শিরোনাম
◈ শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল ইসলাম ◈ শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি ◈ শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মিলন ◈ শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন চালুয়াহাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইমরান খান পান্না ◈ মাননীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা (এমপি) মহোদয়ের পক্ষ থেকে শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ৬‌ন‍ং ডাকুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ-প্রার্থী গাজী মোস্তফা কামাল
     করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ১,৬৯৬ ◈ আজকে মৃত্যু : ২৪ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩১০,৫৩২

মাল্টা চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন আফরোজা

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১৯:৩৭

জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলে এক প্রবাসীর স্ত্রী পাঁচ একর জমিতে মাল্টা চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। বাগান জুড়ে মাল্টা গাছে ফল এসেছে। দু’মাস পরেই থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা মাল্টা বাজারজাত করা যাবে। প্রথম বছরেই চার লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী আফরোজা আক্তার। চাষি আফরোজা আক্তারের স্বামী লাবলু সিকদার সৌদি আরবে থাকেন। গ্রামের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউনিয়নের কাঠাদুরায়। বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের লুটিয়া গ্রামে তাদের নিজস্ব জমিতে এই মাল্টার বাগান গড়ে তুলেছেন। আফরোজা আক্তার জানান, তার স্বামী সৌদিপ্রবাসী লাবলু সিকদারের অনুপ্রেরণায় মাল্টা চাষের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ইউটিউবসহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে মাল্টা চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। এক পর্যায়ে ভাল চারা কোথায় পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেন। চারার ব্যাপারে যোগাযোগ হয় ময়মনসিংহ জেলার একটি নার্সারিতে। আড়াই বছর আগে সেখান থেকে ১ হাজার ৩০০ চারা এনে জমিতে শ্রমিক দিয়ে লাগানো হয়। ৫ একরের মধ্যে একটি জমি ৩ একর এবং অপর দুটি এক একর করে। নিবিড় পরিচর্যা আর যতেœ চারা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে এ বছর গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। প্রথম বছর এক হাজার গাছে কমবেশি ফল এসেছে। গাছভেদে ২০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত ফল ধরেছে। প্রথম বছর তুলনামূলকভাবে ফল কম ধরলেও সব মিলিয়ে প্রথম বছরে চার লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। আফরোজা আরো বলেন, মাল্টা গাছে মাঝে মধ্যে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। তবে এ ব্যাপারে লোহাগড়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করে তা দমন করা সম্ভব হয়েছে। অন্যান্য ফসল চাষের তুলনায় মাল্টা বাগানে সঠিকভাবে পরিচর্যা ও ফলন ভাল হলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হতে পারবো। এদিকে মাল্টা চাষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চাষি মাল্টার বাগান দেখতে ভিড় করছেন এবং চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। আগামীতে মাল্টা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় একাধিক চাষি। দিঘলিয়া এলাকার রাজু আহমেদ বলেন, খবর শোনার পর আমি বাগানটি পরিদর্শনে যাই। সেখান থেকে কাঁচা অবস্থায় মাল্টা রস করে খেয়েছি। স্বাদ খুব ভাল। একজন নারী চাষি সাহস নিয়ে এতো বড় বাগান গড়ে তুলেছেন দেখে খুব মুগ্ধ হয়েছি। স্কুল শিক্ষার্থী ইয়াসমিন খানম বলেন, বাজার থেকে মাল্টা কিনে খেয়েছি। কিন্তু এই বাগানের মাল্টার স্বাদ যেন আরো ভালো এবং মিষ্টি।

লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ^াস বলেন, আমাদের তত্ত্বাবধায়নে আফরোজা প্রায় ৫ একর জমিতে মাল্টার চাষ করেছেন। আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। আশা করি এ বছর প্রায় ৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করা সম্ভব হবে। পুরোপুরি উৎপাদন শুরু হলে নড়াইলের চাহিদার পাশাপাশি যশোর ও গোপালগঞ্জ জেলার চাহিদার কিছুটা হলেও পূরণ করতে সক্ষম হবে। তিনি আরো বলেন, কৃষাণি আফরোজা আক্তারের মাল্টা বাগান তৈরির পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। তিনি কৃষি বিভাগের প্রত্যক্ষ নজরদারিতে থেকে নিয়ম ও পদ্ধতি মেনে মাল্টা চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। এক হাজার গাছে মাল্টাধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০টি ৩০টি করে ফল আছে। উদ্যোক্তা আফরোজা
আক্তারের যে পদক্ষেপ এবং কৃষি বিভাগের যে যোগসূত্র, আশা করি আগামীতে
মাল্টা চাষ সম্প্রসারিত হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: