fbpx

যশোরের শার্শা উপজেলায় বোরো ধানের চাষের প্রস্তুতি শুরু

২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৮:০৮:২৮

মোঃলোকমান হোসেন(রানা),নিজস্ব প্রতিনিধি:-
যশোরের শার্শা উপজেলায় চলতি মৌসুমে শুরু হয়েছে বোরো চাষাবাদ।এখন মাঠে মাঠে জমি প্রস্তুতি ও চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে মাঝে মাঝে বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারণে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।অপরদিকে, লোকসান ঠেকাতে আগামী বোরো ক্রয় মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবী জানান তারা।চাষীরা জানান,শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো থাকলে সুষ্ঠু ভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারবে।ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে পানি সেচ,জমি প্রস্তুতি ও চারা রোপনের ব্যস্ততা।
কাগজ পুকুর গ্রামের মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন,গভীর নলকুপ দিয়ে আমাদের চাষাবাদ করতে হয়।সবাই একসাথে জমি তৈরী করতে নলকুপের উপর কিছুটা চাপ পড়েছে।অপরদিকে বিদ্যুতের মাঝে মাঝে ভেলকিবাজী চলছে।দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে।সাথে রয়েছে বিদ্যুতের লো-ভেল্টেজ।গভীর নলকুপ থেকে ঠিকমতো পানি না পাওয়ায় জমি প্রস্ততি করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ছোট আঁচড়া গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন,ডিএপি ১বস্তা ১৩শত টাকা,এমওপি ১ বস্তা ৮শত টাকা,ইউরিয়া ১বস্তা ৮শত টাকা, কীটনাশক ১১শত টাকা,জমি চাষ ও রোপন ২ হাজার টাকা,পানি সেচ ১ হাজার ৫শত টাকা এবং কাটা-মাড়াই প্রায় ২ হাজার টাকাসহ প্রায় ১০ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা বিঘা প্রতি খরচ হয়ে থাকে।বিঘা প্রতি ফলন হয় বিঘা প্রতি ২০-২২ মন।বর্তমান বাজারে ধানের দাম ৬৫০ টাকা করে।যাদের নিজস্ব জমি তাদের কিছুটা লাভ থাকে।কিন্তু যারা বর্গাচাষী তাদের কিছুই থাকেনা।এতে করে প্রতিবছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়।সরকার যদি সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করে তাহলে ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে।উপজেলায় চলতি মৌসুমে চাষীদের মধ্যে বোরো চাষের ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।শীতের প্রকোপ কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে,চলতি বোরো মৌসুমে শার্শা উপজেলায় এবার ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।যা গত বছরের চেয়ে ৫শত হেক্টর জমিতে বোরো চাষের উৎপাদন বেশি হচ্ছে।এর মধ্যে ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ৫০,ব্রি-ধান ৬৫,ব্রি- ধান ৬৭, ব্রি-ধান ৮১ সহ হাইব্রিড মিনিকেট ধান চাষ হচ্ছে।
কৃষকরা জানান,প্রতিবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে।এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে।ফলে শীত এবং কুয়াশার প্রকোপ অনেক কম থাকায় বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে কম এবং চারাও সুস্থ সবল হয়েছে।যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এবছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৌতম কুমার শীল জানান,চলতি বছরের বোরো মৌসুমে ৪শত কৃষককে ১ বিঘা জমি প্রতি সার, বীজ সহায়তা প্রদান এবং ৯৩ জন কৃষক/কৃষানীকে এনএডিবির আওতায় সার,বীজ বিতরণসহ বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে চলতি বছর বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি কর্মকর্তা।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: