেসিসি এর ক্যাডেটরা অসীম দেশপ্রেমে অংশ গ্রহণ করে।মুক্তিযুদ্ধে ২২ জন ক্যাডেট শাহাদাত বরণ করেন।

স্বাধীনতার পরে কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য বিসিসি, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য জেসিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ট্রেনিং কোর ( ইউওটিসি) নামে কার্যক্রম শুরু করে। ২০১৬ সালে বিএনসিসি আইন -২০১৬ অনুসারে বিএনসিসি কে একটি রক্ষিত আধা সামরিক বাহিনী হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়।

বিএনসিসি এর মূলমন্ত্র হচ্ছে ; জ্ঞান, শৃঙ্খলা, স্বেচ্ছাসেবী । প্রতিষ্ঠার পর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদেরকে দেশপ্রেমের চেতনায় বিশ্বাসী করে সামরিক ও কারিগরি ও সহ- শিক্ষামূলক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বর্তমানে বিএনসিসি ৩ টি শাখা, যথাক্রমে সেনা, নৌ ও বিমান মাধ্যমে দেশজুড়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিএনসিসি মূলত ২ টি ডিভিশনে বিভক্ত। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র ডিভিশন এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সিনিয়র ডিভিশন।

এদিকে বিএনসিস দিবস উপলক্ষ্যে নোবিপ্রবি বিএনসিসি দিবস উদযাপনের জন্য কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছিল। কিন্তু দেশব্যাপী করোনা ভাইরাস এর সর্তকতার অংশ হিসেবে এবার তারা কোন আয়োজন করছে না। নোবিপ্রবি বিএনসিসির আন্ডার ক্যাডেট অফিসার মোঃ জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করছেন।

উল্লেখ্য, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) বিএনসিসি শাখা ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিএনসিসি এর ময়নামতি রেজিমেন্টের অধীনে ২ টি প্লাটুন নিয়ে নোবিপ্রবি বিএনসিসি তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: