করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৪৯৭,৭৯৭
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত

ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাবনত জাতি

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২:৪৪:০৮

ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন সর্বস্তরের মানুষ। তবে এবার মহামারির বাস্তবতায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের আয়োজনটি এবার হচ্ছে সীমিত পরিসরে।

রাত ১২টা ১ মিনিট মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনার কারণে এবার রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্ব-শরীরে আসেননি। তাদের পক্ষে সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম ও মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতা মতিয়া চৌধুরী, ফারুক খান, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ তার সঙ্গে ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন, একুশের পথ ধরে স্বাধীনতা এসেছে। স্বাধীনতার এত বছর পরেও বলা যায় বিজয়কে সুসংহত করতে পারিনি আমরা। জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন ঘটানো সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। জাতিসংঘ বাংলা ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, জাতির পক্ষে এই দাবি জানাচ্ছে আওয়ামী লীগ।

পরে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষে শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংসদের সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস কমডোর এমএম নাঈম রহমান। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এরপর ১২টা ১৬ মিনিটের দিকে সর্ব-সাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করা দেওয়া হয়।

যশোরে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে শহরের পুরাতন কসবাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ও জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর যশোরে পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ, যশোর প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, যশোর সিভিল সার্জন, যশোর পৌরসভা, জাতীয় পার্টি, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেন।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে মোংলায় নানা কর্মসূচিতে পালিত হয়েছে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২ টা ১ মিনিটে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ ও গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজমদার, শহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজ বংশী, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মিসেস কামরুন নাহার হাই ছাড়াও উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, মোংলা প্রেস কাব, আওয়ামীলীগ, বি এন পিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।

একুশের প্রথম প্রহরে চাঁদপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান। জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. জেআর ওয়াদুদ টিপু, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসিম আক্তার, চাঁদপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক-এক করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তাছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালবাসার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হচ্ছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আনিসুর রহমান শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। গার্ড অব অনারের মাধ্যমে এক মিনিট নিরবতা পালন করে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদের প্রতিশ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। পরে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতি সংগঠনের জন্য শহীদ মিনারটি উন্মুক্ত করা হয়।

সিরাজগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মুক্তির সোপানে শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সর্বস্তরের মানুষ। রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ বেদিতে প্রথম পুস্পস্তবক অর্পণ করেন সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহাম্মদ । এর পর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শহীদ বেদিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে। এর আগে সিরাজগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট শহীদ মিনারে সংগীত পরিবেশন করেন।

নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম প্রহরে আলোক প্রজ্জ্বলন করেন পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান। পরে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরু, জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের এমপি হাবিবা রহমান খান শেফালী, পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুনসী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল আমীনসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক-এক করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

যথাযোগ্য মর্যাদায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মাধ্যমে শুরু হয়েছে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশিদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী ও জেলা পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাচ্ছের হোসেন শহীদ মিনারে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন। এরপর একে-একে সরকারি-বেসরকারি ও রাজনৈতিক দলগুলোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এর আগে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণসংগীত পরিবেশন পার্বত্য চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ।

নরসিংদীতে শহীদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। প্রথম প্রহরে মোসলেহ উদ্দিন ভুইয়া স্টেডিয়াম শহীদ মিনারে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। পরে পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজিমের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর জেলা পুলিশ সুপার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, জেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ মিনারে পুষ্পার্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া জেলার ছয়টি উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দ্দী কলেজে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতিশ্রদ্ধা নিবেদন করেছে সর্বস্তরের মানুষ। মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখর, মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. শ্রী বীরেন শিকদার, জেলা প্রশাসক ড. আশরাফুল আলম, পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুণ্ডুসহ পর্যায়ক্রয়ে শতাধিক সরকারি, বেসরকারি, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

পঞ্চগড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। রাত ১২ টা ১ মিনিটে পঞ্চগড় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন রেলপথ মন্ত্রী মো: নুরুল ইসলাম সুজন,পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান,পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর পুস্পস্তবক অর্পণ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, পৌর মেয়র জাকিয়া খাতুন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

লালমনিরহাট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সরকারী, বেসরকারী দফতরের কর্মকর্তা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: