fbpx
মঙ্গলবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মামলা, লাথি-থাপ্পড় সবই জুটেছে সাকিব ভক্তের কপালে, ব্যথিত বিচারক

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:৩৪:৪২

একজন সাকিব ভক্ত। ভালোবেসে, একবার ছুঁয়ে দেখার আশা নিয়ে তিনি মাঠে প্রবেশ করে ছিলেন। ছিলো না কোন অসৎ উদ্দেশ্যে। সেই অপরাধে বড়

শাস্তি পেতে হলো তাকে। যা দেখে ব্যথিত স্বয়ং একজন বিচারক। অথচ নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন, যাদের ব্যর্থতার সুযোগ ভালোবাসার বর্হি:প্রকাশ

করেছেন ফয়সল, তাদের কোনো শাস্তির খবর এখনো পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রামের সাকিব ভক্ত ফয়সলের কপালে সবই জুটেছে। মামলা, চড়, থাপ্পর-লাথি

এমন কিছু বাদ যায়নি তার কপাল থেকে। আহত ফয়সলকে দেখে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কস্টমস আদালতে কর্মকর্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন তার আক্ষেপের কথা। নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যর্থতার দায় ঢাকতে সাকিব ভক্ত ফয়সলের প্রতি অতি মাত্রায় নির্মমতা হয়েছে জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে বিচারক মাহবুবুর রহমান লেখেন, আসলে আমার আইন পড়াই ভুল হয়েছে। না পড়লে আইনের ভুল প্রয়োগ ও নির্মম প্রয়োগ বুঝতাম না। কষ্টও লাগতো না। প্রিয় খেলোয়াড়কে জড়িয়ে ধরার জন্য, ছোঁয়ার জন্য ভক্তদের এ ধরনের পাগলামি নতুন নয়। চড় দিলেন, লাথি দিলেন, বেধড়ক মারলেন, মামলা দিলেন, হাজতে দিলেন। অনেক বেশি নিষ্ঠুরতা হয়ে গেল না?

আরে বাবা ফুলই তো দিয়েছে? আর তো কিছু না। এটা ভুল। মানছি। তবে প্রেমময় ভুল। এটার জন্য কড়া বকা, সতর্ক করা ও মুচলেকায় যথেষ্ট ছিল। এই ক্রিকেট ফ্যানরা বেআক্কেল! বেওস্তাদ! কেন যে খেলা দেখতে যায়? আইনশৃখংলা রক্ষাবাহিনী এই নিরীহ বোকা ভক্তের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পারফরম্যান্স না দেখালেও পারতো।’ মনে করেন মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।

এই বিচারক তার পোস্টে জানিয়েছেন, ভক্তটিকে মারধর করাটা বেআইনি। আর মারধর যখন করেই ফেলেছে, তখন মামলা না দিলেও পারতো! মামলা যখন দিলই তখন হাজতে না দিয়ে দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে প্রতীকী জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া যেত। আসলে আমার আইন পড়াই ভুল হয়েছে। না পড়লে আইনের ভুল প্রয়োগ ও নির্মম প্রয়োগ বুঝতাম না। কষ্টও লাগতো না।

মারধর, মামলা, এগুলোর চেয়েও বড় কথা হলো-সে এতোগুলো মানুষের সামনে অপদস্ত হলো! তাঁর পিতামাতা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের কথা ভাবুন। এক্ষেত্রে কিছু প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন এসে যায়। নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে ঢুকল কী করে? তাহলে কি ধরে নেয়া যায় এই বেষ্টনী ত্রুটিযুক্ত ছিল। আর এই প্রশ্নটি উঠবে বলে দৃষ্টি বা আলোচনা অন্যদিকে ডাইভার্ট করার জন্য এতো আয়োজন, এতো ক্যামোফ্লেজ?

অবশ্য পুলিশ অনেক সময় হিট অফ দ্য মোমেন্টে অতিরিক্ত মারধর করে ফেলে। এবং দায় ঢাকার জন্য ভয় পেয়েও মামলা করে বসে। বোকাটাকে বেশি মারধর করা হলো নাতো? চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন গত শুক্রবার সকালে নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঠে প্রবেশন করেন ফয়সল আহমদ। তিনি সাকিবকে ফুল নিবেদন করেন। সাকিব শুরুতে এড়িয়ে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত ভক্তকে কাছে টেনে নেন।

বেশ কিছু সময় পর নিরাপত্তকর্মীরা এসে নিয়ে যান ফয়সলকে। এরপর তাঁকে মারপিট করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০১৬ সালে মিরপুরে একই ভাবে এক মাশরাফী ভক্ত মাঠে প্রবেশ করে ছিলেন। যদিও মাশরাফীর অনুরোধে ওই ভক্তকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়। সিলেটেও এক মুশফিক ভক্ত মাঠে ঢুকে এমন কাণ্ড করেন। এবার চট্টগ্রামেও ঘটলো একই কাণ্ড। বারবার নিরাপত্তকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঠে প্রবেশ করছেন সমর্থকেরা। যার জন্য প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের দায়িত্ব নিয়ে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত:

সর্বশেষ

আমাদের ফেসবুক পাতা

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল


প্রতিনিধি নিয়োগ

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রাসেল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক : বনি আমিন
বার্তা সম্পাদক : রাইতুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয় : ১৬১/১/এ উলন, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯
মোবাইল : 01715674001
বিজ্ঞাপন : 01727338602
ইমেইল : alorprotidin@gmail.com, news.alorprotidin@gmail.com

Developed by RL IT BD