লোকমান হোসেন রানা

নিজস্ব প্রতিনিধি (যশোর)

বেনাপোল বন্দরে যানজটই বড় বাধা,কমে যাচ্ছে আমদানি-রপ্তানি

৯ নভেম্বর ২০১৮, ১০:০৬:২২

মোঃলোকমান হোসেন(রানা),নিজস্ব প্রতিনিধি:-
অনেক দিন পরে দেশের বৃহত্তম স্থল বন্দর বেনাপোলকে যানজট মুক্ত দেখা যাচ্ছে বেনাপোল স্থলবন্দরের ভেতর দিয়ে যাওয়া এই মেইন সড়কটি। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশ গঠিত পরামর্শক কমিটির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের বৈঠকের পরপরেই । বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় যানজট মুক্ত অভিযান।বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকা থেকে প্রাইভেট কার, ইজিবাইক ও অবৈধ যানবাহনের স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হয়। বেনাপোল কাস্টমস সহকারী কমিশনার মাসুদ, পুলিশ, বিজিবি , আনসার, সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশন, ট্রাক মালিক সমিতি, ট্রাক ও ইজি বাইক শ্রমিক ইউনিয়ন উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয়।এসব অবৈধ যানবাহন স্ট্যান্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দু’দেশের মধ্যে ব্যাহত হচ্ছিল আমদানি- রপ্তানি বানিজ্য।বেনাপোল বন্দর দিয়ে ইতিপূর্বে ৫’শ ট্রাক মালামাল আমদানি হতো ভারত থেকে। বর্তমান আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩’শ ট্রাক। যদিও বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে রেডিমেন্ট গার্মেন্টস সহ দ্বিগুন পরিমান পণ্য রপ্তানি হচ্ছে ভারতে। গত মাসের শেষের দিকে ভারতের দিল্লীতে অনুষ্ঠিত ভারত বাংলাদেশ জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস এর মিটিং এ বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুদেশের মধ্যে আমাদনি- রপ্তানি কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকায় অবৈধ প্রাইভেট কার স্ট্যান্ড,ইজিবাইক স্ট্যান্ড থাকায় ভারত থেকে আসা পন্য বোঝাই ট্রাক ঘন্টার পর ঘন্টা আটক থাকতো এখানে। ফলেই ক্রমেই কমে আসতে থাকে আমদানি বোঝাই ট্রাকের সংখ্যা। আজ সকালে বন্দরের সামনের সড়ক থেকে ট্রাক চেসিস সরিয়ে বন্দরের অভ্যন্তরে নতুন ট্রাক টার্মিনালে নেয়া হলে সড়ক যানজট মুক্ত হয়।ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি।তাদের মতে বন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণেই বেনাপোল এই পণ্য ও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল বন্দর এলাকায় যানজটের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে দেখা দেয় হতাশা।কলকাতা থেকে বেনাপোল বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার এবং সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের আমদানিকৃত পণ্যের সিংহভাগ আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। স্বল্প সময় এবং কম খরচে আমদানিকৃত পণ্য দেশে আনতে পারায় এ বন্দরটি খুব দ্রুতই ব্যবসায়ীদের পছন্দের বন্দরে পরিণত হয়। স্থান সংকটের কারনে পণ্যজটে আক্রান্ত হতে থাকে বেনাপোল বন্দর।বিপাকে পড়েন বন্দর কর্তৃপক্ষ।আর পণ্যজটের সাথে সাথে বন্দর এলাকায় বাড়তে থাকে যানজটও। বেনাপোল বন্দরের দেড় কিলোমিটার এবং ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে চাকদা রোডের ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত আমদানিকৃত পণ্যবাহি ট্রাকের জট লেগেই আছে এখনও।ঘন্টার পর ঘন্টা আটকা পড়ে থাকে শত শত ট্রাক। ভারতের রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্য বোঝাই ট্রাক ছাড়ার পরে পেট্রাপোল বন্দরে আসার থেকেই বাংলাদেশি আমদানিকারকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ডেমারেজ বাবদ ট্রাক প্রতি দুই হাজার রুপি করে নিতে থাকেন। এমন ডেমারেজ দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ দিন। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এসব সমস্যা নিরসনে কলকাতা কাষ্টমস হাউজ এজেন্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পত্র দেন কলকাতা বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনারকে। চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয় চেকপোস্ট যানজট সমস্যা সমাধানের।বেনাপোল সি এন্ড এফ এজেন্ট এসোসিয়েশন বেনাপোল বন্দর এলাকায় যানজট দূর করতে এবং ভারতে যাতায়াতকারী দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়কে ২টি বাইপাশ সড়ক নির্মাণের জন্য পত্র দিয়ে সংশি­ষ্ট মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।মন্ত্রী সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে জরুরীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। তার পরেও নিরসন হয়নি বন্দরে যানজট।প্রসঙ্গত, ভারতের পেট্রাপোল বন্দর আধুনিক চেকপোষ্ট এবং বেনাপোল বন্দরে নবনির্মিত প্যাসেঞ্জার উদ্বোধনের ভিডিও কনফারন্সের সময় ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দু-দেশের বন্দর উন্নয়নের জন্য একমত প্রকাশ করেন। সে সময় বেনাপোল সি এন্ড এফ এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, বেনাপোল বন্দরের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।ভয়াবহ স্থান সংকট দেখা দেয়ায় ভারত থেকে আমদানি করা শত শত ট্রাক ও বাস চেসিস বন্দরের প্রাধন সড়কে জটলা বেধে পড়ে থাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ যানজট। গত দু মাস ধরে বন্দরের সামনের একটি সড়ক ট্রাক চেসিস’র দখলে থাকে। বারবার বন্দর কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয়া সত্বেও কোন ফল হয়নি। যদিও বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার প্রতিবছর ৭ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে।বন্দরে তেমন একটা উণ্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে ব্যসায়ীদের অভিযোগ। যানজট নিরিসনের পরপরই আমদানিকৃত ভারতীয় ট্রাক গুলি খুব দ্রুতই বন্দরের টার্মিনালে সরাসরি ঢুকে পড়ছে।বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, দু’দেশের জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস এর মিটিং এ বেনাপোল চেকপোস্টকে যানজট মুক্ত করার আহবান জানানো হয় ভারতীয় কাস্টমস এর পক্ষ থেকে। যানজটের কারনে আমদানি কমে রাজস্ব আয়ও কমে যাচ্ছিল। বিজিবি, পুলিশ,আনসার সিএন্ডএফ এজেন্টস ও ট্রাক শ্রমিকদের সহযোগীতায় চেকপোস্টকে যানজট মুক্ত করায় আমদানি বাড়তে শুরু করেছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: