করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ১৫০,৪৩৭
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

বীরগঞ্জে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিবেদিতপ্রাণ ইউএনও মো. ইয়ামিন হোসেন

১৫ এপ্রিল ২০২০, ৪:৪৩:৩৩

প্রদীপ রায় জিতু, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতাঃ বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নেওয়া মরনঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.ইয়ামিন হোসেন দায়িত্বশীল কর্মতৎপরতায় উপজেলার সর্বমহলে প্রশংসিত হয়ে উঠেছেন। এ ভাইরাস সংক্রমন রোধ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্যের কৃত্রিম সংকট ও উর্দ্ধগতি নিয়ন্ত্রণে বিগত ৩ সপ্তাহ ধরে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান অব্যাহত রেখেছেন নিবেদিত প্রাণ এ ইউএনও।

জানা গেছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি আতংকে পরিনত হওয়ার সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়ামিন হোসেন পৌরসভা সহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সকল হাট-বাজার, গ্রামীন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বিভিন্ন সড়ক-উপসড়কে মাইকিং করে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার শুরু করেন। এছাড়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং হোম কোয়ারেন্টাইন আইন অমান্যকারী বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের জরিমানা এবং সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ১৯ মার্চ থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে এ দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিকারি দোকানদার, কোচিং সেন্টারের মালিক ও বিদেশ ফেরত বক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইন আইন না মানার অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অর্থদন্ডে দন্ডিত করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.ইয়ামিন হোসেন। এ সময় তিনি বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের যত্রতত্র ঘোরাফেরা না করে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেন এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি না করার কঠোর নিদের্শনা দেন। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ইউএনও মো.ইয়ামিন হোসেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের সব কটিতেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। উপজেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আড্ডা-জমায়েত বন্ধে প্রচারনা চালান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ জানান, বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়ামিন হোসেন অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন কর্মকর্তা। তিনি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর নিচ্ছেন এবং উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালনসহ উপজেলার প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছেন। একাধিক জনপ্রতিনিধিরা জানান, ইউএনও মো.ইয়ামিন হোসেন বীরগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে রাত-দিন বীরগঞ্জবাসীর জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এমন নিষ্ঠাবান-কর্মঠ ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন ইউএনও অতীতে খুব কম পেয়েছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় তিনি বীরগঞ্জে যে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তাও নজিরবিহীন। তাঁর কর্মকান্ডে মনে হচ্ছে তিনি কেবল ইউএনও নন, বীরগঞ্জ উপজেলার একজন সচেতন অভিভাবকও। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলো। প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে জনসচেতনতা মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। সেক্ষেত্রে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.ইয়ামিন হোসেন একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। বীরগঞ্জ উপজেলার জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে এবং করোনা ভাইরাস বিস্তাররোধে তিনি নানামুখী কর্মকান্ড শুরু থেকে প্রতিনিয়ত অব্যাহত রেখেছেন। তিনি দিবারাত্রি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। ইউএনও কে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এখনো বীরগঞ্জ উপজেলাকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসামান্য অবদান রেখে যাচ্ছেন তিনি।

বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, বীরগঞ্জে যোগদানের পর থেকে প্রজাতন্ত্রের একজন সেবক হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছি মাত্র। করোনা পরিস্থিতিতেও সরকারি নির্দেশনা মতে কাজ করে যাচ্ছি। সারাদেশের ইউএনও-এসিল্যান্ডসহ সরকারি কর্মকর্তারা যেভাবে কাজ করছে আমিও সেভাবে কাজ করছি। চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অনেক জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ও সাংবাদিকসহ অনেকে সার্বিক সহাযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ইউএনও আরো বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষ আতংকিত। বীরগঞ্জ পৌরসভা সহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ভ্যান চালক, রিক্সা চালক, শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ, ভিক্ষুক, অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়িদের মাঝে ত্রান সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছি। সংকটময় এ মুহুর্তে তাদের সাহায্যে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসা দরকার। তিনি করোনা সংক্রমন রোধে সবাইকে বাড়িতে অবস্থান করারও অনুরোধ জানান। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন গত ১২ এপ্রিল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শেষ পৃষ্ঠায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কতৃক রাত ৩ টার সময় এক মুদি দোকানদারকে বাড়িতে গিয়ে অপদস্ত করা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যা মিথ্যা বানোয়াট ও কাল্পনিক সংবাদ মাত্র। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেয়ে এবং এলাকায় অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরীর উদ্দেশ্যে মহলটি গুজব ছড়াচ্ছেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: