যশোর চুড়ামনকাঠি বেগুনী রংয়ের বাধাঁকপিতে সফল হয়েছেন চাষিরা

১ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৩৪:৫৬

মোঃলোকমান হোসেন(রানা), নিজস্ব প্রতিনিধি:-সৌন্দর্যের কোনো স্থান এবং কাল নেই।সৌন্দর্যের বিচিত্র সবুজ পাতার ভিতর বেগুনী রং।দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন একটি ফুল পাঁপড়ি মেলে ফুটে আছে।তবে তা কোন ফুল নয়।ঠিক এমনই সারিবন্ধ ভাবে কৃষকের ক্ষেতে দৃশ্যমান দাঁড়িয়ে আছে শত শত শীতকালীন সবজি বাঁধাকপি।যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা যাবে এমন দৃশ্য। যশোরে প্রথম এই বেগুনী কালারের বাধাঁকপি চাষ হচ্ছে।বেগুনী রঙের বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্য পাচ্ছে চাষিরা।প্রথম বছরে প্রায় ১২ বিঘা জমিতে এ জাতের সবজি চাষ হয়েছে।এখন প্রতি কেজি এ জাতের বাঁধাকপি কৃষক বিক্রি করছেন ২২টাকা দরে।

আর্থিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন তারা। আগামীতে বেগুনী রঙের বাঁধাকপির চাষ বাড়বে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তা।শীতকালীন সবজিগুলোর মধ্যে বাঁধাকপি অন্যতম। বাঁধাকপির ইংরেজি নাম Cabbage এবং বৈজ্ঞানিক নাম Brassica oleracea। বাঁধাকপি বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে যেমন গাঢ় সবুজ, হালকা সবুজ, সাদা, লাল ও বেগুনী। বাঁধাকপির আদি নিবাস ভূমধ্যসাগরীয় দক্ষিণ ইউরোপে। বাংলাদেশে ১৯৬০-এর দশকে এর চাষ শুরু হয়।সবজির জন খ্যাত যশোর চুড়ামনকাটি। এ এলাকায় শত শত বিঘা জমিতে সবজি আবদ হয়। তবে বেগুনী রংগের বাঁধা কপি আগে কখন চাষ হয়নি।কৃষক আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তার দুই বিঘা বাঁধা কপিতে উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।

ইতিমধ্যে তিনবারে ১ হাজার পিস কপি বাজারজাত করে দাম পেয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। ২২ টাকা দরে প্রতি কেজি কপি বিক্রি করেন। এখনো তার ক্ষেতে আনুমানিক ৯ হাজার পিস বাঁধাকপি রয়েছে।আমিন উদ্দিন আরো জানান, ভারতে বেড়াতে গিয়ে তিনি এই বাঁধা কপির বীজ কিনেছিলেন। এই জাতের বাঁধা কপির চাষ তিনিই প্রথম করেছিলেন।সবজি চাষি মনোয়ার হোসেন মিন্টু জানান, তারা প্রথমবারের মতো এই বাঁধাকপি চাষ করে বেশ সাড়া পেয়েছেন। তিনি আরো জানান, সাধারণ বাঁধা কপির চেয়ে এই কপিতে বেশি দাম পাচ্ছে। আবার ওজনেও বেশি।যশোর সদর চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের জগহাটি ব্লাকের উপসহকারি কৃষিকর্মকতা জহিরুল ইসলাম বলেন,বর্তমানে রেড় জুয়েল ও রুবি কিং এ দুই জাতের বেগুনী রংঙ্গের বাঁধা কপি উৎপাদিত হচ্ছে।যশোরে চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের পোলতাডাঙ্গা গ্রামের আমিন উদ্দিন ভারত থেকে এ জাতের বীজ আনেন।তবে বাণিজ্যিক ভাবে এ বছর প্রথম চাষ হচ্ছে।এ বছর আমিন উদ্দিন চাষ করছেন ২ বিঘা, বাবু ২ বিঘা,মিন্টু ২ বিঘা,বাগডাঙ্গা মনোয়ার হোসেন ১ বিঘা,শহিদুল ইসলাম ১ বিঘা,আব্দুল মান্নান ১ বিঘাসহ প্রায় এলাকায় ১২ বিঘা জমিতে বেগুনী রঙের বাঁধাকপির চাষ করেছেন। তিনি জানান, এ জাতের বাধাঁকপির ফলন বেশি হয়। এ সবজি চাষে জন্য কৃষককে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন জহিরুল ইসলাম। ফলে এ বছর ভাল উৎপাদন হয়েছে।
তিনি জানান, সবুজ বাঁধাকপি হেক্টরে ৭০ থেকে ৮০ টন উপাদিত হলেও বেগুনী বাঁধাকপি উৎপাদন হয় ৯০ থেকে ১০০ টন। আগামীতে চাষের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: