fbpx
প্রচ্ছদ / জীবনধারা / বিস্তারিত

কামরুল হাসান মুরাদ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি

রাজাপুরে শারীরিক প্রতিবন্ধী সিদ্দিক জীবনযুদ্ধে

৩ জানুয়ারি ২০১৯, ৭:১২:০০

প্রতিবন্ধী সিদ্দিক

কামরুল হাসান মুরাদ::
দুই পা আছে কিন্তুু উঠে দাঁড়াবার শক্তি নেই। তাতে কি? আত্মবিশ্বাস তো আছে। তাই তো জীবনযুদ্ধে দমে যাননি মোঃ সিদ্দিক হোসেন (৩০)। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার বাঘড়ি এলাকার আমির হোসেন হাওলাদার এর ৭ সন্তানের মধ্যে ছোট সিদ্দিক। ছোটবেলায় হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করেন তিনি।

তারপর থেকে হাটা-চলা ও কাজকর্ম করার কথা কখনও চিন্তা করতে পারেননি সিদ্দিক। হুইল চেয়ার যার একমাত্র ভরসা। কিন্তুু শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও জীবিকার তাগিদে কুটির শিল্পকে বেছে নিয়েছেন হাতিয়ার হিসেবে। পঙ্গুত্ব নিয়েই তিনি নেমে পড়েন জীবনের নতুন এক যুদ্ধে যেখানে তাকে সহযোগিতা করার মতো কেউ ছিল না!

কথা হয় প্রতিবন্ধী মোঃ সিদ্দিক হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, আমিও সবার মত স্বাভাবিক ছিলাম, আমি যখন ৩র্য় শ্রেনীতে লেখা-পড়া করি তখন হঠাৎ করে আমার জ্বর হয়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভাল না থাকায় সঠিক সময়ে উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ায় পঙ্গুত্ব জীবন শুরু হয়। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধী জীবন জাপন করছি। জীবন সাথীর জন্য প্রায় আড়াই বছর আগে বিবাহ করেছি। জীবন বাচানোর জন্য ভাইদের একটু সহযোগীতায় ছোট একটি চায়ের দোকান চালাই।

দোকান চালানোর কাজের ফাকে পেনসিল,ফোম,রং,জরি ইত্যাদি দিয়ে কুটির শিল্পের কাজ করে থাকি। কুটির শিল্পের তৈরি করা বিভিন্ন পন্য বিভিন্ন সময়ে বিক্রয় করে থাকি তাতে যে কয়টা টাকা পাই আর ছোট চায়ের দোকান থেকে যা পাই তা দিয়ে অনেক কষ্টো করে দুটি প্রান বাচিয়ে রাখতেছি। ১৮ বছরের প্রতিবন্ধী জীবনে মাত্র তিন মাস ধরে প্রতিবন্ধী ১টি ভাতা পাইতেছি। সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে কুটির শিল্পকে এগিয়ে নিতে সম্ভব হতো।
প্রতিবন্ধী সিদ্দিক

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: