করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ১১,৫৯০

বিশ্বম্ভরপুরে উপজেলা ঠেকানো যাচ্ছে না পোনামাছ নিধন

৭ মে ২০২০, ৪:৪৭:৩৫

তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ থেকে
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে- হাওরে চলছে অবাধে পোনা মাছ নিধন। উপজেলার ,খরচা, আঙ্গারুলি, শনি হাওর সহ ছোট-বড় হাওর জলাশয় ও নদী নালার পানিতে পোনা মাছ নিধন করছে এক শ্রেণীর অসাধু মৎস্য আহরানকারীরা। নিধনকৃত পোনা মাছের মধ্যে রয়েছে টাকি, সোল, গজার ও ঘনিয়া, লাছ মাছের পোনা।
মশারীর জাল দিয়ে ঠেলা জালি বানিয়ে নিধন করছে টাকি, সোল ও গজারের পোনা অপর দিকে কারেন্ট জাল ও কোনাজাল দিয়ে নিধন করছে ঘনিয়া ও লাছ মাছের পোনা।
আর প্রতিদিনই এ সমস্ত নিধন কৃত পোনা মাছ দেধারছে বিক্রি হচ্ছে উপজেলার বিভন্নি হাট বাজারে। প্রতি কেজি টাকি কিংবা সোল মাছের পোনা বিক্রি হচ্ছে ২শ থেকে ৩শ টাকা আর প্রতি কেজি ঘনিয়া কিংবা লাছ মাছের পোনা বিক্রি হচ্ছে দু থেকে আড়াইশ টাকা।
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের ধারনা বৈশাখ জৈষ্ঠ্য মাসে এ সমস্ত পোনা মাছ নিধন রোধ করা গেলে বর্ষাকালে হাওরে আর মাছের অভাব হত না।

এ ব্যাপারে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা উনার সামাজি মাধ্যম পেইজবুকে লিখেছেন,সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে এখন দেদারছে মাছের পোনা মারা হচ্ছে, বাজারে বিক্রি হচ্ছে, খাওয়া হচ্ছে। এক কামড়ে খাওয়া যায় দশ পনের টা পোনা। একবার ভেবে দেখেছেন, এই এক কামড়ে যে পনের টা পোনা খাওয়া হল সেগুলো বড় হলে কত জন মানুষের কত বেলার খাবার হত!!
এইসব কারণে হাওরাঞ্চলে মাছের আকাল থাকে, এতে হাওরে জীব বৈচিত্র্য ও নষ্ট হচ্ছে।
এখন হাওর অঞ্চলের বাজারগুলো বছরের বেশির ভাগ সময়ই থাকে পাঙ্গাস মাছের দখলে। তারপরও হাওরবাসী মৎস সম্পদ সংরক্ষণে কতটা আন্তরিক?
সবার চোখের সামনেই পোনা নিধন উৎসব চললেও এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অবিলম্বে হাওরে পোনা নিধন বন্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, দায়িত্ব রয়েছে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ও। আসুন নিজের প্রয়োজনেই পোনা নিধন বন্ধ করি , অন্যকে ও নিষেধ করি।উনি আর লিখেন

করোনা পরিস্থিতে একটি অর্থনৈতিক মহামন্দা হতে পারে এই আভাস সকল অর্থনীতিবিদই দিচ্ছেন। এই মহামন্দা থেকে মুক্তির জন্য অনেকেই কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।তার পাশাপাশি একটু মনোযোগ দিলে হাওরে মাছের উৎপাদন একশো গুণ বাড়ানো সম্ভব। কথার কথা নয়। এটাই বাস্তবতা। যদি তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ রেখে জেলেদের প্রণোদনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি কঠোর মনিটরিং করা হয়। হু করে মাছের ফলন বাড়বে। এতে দেশের জিডিপি বৃদ্ধি হত। আমরা মন্দার প্রভাব থেকে বাঁচতে পারতাম। মাছ রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারতাম।
সেজন্য দরকার একটু বাড়তি মনোযোগ। দরকার সুষ্ঠু তদারকি ও একটি জুতসই পরিকল্পনা। আমরা কি তা পারব না?
এ ব্যাপারে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও উনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভার হয়নি।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: