fbpx
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

বিয়ের প্রলোভনে দৈহিক সম্পর্ক, কিশোরী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা

২০ আগস্ট ২০১৯, ৮:৩৭:৪২

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কাজের মেয়েকে ৭-৮ মাস যাবত মানসিক, শারীরিক নির্যাতন ও একাধিকবার শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে টানা ধর্ষণের ফলে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীটিকে (১৭) হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত উরুস আলী ছেলে হুমায়ূন মিয়া সিলেট উপশহর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। প্রায় ৮ মাস পূর্বে হুমায়ূন মিয়া নিজ গ্রামের পার্শবর্তী মিছকিনপুর এলাকার জনৈক কিশোরীকে তার বাসায় গৃহকর্মীর কাজের জন্য নিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে মেয়েটির সাথে প্রেমের অভিনয় করে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন হুমায়ূন। কয়েক মাসে একাধিক বার ধর্ষণে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে মেয়েটি বিয়ের জন্য একাধিকবার হুমায়ূনকে চাপ দেয়। এতে হুমায়ূন গর্ভ নষ্ট করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু মেয়েটি গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে অনিহা প্রকাশ করলে তার ওপর অমানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

গত শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে মেয়েটি আবারো বিয়ের জন্য হুমায়ুনকে চাপ দিলে তিনি তার শয়ন কক্ষে মেয়েটিকে বেঁধে মারপিট করেন। মারপিটের এক পর্যায়ে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে রবিবার (১৮আগস্ট) সকালে তাকে নবীগঞ্জ উপজেলার বিবিয়ানা বিদ্যুৎ পাওয়ার প্ল্যান্টের রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান হুমায়ূন মিয়া।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে সোমবার সকালে তাকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়েটিকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কিশোরী মেয়েটি বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কিশোরী গৃহকর্মীর মা বলেন, আমাদের দারিদ্রতার সুযোগে হুমায়ূন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ দাখিল করলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: