করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ১১,৫৯০

মাহে রমজানের মাহাত্ম্য ও করণীয়

২৭ এপ্রিল ২০২০, ১:৩৫:৩২

বছর ঘুরে আবার ফিরে এলো মাহে রমজান। ফিরে এলো সিয়াম সাধনার মাস রমজান । মহান আল্লাহ তায়ালা কতৃক মুসলিম উম্মাতের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজায়াত নাযিলের মাস রমজান। এ মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির অফুরন্ত ক্ষমা, রহমত ও বরকতের দরজা খুলে দেন। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর উপর বিশ্ব মানবজাতির জন্য হেদায়েত পবিত্র কুরআন মাজীদ এ রমজান মাসেই নাযিল হয়। পবিত্র কুরআনের মাহাত্ম্য ও বরকতের কারণে রমজান মাস অন্যান্য মাস থেকে আলাদা ত্যাৎপর্যময়। দীর্ঘ ১ মাসের সিয়াম সাধনা মূলত মুমিনদের মুত্তাকীতে পরিণত হওয়ার ট্রেনিং ও রব্বুল আলামিনের নিকট্য অর্জনের মাস।

সিয়াম শব্দের অর্থ কি?

সিয়াম আরবি শব্দ। যার শাব্দিক অর্থ বিরত থাকা। যাবতীয় পানাহার ও শরীয়ত নিষিদ্ধ কাজকর্ম রমজান মাসের সুবে সাদিক থেকে সূর্যঅস্ত পর্যন্ত বিরত থাকাকে সিয়াম বুঝায়।
রমজান মাসে রোজা রাখাকেও সিয়াম বুঝায়।

আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় হিজরত করে যাওয়ার দ্বিতীয় বছরে রমজানের সিয়াম পালনের বিধান নিয়ে নাজিল হয় কুরআন মজিদের সূরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতটি। ঘোষণা করা হয়, “হে মুমিনরা, তোমাদের প্রতি সিয়াম পালন আবশ্যিক করা হলো যেমন তা আবশ্যিক করা হয়েছিল তোমাদের আগে যারা ছিল তাদের প্রতি, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।”
এ আয়াত নাজিল হওয়ার পর প্রথম রমজান আগমনের আগে আল্লাহর নবী তার সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশে এক নাতিদীর্ঘ ভাষণ দেন। হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ মনীষী ইমাম বায়হাকিসহ বেশ কয়েকজন মুহাদ্দিস তাদের গ্রন্থে এটি সঙ্কলন করেছেন। এতে তিনি রমজানের গুরুত্ব, মাহাত্ম্য ও করণীয় সম্পর্কে উম্মতকে অবহিত করেন।

শুধুমাত্র রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতের উপর রোজাকে ফরজ করা হয়নি। বরং তা যুগে যুগে বিভিন্ন নবী – রাসূলে উম্মতের উপর ফরজ ছিল। সর্বশেষ উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসকে আরো মহিমান্বিত করেন সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব আল কুরআনের নাজিলের মাধ্যমে। রমজানের উল্লেখযোগ্য মাহাত্ম্যগুলো হলোঃ

১) ” রমজান এমন এক মাস যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়েত স্বরূপ এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশক আর হক ও বাতিলকে সুস্পষ্ট করে উপস্থাপনকারী। ” ( সূরা আল বাকারা, ১৮৫ নং আয়াত)

২)হযরত সাহল বিন সাদ ( রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ( সাঃ) বলেছেন –” জান্নাতের আটটি দরজার মধ্যে একটির রাইয়্যান ; এ দরজা দিয়ে কেবলমাত্র সিয়াম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। বলা হবে, সিয়াম পালনকারীরা কোথায়? তখন সিয়াম পালনকারীরা দাঁড়িয়ে যাবেন, যখন তারা সবাই ভিতরে প্রবেশ করবেন। তখন দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। “” ( সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

৩) হযরত আবু হুরায়রা ( রাঃ) হতে বর্ণিত ; নবী করিম ( সাঃ) বলেছেন, ” যে ব্যক্তি ঈমানী চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে পরকালীন প্রতিদান কামনায় রমজানের সিয়াম পালন করবে, তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ করা হবে। ( সহীহ বুখারী ও মুসলিম)

রমজান মাসে করণীয়ঃ

১) আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিকট্য লাভের চেষ্টা করাঃ
পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিকট্য লাভের জন্য সর্ব উত্তম মাস। এ মাসে শয়তানকে কয়েদ করে রাখা হয়। এ মাসে যেকোনো ইবাদতের ফজিলত ৭০ গুণ থেকে তাঁরও বেশি গুণ বৃদ্ধি করে বান্দাদের আমলনামায় লেখা হয়। তাছাড়া পবিত্র লাইলাতুলকদর বা সৌভাগ্যের রজনী রমজান মাসে মধ্যে। লাইলাতুলকদরের রাতে ইবাদত হাজার মাসের রাতের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। যা হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মতের উপর আল্লাহর অশেষ অনুগ্রহ ও রহমত। বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত, হাদিস অধ্যায়ন ও দান সদকা করা। পাশাপাশি নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়ার উত্তম সময়েও কিন্তু মাহে রমজান।

২) রমজানের শিক্ষা অন্তর ও বাস্তব জীবনে প্রতিফলনঃ
রমজানের প্রকৃত চেতনা ও শিক্ষা এখন আমাদের অনেকের জীবনই ইফতার ও সেহেরি এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ।সিয়াম সাধনার মাধ্যমে একজন মুমিন অনুভব করে একজন ক্ষুধার্ত মানুষের অনাহারে কষ্ট। যাবতীয় পানাহার সামনে থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর ভয়ে পানাহার না করার মাধ্যমে আল্লাহর ভয়কে নিজের অন্তরে শক্তিশালী করার শিক্ষা। একজন রোজাদার কখনোই দুর্নীতিবাজ, মিথ্যাবাদী, অসৎ ব্যবসায়ী, জুলুমকারী, জিনাকারি হতে পারে না একজন রোজাদার যখন রোজা রাখা আবস্থায় যাবতীয় পাপাচার থেকে দূরে থাকে তখন তার ভিতর বছরের বাকিসময়েও পাপাচার থেকে বিরত থাকার প্রশিক্ষণ নেয়।

৩) আনতে হবে খাদ্যঅভ্যাসের পরিবর্তনঃ
রোজার সময় মানেই বাহারি তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবারের সমাহার। এধরনের খাবার অতিরিক্ত ক্যালরি যুক্ত হওয়ায় অল্প খেলেই ওজন বাড়ার ভয় থাকে। পাশাপাশি রোজা রেখে এ ধরনের খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই ভালো নয়।

ইফতার ও সেহেরি এর সময় খাবারের আইটেম হিসেবে রাখা যেতে পারে আঁশযুক্ত খাবার, কম তৈলাক্ত, তাজা সবজির আইটেম এবং বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল। যা আপনার সারাদিনের ক্লান্তিকে দূর করে শরীরে আনবে শক্তি।

৪) করোনায় হতে হবে সচেতনঃ
বর্তমানে বাংলাদেশ সহ সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে মহামারী করোনা। করোনায় মৃত্যু মিছিল কেবল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকারী পন্হা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। সেজন্য, বাহিরে যাওয়ার সময় মুখে মাস্ক পরিধান করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে চেষ্টা করতে হবে ঘরেই ইবাদত বন্দেগি করা।

৫) পানি পান করতে হবে বেশি করেঃ
আমাদের শরীরের৬০% এর বেশি অংশ পানি দ্বারা তৈরি। তাই সহজেই বুঝা যায় পানির অপর নাম কেন জীবন। শরীরকে ড্রিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন বেশি বেশি পানি পান । তাই, বেশি পরিমাণ পানি পান করতে হবে ইফতার ও সেহেরির সময়।তবে, অবশ্যই সে পানি হতে হবে বিশুদ্ধ। বাহারি ফলের শরবত হতে পারে ইফতার ও সেহেরি উৎকৃষ্ট পানীয়।

৬) ভুলে যাই ভেদাভেদ, গড়ে তুলি সম্প্রীতির বন্ধনঃ
ইসলামের অমিয় শিক্ষা আলোকে গড়ে তোলতে হবে আমাদের জীবনকে। রমজান মাসে আমাদের মধ্যে গড়ে তুলে অসাধারণ ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ক। নামাজের একই কাতারে এনে দাঁড় করিয়ে দেয় ধনী- গরিব, কালো – সাদা, আমীর – ভিক্ষুককে। এ শিক্ষা ও ভালোবাসা বজায় রাখতে হবে বছরের বাকি সময়ের জন্যও। যা দ্বারা আমরা গড়ে তুলতে পারি একটি সুখী, শান্তিময় সমাজব্যবস্থায়।
লেখক
মোঃ ফাহাদ হোসেন হৃদয়
নোয়াখালী বিজ্ঞানও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: