করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ২৭৫,৪৮৭
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

মোহনপুর বরোপিটে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে মাছ ॥ ক্ষতি প্রায় কোটি টাকা

৬ আগস্ট ২০২০, ৩:৪৬:২১

উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর অতিবৃষ্টির কারণে চলমান বন্যায় চাঁদপুর মতলব উত্তরের মোহনপুর বরোপিট ১,২,৩ ও ৪ ফিশারির মাছ ভেসে গেছে। এতে প্রায় ১কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বরোপিটের দলনেতা আহসান উল্ল্যাহ হাসান। ৫ আগস্ট বুধববার রাতে হঠাৎ বর্ষার পানি বেড়ে যাওয়ায় ফিশারির মাছ পানিতে ভেসে যায়।

বৃহত্তম কুমিল্লা জেলায় মংস্য উন্নয়ন প্রকল্প মতলব উত্তরের মোহনপুর ইউনিয়নের মেঘনা ধনাগোদা বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বরোপিট ফিশারির প্রজেক্ট দলনেতা আহসান উল্ল্যাহ হাসান জানান, মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর মৌজায় সরকারের কাছ থেকে লীজ নিয়ে এলাকার যুব সমাজকে সাথে নিয়ে ৯ একর জমির মধ্যে ৪টি বরোপিটে রুই, মৃগেল, কাতলা, কার্প, ব্রিগেড মাছ চাষ করি। কিন্তু মাছ বিক্রির পূর্বেই অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারনে পানি ফিশারীর বাঁধের উপর দিয়ে ঢুকে সব মাছ পানির সাথে চলে যায়। বন্যায় আমাদের মতো প্রান্তিক মৎস্য চাষিরাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। অথচ আমাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। আমরা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব? আমাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত ।

সাবেক ছাত্রনেতা বরোপিটের সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, জননেত্রী মাছে ভাতে বাঙালি ও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের অংশ হিসেবে আমারা শিক্ষিত বেকার যুবকদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে খনন’সহ মৎস্য চাষের উৎসাহ দিয়ে কাজ করে আসছি। ভাগ্যের পরিহাস আজকের আমাদের সকলের কপালে হাত।
কিন্তু বন্যায় সব ক্ষেত্রে ক্ষতিপূূরণ দেওয়া হলেও মৎস্য খামারিদের ক্ষতিপূূরণ দেওয়া হয় না। এবারের বন্যায় ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া গেলে তাঁরা মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। তিনি মৎস্য অধিদপ্তর’সহ সরকারের প্রতি সু-দৃষ্টি কামনা করেন এবং এই খাতে প্রণেদনা সহ আর্থিক সহযোগিতা করলে যুবসমাজ উৎসাহ ও ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করেন তিনি।

মৎস্য চাষী কাজী মতিন বলেন, কল্পনার মধ্যেও ছিল না, এত দূরের বন্যা এই এলাকায় আসবে। নিজের ও এলাকার যুবকদের পরিশ্রমের ঘামে মৎস্য প্রজেক্টটি গড়ে তুলেছেন। রাত-দিন খামার নিয়েই থেকেছেন। খামারে বিশাল আকারে ৪টি পুকুর ছিল। বড় বড় মাছ ছিল সেসব পুকুরে। ৪টি পুকুরে প্রায় ১ কোটি টাকার মাছ ছিল। কিছুদিন পরেই পুকুরের মাছ বিক্রি করতেন। কিন্তু কে জানত তাঁর এমন সর্বনাশ হবে। এক রাতের মধ্যে বন্যার পানিতে সব পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মাছের জন্য প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার খাবার ছিল। সেটাও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। সব মিলে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
কাজী মতিন আরো বলেন, আমি এখন সর্বস্বান্ত। কিভাবে ঋণের টাকা শোধ করবো? পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে চলবো সে দুুঃশ্চিন্তায় এখন আমি দিশেহারা।

মৎস্য চাষী হুমায়ুুন বলেন, বন্যার পানিতে মাছ ভেসে যাওয়ার সময় আটকানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু পানির এতটা ¯্রােত ছিল যে কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। সব মাছ ভেসে গেছে। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখেছি। বন্যার পানিতে ভেসে চলে গেল আমার জীবিকার শেষ অবলম্বন। পুকুরে এখন কোনো মাছ নেই। একদম পথে বসে গেছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় না। আমরা এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব। আমাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।

মৎস্য চাষী সোহাগ বলেন, খামারে ২ কেজি ওজনের বড় মাছ সহ প্রায় ১কোটি টাকার উপরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছিল। আগামী নভেম্বর- ডিসেম্বর মাসে ফিশারির মাছ বিক্রি করার কথা ছিল। তাতে অনেক টাকা লাভ হত তাদের । কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় ফিশারির মধ্যে পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে সব মাছ ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
অফিস সূত্রে জানা যায়, মোহনপুর বরোপিট ১, ২, ৩ ও ৪ আগামী ৩ বৎসরের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে ৩ বছরের জন্য লীজ নেওয়া হয়। যা ২০১৯- ২০২০ অর্থ বছরে ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ফিশারীর খনন কাজ ও ফিশারির বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ৪/৫ দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো। বন্যার পানিতে মাছচাষিদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: