fbpx
প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

বৃষ্টি মাথায় সারা দিন তিশা–রোহানের দৌড়ঝাঁপ

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২০:৪৫

শুক্রবার সারা দিনই কমবেশি বৃষ্টি ঝরেছে। সকালে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় তখন ঝুমবৃষ্টি। এর মধ্যেই বলাকা সিনেমা হলে হাজির অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা ও নবীন চিত্রনায়ক ইয়াশ রোহান। মুহূর্তেই বদলে গেল সেখানকার পরিবেশ। দর্শক সঙ্গে নিয়ে তিশা–রোহান দেখলেন আজই মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ‘মায়াবতী’।

আজ শুক্রবার সারা দেশের ২২টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মায়াবতী’। ছোট পর্দায় সুপরিচিত নির্মাতা অরুণ চৌধুরীর পরিচালনায় এ ছবিতে জুটি হয়েছেন তিশা ও রোহান। চলচ্চিত্রের মন্দা বাজারে আজ মুক্তির প্রথম দিনে আশার আলো দেখাচ্ছে। নতুন ছবি প্রচারের উদ্দেশ্যে দর্শকদের উৎসাহ দিতে শুক্রবার সারা দিন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রেক্ষাগৃহে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিশা, রোহানসহ চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টরা। দিন শেষে ভালো সাড়াও মিলেছে।

সকালে বলাকা সিনেমা হলে গিয়েছিলেন তিশা। দর্শকের পাশে বসে ছবিটি দেখেন তিনি। এরপর দলবল নিয়ে তিনি বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্স, সীমান্ত স্কয়ার সিনেপ্লেক্স, শ্যামলী সিনেপ্লেক্সে। মাঝে আরেকবার বলাকা সিনেমা হলে ঢুঁ মারেন। সন্ধ্যায় চলে যান মধুমিতা সিনেমা হলে। এখানে ছিল রীতিমতো উপচে পড়া ভিড়।

সারা দিন ঘুরে দর্শকের সাড়া দেখে উৎফুল্ল তিশা। তিনি বলেন, ‘দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখতে হবে, তাঁরা যদি সিনেমা বাঁচাতে চান। কারণ, সিনেমা বানানোই হয় দর্শকদের জন্য। প্রথমত প্রেক্ষাগৃহে এসে দর্শকদের সিনেমা দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, “মায়াবতী” দেখতে হবে, কারণ সিনেমাটি দেখা উচিত। এটি দর্শকদের জন্য এবং তাঁরা সিনেমাটিতে নিজেদের খুঁজে পাবেন, মেসেজসহ সুন্দর একটি গল্পও দেখতে পাবেন। দর্শকদের বলতে চাই, তাঁরা যেন সিনেমা দেখেন, তাঁদের মন্তব্য জানান এবং সাপোর্ট করেন।’ তিশা জানান, শনিবার তিনি এবং ‘মায়াবতী’ চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্টরা চট্টগ্রাম যাবেন। সেখানে দর্শকের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন। তিশা বলেন, ‘মায়াবতী’র গল্প মায়া দিয়ে ঘেরা। ‘না মানে না’, প্রত্যেক মানুষের না বলার অধিকার আছে এবং সেই ‘না’কে সবার সম্মান করা উচিত। এই মেসেজটার ওপর ভিত্তি করেই মূলত ‘মায়াবতী’ নির্মাণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সিনেমাটিতে গান, নাচ, ভালোবাসা এবং সংঘাতও দর্শক দেখতে পাবেন। ‘আমি চাই দর্শকেরা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখুন। তাহলেই সিনেমাটি সম্পর্কে বুঝতে পারবেন,’ বলেন তিশা।

আনোয়ার আজাদ ফিল্মস ও অনন্য সৃষ্টি অডিও ভিশন প্রযোজিত ‘মায়াবতী’তে তিশা, রোহান ছাড়াও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, রাইসুল ইসলাম আসাদ, দিলারা জামান, মামুনুর রশীদ, নরেশ ভুঁইয়া, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আফরোজা বানু, অরুণা বিশ্বাস, আবদুল্লাহ রানা, তানভীর হোসেন প্রবাল, আগুন, মীমসহ অনেকে।

২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ব্যাপ্তির এ ছবির গল্প গড়ে উঠেছে নারী পাচারকে ঘিরে। সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা চিত্রায়িত হয়েছে এ চলচ্চিত্রে। নিটোল প্রেমের গল্পের পাশাপাশি পরিচালক অরুণ চৌধুরী এতে সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, মায়া নামের এক কিশোরী ছোটবেলায় তার মায়ের কাছ থেকে চুরি হয়ে যায়। পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে সে। তাকে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে বিক্রি করা হয়। সেখানে মায়াকে ধীরে ধীরে গড়ে তোলে গানের গুরু খোদা বক্স। ওদিকে মায়ার গানের প্রেমে পড়ে একজন ব্যারিস্টার। একসময় ভয়ংকর খুনের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে মেয়েটি। শুরু হয় নতুন গল্প। নতুন সংগ্রাম।
গল্পের প্রতি বিশ্বস্ততার কারণে দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে শুটিং করেছেন এ ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: