করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ২,৯৯৬ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৩ ◈ মোট সুস্থ্য : ১৫১,৯৭২
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

রাজাপুরে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ করায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী !

৩০ জুন ২০২০, ৭:০৬:৩৩

কামরুল হাসান মুরাদ:: ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলায় অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ীদের চাপে দেশে চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে কাজ করে যাওয়ার মনোভাবে মানব সেবায় এগিয়ে আসা উপজেলার স্বানামধন্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ঔষধ সরবারহ বন্ধ রেখেছেন সকল ঔষধ কোম্পানি। ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ কোম্পানি ঔষধ সরবরাহ না করায় দূর-দূরান্ত থেকে ঔষধ এনে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান পরিচালক মোঃ আহসান হাবিব সোহাগ। স্বানামধন্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ঔষধ কোম্পানি ঔষধ সরবারহ বন্ধ রাখায় সাধারন মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

জানা যায়, বর্তমান দেশে চলমান করোনা ভাইরাসের কারনে বেশীর ভাগ মানুষ কর্মহীন হয়ে পরে মানুষের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিক পরিচালক মোঃ আহসান হাবিব সোহাগ সাধারন মানুষকে চিকিৎসা সেবায় সহযোগিতা করার লক্ষ্যে গত ২৪ মে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঔষধে বিশেষ মূল্যছাড় ও অপারেশনে ১০% মূল্য ছাড়ের ঘোষনা দেন। উক্ত ছাড়ের ঘোষনার পর রাজাপুর ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির লোক জন বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত ও হয়রানী শুরু করেন এবং ঔষধ কোম্পানিকে চাপ ও হুমকি দিয়ে ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিকে ্ঔষধ সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ কোম্পানি ঔষধ সরবরাহ না করায় দূর-দূরান্ত থেকে ঔষধ এনে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ কোম্পানিদের ঔষধ সরবরাহ না করায় সাধারন মানুষ বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এবিষয়ে ঔষধ কোম্পানি স্কয়ার এর রাজাপুর এমপিও নিজাম বলেন, ঔষধ ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন আছে বাংলাদেশ কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি। রাজাপুর কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি বরিশাল বিভাগীয় কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির মাধ্যমে কোম্পানিকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ দেওয়া হলে তারা টোটাল স্কয়ার কোম্পানির সাথে ব্যবসা বন্ধ করে দিবে। এটা শুধু স্কয়ারের জন্য না এটা সকল ঔষধ কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে। তাই বরিশাল অফিস থেকে আমাকে ঔষধ দিতে নিষেধ করে দিয়েছে, শুধু আমাকে না সকল কোম্পানির লোকদের ঔষধ দিতে নিষেধ করে দিয়েছে। ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ দিলে আমাদের গাড়ি আটকিয়ে দিবে ও ঔষধের বিল বন্ধ করে দিবে। ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিক দূর দূরন্ত থেকে ঔষধ এনে তাদের ব্যবসা চালিয়ে রাখছেন। কিন্তু আমরা ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ সরবরাহ করতে না পারায় ব্যবসায়ীক ক্ষতিগ্রস্থ্য হচ্ছি।
এবিষয়ে ইনসেপ্টা ঔষধ কোম্পানির এমপিও আলিম বলেন, বর্তমানে ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অফিস থেকে আমাকে ঔষধ দিতে বন্ধ করতে বলেছে তাই আমি ঔষধ দেওয়া বন্ধ করেছি। এবিষয়ে কিছু জানার থাকলে অফিসে যোগাযোগ করুন।

এবিষয়ে বেক্সিমকো ঔষুধ কোম্পানির এমপিও ওলিউল্লাহ বলেন, ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষুধ দেওয়া বন্ধ আছে এক মাসের উপরে। বরিশাল বিভাগীয় কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির থেকে আমাদের বরিশাল অফিসকে ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষুধ দেওয়ার জন্য নিষেধ করেছেন। বরিশাল অফিস থেকে আমাকে ইসলামিয়া ফার্মেসীতে ও সোহাগ ক্লিনিকে ঔষধ দিতে নিষেধ করেছে তাই আমি ঔষধ সরবরাহ বন্ধ রেখেছি।
ইসলামিয়া ফার্মেসী ও সোহাগ ক্লিনিক পরিচালক মোঃ আহসান হাবিব সোহাগ জানান, করোনা ভাইরাসে মানুষের অর্থ নৈতিক সংকট দেখা দিলে মানুষকে সহযোগিতা করার লক্ষে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে ঔষধে বিশেষ মুল্যছাড় ও অপারেশনে ১০% মুল্যছাড় দেবার ঘোষণা দেই। উক্ত ছাড়দেবার ঘোষণার পর থেকেই রাজাপুরের কিছু অসাধু ঔষধ ব্যাবসায়ী আমার সেবা কার্য বন্ধ করতে আমার দোকানে হামলা করে উল্টো আমি সহ আমার প্রতিষ্ঠানের ৮জন কর্মচারীর নামে ২ টি মিথ্যা মামলা করে এবং ঔষধ কম্পানির লোকদের ইসলামিয়া ও সোহাগক্লিনিকে ঔষধ দিতে নিষেধ করে, বলে ওখানে ঔষধ দিলে রাজাপুরের অন্য ঔষধ বিক্রিতা কেহই ঔষধ রাখবনা, আর রাজাপুরে চাকরি করতে দিবনা। এমনকি অনেক কোম্পানির ছেলে পানকে হুমকি ও মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে ঔষধ সিন্ডিকেট বাহিনী, আমি জনগনের সেবা করতে ও মিথ্যা মামলা দুটি প্রত্যাহারসহ ঔষধ সরবরাহের জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: