করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ০

বীরগঞ্জে প্রচন্ড শীতেও থেমে নেই বোরো ধান চাষাবাদ

১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৫:২৭:৫২

প্রদীপ রায় জিতু, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ আগে মাঠের পর মাঠ হাজার হাজার একর জমি অনাবাদি হিসেবে পড়ে থাকতো, কিন্তু বর্তমানে সরকারি ভাবে বিনামূল্যে সার, বীজসহ নানান সুযোগ সুবিধা ও বিভিন্ন প্রজাতির ধান বীজ বাজারে আসার কারণে প্রচ- শীত উপেক্ষা করে বোরো ধান রোপন কাজে ব্যস্ত সময় পর করছেন কৃষক। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও নিজপাড়া, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর, শিবরামপুর, মোহাম্মদপুর, ভোগনগর, সাতোর, মোহনপুর ও মরিচাসহ ১১টি ইউনিয়নের কৃষকরা আমন ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় বোরো ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উত্তরাঞ্চলের ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া, কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোরো চারা রোপনে মেতে উঠেছেন তারা। সোমবার পৌর এলাকা ও উপজেলার প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প, সৌর সোলার পাম্প, ডিজেল চালিত ইঞ্জিন (শ্যালো মেশিন) দিয়ে সেচ সরবরাহের মাধ্যমে জমিতে কৃষক-কৃষাণীরা জমিতে হালচাষ, মই টেনে জমি সমান করা, সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন, আবার অনেকে অধিক শ্রমিক নিয়ে দ্রুত বোরোর চারা রোপণ কাজ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উচ্চ ফলনশীল আটাশ, ব্রি-ধান-২৯, ব্রি-ধান-৫৮, ব্রি-ধান-৭৪, ছাড়াও বিভিন্ন হাইব্রিড জাতসহ স্থানীয় জাতের ধানের চারা রোপন করছেন তারা। বীরগঞ্জ উপজেলার সুজালপুর বোয়ালমারী গ্রামের কৃষক সতীশ রায় জানান, আমি একজন বর্গা চাষি, এবার ১ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করছি। অধিকাংশ জমিতে বোরো ধান রোপন প্রায় শেষ পর্যায়ে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছেন। বোরো চাষিরা যেন সঠিক ভাবে ফসল চাষাবাদ ও পরিচর্যা করতে পারে সে দিকে লক্ষ রেখে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি অফিসারগন মাঠে গিয়ে সার্বিক পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া অধিকাংশ কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার শীতে বীজতলার তেমন কোন ক্ষতি না হওয়ায় সংকট এড়িয়ে স্বস্তিতে চারা রোপণ করতে পারছেন।এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু রেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ১শত ২০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্বল্প সময়ে কৃষকরা জমিতে চাষাবাদ করছেন। এ বছর আবহওয়া আনুকুলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন ও ন্যায্য মূল্য পেলে এ এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে আমূল পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা যায়।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: