fbpx
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

লোকমান হোসেন রানা

নিজস্ব প্রতিনিধি (যশোর)

যশোর-২ :নৌকার প্রার্থী ডা.নাসির, মাঠে নেই ধানের শীষের প্রার্থী

২০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১৯:৪৩


মোঃলোকমান হোসেন(রানা),নিজস্ব প্রতিনিধি:-
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মেজর জেনারেল(অব.)অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ভোটের মাঠে নৌকার গণসংযোগে সরব স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সাবেক বর্তমান সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। পাড়া মহল্লায় মানুষের কাছে গিয়ে নৌকায় ভোট চাইছেন। অলিগলি সর্বত্র নৌকার গণসংযোগ চলছে। বিভিন্ন চিত্র ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায়। পোস্টার কিংবা গণসংযোগ কোথাও নেই ধানের শীষের প্রার্থী ও জামায়াত নেই মুহাদ্দি আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদাৎ হুসাইন। বিএনপির নেতাদের দাবি, সরকারি দলের নেতাকর্মীরা তাদের মাঠে নামতে দিচ্ছে না। ধানের শীষের কর্মীদের ওপর নির্যাতন চলছে। এজন্য তারা প্রচারণায় নেই।

যশোর-২ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগের মেজর জেনারেল (অব.)অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন (নৌকা),জামায়াতের আবু সাঈদ মোহাম্মদ শাহাদাৎ হুসাইন (ধানের শীষ),বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির বিএম সেলিম রেজা (কাঁঠাল), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মোঃআলাউদ্দিন(মই),ইসলামী আন্দোলনের মোঃআসাদুজ্জামান (হাতপাখা),গণফোরামের এম আসাদুজ্জামান(উদীয়মান সূর্য), জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহ্ (লাঙ্গল)।এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছে নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থী। নৌকার পক্ষে জমজমাট প্রচারণা থাকলেও মাঠে নেই ধানের শীষের প্রার্থীরা।আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা মান অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার প্রার্থী ডা. নাসির উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগ করছেন।

বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাড.মনিরুল ইসলাম মনির, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ভোটের মাঠে তৎপর হয়েছেন। এতে অনুসারীরাও নৌকাকে বিজয়ী করতে চাঙ্গা হয়েছে। দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে।
চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী, যুবলীগের আহবায়ক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়, ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুকুল, সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম নৌকা মার্কাকে জয়ী করতে গ্রাম গঞ্জে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। সাধারণ মানুষকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করছেন। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রচারণায় দুই উপজেলার সর্বত্র নৌকার জোয়ার উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী আশাবাদী এবারও নৌকা বিজয়ী হবে।

এই আসনে নৌকা মার্কার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াত নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাৎ হুসাইন। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জোটের শরিক হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তবে কয়েকদিন প্রচারণায় অংশ নিলেও বর্তমানে ধানের শীষের প্রার্থীকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। এমনকি নির্বাচনী এলাকায় নেই ধানের শীষের পোস্টারও। জামায়াতের প্রার্থী করায় বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপদে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির তৃণমূলের একাধিক নেতা জানান, হামলা মামলা নির্যাতন সহ্য করেছি। অনেক আশায় ছিলাম বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জোটের শরীক জামায়াত নেতাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ভোটের মাঠে এখন হয়রানির শেষ নেই। কিন্তু প্রার্থীকে কাছে পাচ্ছি না। আওয়ামী লীগ নেতা, প্রশাসনের নানা হয়রানি করছে। পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। যদি বিএনপির নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হতো, অন্তত পাশে পেতাম।

নানা কারণে প্রকাশ্যে ধানের শীষের নেতাকর্মীরা মাঠে নেই। তবে নিজেদের মধ্যে সার্বিক যোগাযোগ রয়েছে। নানা কৌশলে তারা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীদের মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে না। পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।মাইক ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এজন্য ধানের শীষের প্রার্থীর কোন প্রচারণা নেই।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: