fbpx
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

মাতবরের মেয়ের অশ্লীল ভিডিও ধারণ, অতঃপর…

২০ অক্টোবর ২০১৯, ৯:৪৬:২৯

ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ হাসান টিংকু

যশোরের শার্শার পল্লীতে এক গ্রাম্য মাতবরের মেয়ের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করায় মহিবুল নামের এক যুবককে গুম করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই যুবককে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসার পর থেকে কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। মহিবুল শার্শা উপজেলার কায়বা গ্রামের শুকুর আলী ধোবেনের ছেলে। এ ঘটনায় মহিবুলের বাবা স্ট্রোক করে শয্যাশায়ী।

জানা গেছে, কায়বা গ্রামের গ্রাম্য মাতবর ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ হাসান টিংকুর পোষ্য ক্যাডার দাউদের মেয়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সাতপোতা গ্রামের জনৈক ইব্রাহীম শুক্রবার অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়।

এই অনৈতিক কাজের ভিডিও করে মহিবুল। আর এটাই তার জন্যে কাল হয়ে দাঁড়ায়। ভিডিও করার ঘটনাটি জানাজানি হলে গ্রাম্য মাতবররা অসামাজিক কাজের বিচার না করে উল্টো মহিবুলের ওপর দোষ চাপিয়ে দেয় সে এই অসামাজিক কাজের ভিডিও করেছে কেন?

ভিডিও করায় মহিবুলের পরিবারের কাছে চেয়ারম্যান টিংকুর ক্যাডাররা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চেয়ারম্যানের ক্যাডার দাউদ, ভাবলু, রফিকুলসহ ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত অস্ত্রশস্ত্র হাতে নিয়ে মহিবুলকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসে চেয়ারম্যানের কাছে। এর পর থেকে মহিবুলকে আর পাওয়া যাচ্ছে না। মহিবুলের পরিবারের দাবি চেয়ারম্যানের ক্যাডারদের দাবিকৃত দুই লাখ টাকা না দেওয়ায় মহিবুলকে গুম করা হয়েছে।

মহিবুলের মা মাছুরা খাতুন জানান, আমার ছেলে মহিবুলকে শুক্রবার সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান টিংকুর কাছে নিয়ে যাচ্ছি বলে দাউদ, ভাবলু ও রফিকুলসহ ১০-১২ জন লোক জোর করে ধরে নিয়ে যায়। আমি চেয়ারম্যানের পা ধরে বলেছি। ছেলে অন্যায় করেছে এবারের মতো মাফ করে দেন। তারা আমার কোনো কথা শোনেনি। উল্টো বলেছে তোমার ছেলে যে অন্যায় করেছে তাকে থানায় পুলিশে দিতে হবে। চেয়ারম্যান টিংকুর নির্দেশে আমার ছেলেকে গুম করে রেখেছে।

এ ব্যাপারে গ্রাম্য মাতবর দাউদ বলেন, আমি কিছু বলব না, চেয়ারম্যান সব জানে। তিনি বিষয়টি বলতে পারবেন।

যুবকটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে অভিযুক্ত শার্শার কায়বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছেলেটিকে নিয়ে আসার পর তাকে দাউদের মাধ্যমে থানায় পাঠিয়েছি। পুলিশের কাছে দেওয়ার পর আমার দায়িত্ব শেষ।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, থানায় কোনো ছেলেকে কেউ হস্তান্তর করেনি। আমরা কাউকে কারো কাছ থেকে বুঝে নেইনি। কেউ কোনো অভিযোগও করেনি। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: