প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

মণিরামপুরে জ্বালানি সংকটে কদর বাড়ছে গোবর লাকড়ির

১৮ জানুয়ারি ২০২০, ১:২০:১৯

উত্তম চক্রবর্তী,মণিরামপুর(যশোর)অফিস৷৷
যশোরের মণিরামপুরে দিন দিন জ্বালানি সংকট প্রকট হয়ে দাড়িয়েছে। জ্বালানি সংকট থেকে বাচতে এ উপজেলার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষ এখন গোবরের তৈরি শলার লাকড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জানা গেছে, গোবরের কম্পোস্ট সার খুবই উৎকৃষ্ট হওয়ায় কৃষকরা জমিতে গোবর দিয়ে ভালো ফলন ফলিয়ে থাকেন। ফলে সব সময়ই কৃষকদের মাঝে গোবরের কদর ব্যাপকভাবে দেখা যায়। যাদের গরু আছে কিন্তু আবাদি জমি নেই তারাও কৃষকদের কাছে গোবর বিক্রি করত।
কিন্তু বর্তমানে তারা জ্বালানির বিকল্প হিসেবে গোবর ব্যবহার করছেন।

গোবরের তৈরি লাকড়ি দিয়ে নিজেদের জ্বালানি সমস্যার সমাধান করেও বাজারে ও গ্রামে বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করছেন। এ উপজেলার এলাকায় দিন দিন জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলোর।
জ্বালানির অভাবে চুলা জ্বালাতে পারছে না দরিদ্র জনগোষ্ঠীর গৃহিণীরা।
এদিকে দফায় দফায় গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেকেই গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে।
যার ফলে জ্বালানি কাঠের ওপর দিন দিন চাপ বেড়েই চলেছে।
এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে গোবরের তৈরি মুইঠ্যা বা শলার লাকড়ি।
বর্তমানে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় গোবরের শলার লাকড়ি তৈরি করা হচ্ছে পুরোদমে।
আর গোবরের শলার লাকড়ি জ্বালানির চাহিদা মেটানোর পর বিক্রি করে অভাব দূর করছেন অভাবগ্রস্ত পরিবারের গৃহিণীরা।
গোবরের শলার তৈরি লাকড়ি এমন এক প্রকার জ্বালানি যা তৈরি করা খুবই সহজ।
খরচও কম এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
পরিবেশ সহায়ক এ জ্বালানি তৈরি উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন গরু বা মহিষের গোবর, পাটখড়ি, ধানের তুষ (কুড়া)।
গোবরের শলার লাকড়ি তৈরির আগে পরিমাপ মতো পাটখড়ি কেটে গোবর ও তুষ (কুড়া) একত্রে মিশিয়ে পাটখড়ির সঙ্গে এটে রোদে শুকাতে হয়।
এ ছাড়াও মুঠো করে ঘষি বানিয়ে রোদে শুকিয়েও ব্যবহার করা যায়।
কিছুদিন আগেও এর ব্যবহার ছিল গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
কিন্তু বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও এর দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন গ্রাম ছেড়ে শহরেও গোবরের শলার লাকড়ির কদর বেড়েছে।
প্রায় সব শ্রেণির মানুষ এ গোবরের শলার লাকড়ি স্বল্পমূল্যে কিনে জ্বালানি হিসেবে রান্নার কাজে ব্যবহার করছে।
গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের মহিলারা এ গোবরের শলার লাকড়ি বা মুইঠ্যা তৈরি করে নিজেদের জ্বালানির চাহিদা মিটিয়েও বিক্রি করে সংসারের খরচ চালিয়ে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: