করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৩,১৬৩ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৩ ◈ মোট সুস্থ্য : ১০৩,২২৭

যুবতী আদুরী এখন যুবক সানী ইসলাম, কাকতালীয় হলে ও সত্যি

৪ জুন ২০২০, ৯:২৩:৩৩

মাসুম বিল্লাহ, শরণখোলাঃ
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া গ্রামের আদুরী আক্তার (১৯) নামে এক যুবতী মেয়ে যুবকে পরিনত হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এখন এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার লোকজন আদুরী থেকে সানি ইসলামে পরিনত হওয়া যুবককে একনজর দেখতে বাড়ীতে ভীড় করছে। গত তিন বছর আগে যুবতী আদূরী থেকে যুবক সানিতে পরিনত হবার পরে বিবাহ বন্ধনেও আবদ্ধ হয়েছেন। তার স্ত্রী বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
আদূরী ওরফে সানী ইসলামের পিতা ছগির মুন্সী বলেন, ২০১০ সালে পরিবারের সবাইকে নিয়ে কাজের সন্ধানে চট্টগ্রামে গিয়ে ছোটোখাটো একটি ব্যবসা শুরু করি। এরপর ২০১৭ সালের দিকে হঠাৎ আদুরী মেয়েদের সঙ্গ দিতে শুরু করে এবং ছেলেদের মত আচরণ করতে থাকে। এসব দেখে আমার লজ্জা লাগে। এজন্য ওরে সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে থাকতে বলতাম। কিন্তু আদুরী কোনো কথাই শোনেনা। ওর এমন আচার আচরণ দেখে বিরক্ত হয়ে সবসময় বকাঝকা করলেও কোনো কাজ হয়নি। একদিন পাশের ঘরের ওর এক বান্ধবী এসে বলে আদুরী সত্যি ছেলে হয়ে গেছে। তারপর থেকে ও অন্য এলাকায় বাসা নিয়ে গার্মেন্টসে চাকুরী করে। আমারা আড়াই বছর আগে আদুরীকে চট্টগ্রামে রেখে পরিবারে সবাই বাড়িতে চলে আসি। এরপর গত ৫মে জানতে পারি আদুরী বিবাহ করেছে এবং বউ নিয়ে বাড়িতে আসতে চায়। ১০মে স্ত্রী পুতুলকে নিয়ে আদুরী মংলায় তার মামার বাসায় ওঠে। সেখানে দুদিন থাকার পর বাড়িতে আসলে করোনা পরিস্থিতির কারণে ওদের ১৪ দিন আমার বাবার বাড়িতে আলাদা থাকতে বলি। তবে আমি বাবা হয়ে ওর সম্পর্কে সবকিছু জেনে দেখলাম ও এখন আর আমাদের মেয়ে নাই পুরাপুরি ছেলে হয়েগেছে এবং ওর স্ত্রী এখন ৬ মাসের গর্ভবতী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জানতে চাইলে আদুরী ওরফে সানী জানান, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে থেকে আমার শরীরের ভেতর মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকে। আস্তে আস্তে লিঙ্গ পরিবর্তন হতে থাকে। এরপর প্রতিনিয়ত স্বপ্নদোষ হয়। এরকম করতে করতে এক পর্যায় আমি সম্পূর্ন পুরুষ হয়ে যাই। তবে একটা সমস্যা ছিলো, আমার ডান পাশে (অন্ডাকোষ) সপ্তাহে সপ্তাহে ব্যাথা করত। সেটা পরবর্তীতে ডাক্তার দেখালে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু আমার এ পরিবর্তন বাড়ির কেউ বিশ্বাস করতে চায়না। তাই গত দুই বছর আগে চট্রগামের রাউজানের ইসা মনি পুতুল (১৭) নামে একটি মেয়েকে তার পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ করি। এরপর আমার স্ত্রী গর্ভবতী হলে তাকে নিয়ে বাড়িতে আসি। যাতে সবাই বিশ্বাস করে যে আমি আর তাদের মেয়ে নাই।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও হরমোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রফিকুজ্জামান বলেন, আমরা সাধারণত ছেলে থেকে মেয়ে হতে চাওয়া রোগীদে ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে থাকি। তবে মেয়ে থেকে ছেলে হওয়া ক্রিটিক্যাল বিষয়। এটা কিভাবে হলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বলা যাবেনা। তবে মনে হচ্ছে বিষয়টি তার পরিবার আগে থেকে লুকিয়েছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: