রাজারহাটে মিষ্টি কুমড়ার বাম্পার ফলন খুশি কৃষক

২০ অক্টোবর ২০১৮, ৮:৩১:৫৩


এ.এস.লিমন রাজারহাট।।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বাড়ছে মিষ্টি কুমড়ার চাষ। সময়, শ্রম ও খরচ কম হওয়ায় প্রতিবছর এ সবজির চাষ বাড়ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এবার ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দামে খুশি কৃষক।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, এ বছর ৩৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট উপজেলা ছিনাই ইউনিয়নে ৭৫ হেক্টর, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে ৬০ হেক্টর, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে ৭৫ হেক্টরসহ অন্য ইউনিয়নে কম-বেশি মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়। গত বছর ২৬০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছিল।

মিষ্টি কুমড়া সুস্বাদু সবজি আর সারাবছরই পাওয়া যায়। মিষ্টি কুমড়া শাকও পুষ্টিকর খাদ্য। এই সবজির বীজ বোনার সময় শীতকালীন ফসলের জন্য অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এবং গ্রীষ্মকালীন ফসলের জন্য ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস। সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়ন সবজি এলাকা হিসেবে খ্যাত।

মৌসুমভিত্তিক ফসল চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে কীটনাশকমুক্ত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া চাষাবাদের জন্য সময়, শ্রম ও খরচ কম হওয়ার ফলে প্রতিবছরই আবাদ বাড়ছে।

রাজারহাট উপজেলার আজিজল ইসলাম বলেন, ৬শতক জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষাবাদ করি। হাল চাষ, সার, ওষুধ ও মাচাসহ আনুষঙ্গিক খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা। এর মধ্যে কিছু খেয়েছি আর ৮ হাজার টাকারর মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করি।

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপির করুনা বাবু বলেন মিষ্টি কুমড়া আবাদে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ১৬-১৮ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘায় প্রায় ১০০-১২০ মণের মতো উৎপাদন হয়। পাইকারি দরে ৮-১০ টাকা কেজিতে প্রতিটি কুমড়া বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। দাম আরেকটু বেশি হলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো। তাহলে আগামীতে আরও চাষাবাদ বৃদ্ধি হতো।

ছিনাই ইউপির আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমরা কোনো ফসলের ন্যায্য দাম পাই না। আমরা যে মিষ্টি কুমড়া ৮-১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে। কৃষকের চাইতে ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হয়। সবজিতে সরকার নজরদারি বাড়ালে আমরা কৃষকরা ন্যায্য দাম পেতাম এবং কিছুটা লাভবান হতে পারতাম।

রাজারহাট উপজেলার সদর বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী বাচ্চু বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া আঁড়তে নিয়ে আসে। এ এলাকার উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদাও বেশি। এই বাজার থেকে প্রতি সপ্তাহে ২০-২৫ মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

কৃষি অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, লাউ এর চেয়ে মিষ্টি কুমড়ার দাম বেশী তাই গত কয়েক বছর থেকে চাষিরা মাচা করে আবাদ করছেন। মিষ্টি কুমড়ার আবাদে সঠিক সময়ে পরাগায়ন হলে উৎপাদনও বৃদ্ধি পায়। মৌসুমভিত্তিক ফসল চাষের জন্য কৃষি অফিস থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ফলে কৃষকদের মাঝে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।#

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: