প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

মো. দ্বীন ইসলাম

মতলব উত্তর (চাঁদপুর)

মতলব সেতুতে যান চলাচল শুরু

৭ জানুয়ারি ২০১৯, ৮:২০:২১

মতলব সেতু

মো. দ্বীন ইসলাম, মতলব উত্তর (চাঁদপুর) ॥
চাঁদপুর জেলার উত্তরে নির্মাণধীন মতলববাসীর স্বপ্নপূরণে মতলব সেতু’র কাজ শত ভাগ সম্পন্ন করেছেন বলে চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানিয়েছে। ২০১৯ সালের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি থেকেই এর ওপর দিয়ে চলাচল শুরু হয়েছে।
সওজ বিভাগ মতলব শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. জসীম উদ্দীন রোববার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চাঁদপুর সওজ বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে মতে, এতে আড়াই বছরে সবকারি খাতে টোল জমা হবে ২ কোটি ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা যা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ রাত ১২ টা থেকে ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বছরে ৮৮ লাখ ৩২ হাজার টাকা দেশের রাজাস্ব খাতে জমা হবে। মতলবের ঢাকাস্থ ‘টেকবে ইন্টারন্যাশানাল’ নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এর টোল আদায়ের দায়িত্ব পেয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে আরো জানা গেছে, প্রতি ট্রেইলর ১২৫ টাকা, হেবি ট্রাক ১২৫ টাকা, ট্রাক ৫০ টাকা, বাস ৪৫ টাকা, মিনি ট্রাক ৪০ টাকা, কৃষি কাজে ব্যবহৃত যান ৩০ টাকা, মিনি বাস ২৫ টাকা, সাধারণ যানবাহন ১৫ টাকা, ৪ চাকার যান ২০ টাকা, সিডনি কার ও সিএনজি ১০ টাকা, মটর সাইকেল ৫ টাকা ও মাল ভর্তি ভ্যান ৫ টাকা করে টোর আদায় প্রযোজ্য বলে জানা গেছে।
মতলব উত্তর ও দক্ষিণ তথা চাঁদপুরের সাথে ঢাকার দূরত্ব কমানো, সময় বাঁচাতে এবং মতলববাসীর দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মতলব বাজার সংলগ্ন পূর্ব দিকে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর মতলব সেতু নির্মাণের একটি বড় রকমের প্রকল্প হাতে নেয় চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ। যার কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের জানুয়ারি এবং শেষ হওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল ২০১৭ সালের ৩০ জুন।
এর নির্মাণ ও এ্যাপ্রোচ কাজ ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করে চলাচলের উপযোগী করা হয় বলে নির্ভরযোগ্যটি সূত্র জানায়। বর্তমানে সেতুুর উত্তর প্রান্ত বাইশপুরে এবং দক্ষিণ প্রান্ত বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কের ভাঙ্গারপাড় এ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ চলমান থাকায় বিলম্ব হয়েছে।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্তব্যরত একজন কর্মকর্তা জানান, ‘মতলববাসীর দাবির ফলে ও ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার প্রচেষ্ঠায় ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মতলব সেতুু নির্মাণের প্রকল্পটি হাতে নেয়।
এদিকে এ সেতু চালু হলে চাঁদপুর, হাইমচর, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ, রামগঞ্জ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, হাজীগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী অ লের মানুষজনকে কুমিল্লা হয়ে দীর্ঘ পথ না ঘুরে এ পথে সহজেই স্বল্প সময়ের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় যাওয়া সম্ভব হবে।
সেতুর দু’পাশের সংযোগ সড়ক ও এবার্টমেন্ট নির্মাণে এ বিভাগকে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে এবং খাতে প্রকল্পের ২৮ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রদান করতে হয়েছে। যথাসময়েই কাজ শেষ করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রকল্পটি নিয়মিত মনিটরিং করছে।
চাঁদপুর সওজ বিভাগের একজন উপ-প্রকৌশলী বলেন, ‘মতলব সেতুর কাজ কিছ’দিন হলো শেষ হয়েছে। সেতুটি মতলববাসীর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্নপূরণ করেছে। এতে ঢাকা যাতায়তে সময় ও দূরত্ব কমে যাবে, মতলব উত্তর ও দক্ষিণের সাথে সেতুবন্ধন, মৎস্য, খাদ্যশষ্য, অন্যান্য কৃষিপণ্য ও উৎপন্ন মালামাল পরিবহনে সহজতর ও সাশ্রয় হবে। জেলা সদর চাঁদপুরসহ নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর প্রভৃৃতি জেলার সাথে চমৎকার যোগাযোগ মাধ্যম সৃষ্টি হবে। প্রবাসীদের যাতায়তের সুবিধা ও ব্যবসাÑবাণিজ্যের নতুন নতুন মাত্রা যোগ হবে।’
প্রসঙ্গত, চাঁদপুর জেলায় অবস্থিত ধনাগোদা মেঘনার একটি শাখা নদী। এটি মতলব শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহমান। ১৪ টি ইউনিয়ন ও ছেংগারচর পৌরসভার নিয়ে গঠিত মতলব উপজেলা গঠিত। ওই নদীটির কারণে জেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। অনুন্নত সড়ক যোগাযোগের কারণে খাদ্যশস্য এবং শিল্পজাত পণ্য স্বল্পসময়ে দেশের অন্যত্র পৌঁছানো সম্ভব হতো না।
সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার ৭ লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি হবে এ সেতু। লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও মাদারীপুরসহ দেশের পশ্চিমাংশের জেলাসমূহের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজতর হবে।
বর্তমানে হরিণা- ভাটিয়ালপুর সড়কের সাথে একটি ফেরি চালু রয়েছে কিন্তু যাত্রী সাধারণ ও মালামাল পরিবহনের জন্যে তা’খুবই অপ্রতুল এবং অধিক সময় ব্যয় হয়।
চাঁদপুর সড়ক বিভাগ বাবুরহাট-মতলব-পেন্নাই সড়কে ৩শ’ ৪.৫১ মিটার দীর্ঘ আরসিসি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করে। প্রকল্পটির প্রস্তাব পাওয়ার পর ২০১২ সালের ৫ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৯জুন ২০১৩ সালে পুনরায় পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেয়ার সুপারিশ করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে ৩শ’ ৪ দশমিক ৫১ মিটার আরসিসি দৈর্ঘের সেতু, অ্যাপ্রোচ সড়কের ওপর ৩০.৫০ মিটার একটি সেতু, ১২ মিটার দু’টি আরসিসি কালভার্ট, ১০ মিটার দু’টি আরসিসি আন্ডারপাশ, ১.৮৬ কি.মি. সার্ফেসিং এবং নতুন পেভমেন্ট তৈরি, ৯ দশমিক ৩৪ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ৩.২৩ লাখ ঘনমিটার সড়ক বাঁধ, জিও টেক্সটাইল, টো-ওয়াল,সার্ফেস ড্রেন, দু’টি ইন্টারসেকশন আইল্যান্ড এবং সাইন, সিগন্যাল ইউটিলিটি সিফটিংসহ আনুসাঙ্গিক কাজ করার কথা রয়েছে। ১০.২৫ মিটার প্রস্থের সেতুতে ৭টি স্প্যান রয়েছে। সেতুর দু’পাশে অ্যাপ্রোচ সড়কটি থাকবে ১.৮৬ কি. মি.।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: