করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ১,৪৩৬ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩২ ◈ মোট সুস্থ্য : ২৭৫,৪৮৭
প্রচ্ছদ / ক্যাম্পাস / বিস্তারিত

রাজউকিয়ান’দের ঈদ ভাবনা

২৩ মে ২০২০, ৭:৪৫:৩০

ঈদ সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে এক করে তুলে সব মানুষকে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি আর ভ্রাতৃত্বের মহিমান্বিত আহ্বানে শান্তি-সুধায় ভরে উঠে প্রতিটি মানুষের হৃদয়।
এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময়টা দেশসেরা “রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ” এর শিক্ষার্থীরা কিভাবে পার করবে, তা নিয়ে থাকছে রাজউকিয়ান’দের ঈদ ভাবনা:

“এবারের ঈদের আনন্দ পরবর্তী বছরের জন্য রইল”

ঈদের আনন্দ সত্যি একটা অন্য রকম অনুভূতি। যা লেখে প্রকাশ করার মত না। যদিও সবাই বলে বড়দের চেয়ে ছোটদের আনন্দ সবচেয়ে বেশি। হ্যাঁ আনন্দটা সত্যিই বেশি থাকে।
কিন্তু দুঃখ হচ্ছে এবারের ঈদের সমস্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক সময়ের মত হবে না। এর সবটাই আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য। দেশের এবং দেশের মানুষের অবস্থা ভালো বলবার মত নয়। কারণ কোভিড১৯ এ আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে বাংলাদেশে। সৃষ্টিকর্তা অবস্থা স্বাভাবিক করে দিক এই প্রার্থনা করি। আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন থাকি, ইনশাল্লাহ আমরা কঠিন অবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারব।
এই ঈদে সময়ে আমার পরিবার এবং আমার বড় ভাইয়ের সাহায্যে বেশ কিছু অসহায় দরিদ্র মানুষের হাতে কিছু খাদ্য সামগ্রী তুলে দিতে পেরেছি। তার জন্য খুবই মন থেকে আনন্দিত। সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে নিজ নিজ সাধ্যমত আপনার পাশের দরিদ্র মানুষটির সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করুন।
আর কখনই ঈদ উপলক্ষ্যে কেনাকাটা করি না। কারণ সবসময় একটা বিষয় আমার দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতাম যে কোনো দরিদ্র মানুষ হয়ত বা নতুন কাপড় নতুন জুতো ছাড়া ঈদ করছে। তারা করতে পারলে আমি পারব না কেন!.
মসজিদে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে, নামাজ পরে সোজা বাসায় চলে আসব। মা-বাবা, বোন এর সাথে বাসায় সারাদিন সময় কাটাব। ভাইয়া বাসায় থাকলে যদিও বা আনন্দটা একটু বেশি হতো, মোটরসাইকেল দিয়ে ঘুরাঘুরির জন্য। বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন সবার সাথে ফোনে কথা বলব, শুভেচ্ছা বিনিময় করব।
ঈদের দিন গ্রামের বাড়িতে যেতাম, কিন্তু এবারের ঈদে যাওয়া যাবে, তার জন্য একটু মন খারাপ লাগছে।
কষ্ট হলেও এবারের ঈদের আনন্দটা পরবর্তী বছরের তুলে রাখলাম, তখন না হয় সব অানন্দ একসাথে উপভোগ করব।

এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ।

“”কোয়ারেন্টাইনে কাটবে এবারের ঈদ””

ঈদ মানেই খুশি। ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ মানে পরিবার-পরিজন নিয়ে একটি উৎসবমুখর দিন কাটানো। তবে, এবারের চিত্রটা অন্যরকম। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের মহামারিতে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব, সেই সাথে আমাদের বাংলাদেশও। এই ভাইরাসের মরণ থাবা থেকে বাঁচতে দেশের সবকিছু দীর্ঘ কয়েকমাস যাবৎ বন্ধ। এতে দুর্ভোগে পড়েছে অনেক অসহায় ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষ। জীবিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভাব-অনটনে তাদের দিন কাটছে। আর আমার দিন কাটছে সারাদিন বাসায় বসেই। বাসায় নামাজ পড়া, বই পড়া, পরীক্ষার পড়া, টুকটাক কাজ করা, ছাদে বাগানের পরিচর্যা করা ইত্যাদি ঘরের কাজগুলোই করা হচ্ছে। এভাবেই বাসায় বসে বসে অলস সময় পার করছি। সেই সাথে মানবসেবা মূলক বিভিন্ন সংগঠনে সাহায্য-সহযোগিতা করছি। নিজ উদ্যোগেও সাহায্য করেছি এবং এখনও করছি। এ সাহায্যগুলো করে অসহায় মানুষের কষ্ট কিছুটা কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি।
যেহেতু করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের মানুষের মৃত্যু সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তাই আমার কাছে এবারের ঈদটা কিছুটা নয় পুরোটই অন্যরকম। প্রতিবারের মতো এবার আর ঈদের আমেজটা মনে আসছেনা। আগে যেমন সবাই মিলে একসাথে ঈদের দিন কাটাতাম( ঈদের নামাজ পড়তাম, খাওয়া-দাওয়া করতাম, ঘুরোঘুরি করতাম)। আর এইবার একা একাই ছোট পরিসরে ঈদ কাটাব। কখনো ভাবিওনি যে এভাবে একদিন ঈদ পালন করতে হবে। আগে যেমন ঈদ আসলেই তার আগ দিয়ে কার জন্য কি কিনব, নিজের জন্য কি কিনব এ নিয়ে পাগল হয়ে যেতাম। কিন্তু এবার কেনার আগ্রহও হয়নি। সেজন্য এবার কিছু কিনিও নিই।
যাই হোক, এবারের ঈদটা আমার জীবনের একটা নতুন অভিজ্ঞতা হবে কারণ এরকম মনমরা-আমেজহীন-বিষাদময় ঈদ কখনো কাটায়নি।
তো পরিশেষে, একটা কথাই বলব, সবাই ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন। নিজেকে ও পরিবারকে বাঁচাতে এই ঈদে লোক সমাগমপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে বাসাতেই থাকুন৷ ঈদের এ খুশি আবার ফিরে আসুক সবার মাঝে এই প্রার্থনা করি। সবশেষে অন্তরের অন্তস্থল থেকে সবাইকে জানাই আমার পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

“ভালো থাকুক সবাই ঈদ উপলক্ষ্যে এটাই প্রত্যাশা “

ঈদ মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি উৎসব , এক মাস সিয়াম সাধনার পর সব আত্নীয় স্বজন মিলে একসাথে গ্রামের বাড়িতে একত্রিত হওয়া ইদের চাঁদ দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকা ,সারা দিন একসাথে কাটানো , বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া , ইদের নামাজ পড়তে যাওয়া, বড়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত সালামি আমার কাছে ইদ মানে এটাই সারা দিন আনন্দ_-আড্ডা মজা এসব ।
তবে এবারের ইদ পুরোটাই ভিন্ন , না বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়া না আত্নীয়- স্বজনদের সাথে আড্ডা সব করা মানা , এবার শুধু নিজের জন্য ভাবলে হবে না , সবার কথা ভেবে আগের মতো পরিবারের সাথে কোথায় ঘুরতে যাওয়া ও বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া মানা ।
তবে এবারের ঈদের পরিকল্পনাটা একটূ ভিন্ন। আগে ঈদের সময় সকালে উঠে সালামির জন্য বের হতাম এবার আমাদের অনুসন্ধিৎসু চক্র ক্লাব থেকে প্রায় ১০০ পরিবারের জন্য খাবারের আয়োজন করেছি সেখান থেকে কিছু অংশ নামাজের আগে আমাদের গ্রামের কিছু গরীব মানুষদের মাঝে বিতরণ করবো। এবার নাহয় সালামির অংশটা তাদের মধ্যে যাক। শুনেছি সামাজিক দূরত্ব মেনে গ্রামের মসজিদে ইদের জামাতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে , তবে থাকছে না আগের মতো উৎসব মুখর পরিবেশ ।
সারা বিশ্ব যখন করোনা মহামারিতে আক্রান্ত সেসময় ইদের অানন্দ করা টা বোকামি। অানন্দ না থাকলেও মন খারাপ করে বসে থাকা যাবে না । ভাবে রেখেছি নেটের অবস্থা ভালো থাকলে বন্ধুদের সাথে এবার অনলাইনে আড্ডা হবে, তবে সেটাও সময়ের উপর নির্ভর করছে ।
তবে আশা একটাই সবাই যেন ভালো থাকি সুস্থ থাকি আর সামনের ইদে যেন সারা বিশ্বের মুসলিম সহ আমরা সবাই প্রকৃত ইদের আনন্দ উপভোগ করতে পারি , পৃথিবী সুস্থ হয়ে উঠুক ।

একাদশ, মানবিক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ।

“বছরের ভিন্ন রকম ঈদ”

ঈদ,শব্দটি প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বহন করে এক রাশ খুশি এবং শিক্ষা।সারা বিশ্বের সকল মুসলমান এক সাথে সিয়াম পালন করে আল্লাহর প্রতি অনুগত্য হয়ে সিয়ামের সার্থকতাকে ছড়িয়ে দেয় বিশ্বব্যাপী।আর সেই শিক্ষার আনুষ্ঠানিক রূপই হলো ঈদ।এই ধরুন,আমরা আমাদের জীবনে পরীক্ষা দেওয়ার পর যখন সাফল্য অর্জন করি তখন উৎসবমুখর পরিবেশের আয়োজন করি, মিলাদ দিই,সবাইকে দোয়া করতে বলি আরও কত কি।ঠিক তেমনি দীর্ঘ ১ মাস সিয়াম সাধনার পরে আল্লাহর কাছে সকল পরীক্ষা দিয়ে, সিয়ামের তাৎপর্য নিজের অন্তস্থলে অন্তর্ভুক্ত করে ঈদ উৎযাপন করি।নামাযে একই কাতারে দাঁড়িয়ে জাত পাত ভুলে গিয়ে এক হয়ে যাই,কোলাকুলি করি,দরিদ্রকে সহায়তা করি।শিশুরা নতুন জামা পরে সালাম করে বড়দের,মায়েরা ঘরে সেমাই রাঁধে,শিশুরা যায় মেলায়।কত আয়োজন,কত আমোদ প্রমোদ!সবই তো এই ঈদকে ঘিরেই।

তবে এবারের ঈদ টা হয়তো অন্যরকম হবে।সালটা হয়তো আজীবন সকলের মনে থাকবে। হ্যাঁ , ২০২০ সাল।করোনা নামক এক সংক্রমণের থাবায় গোটা বিশ্ব থেমে গিয়েছে। এবারের ঈদে হয়তো কোলাকুলি হবে না,শিশুরা রং বেরঙের জামা পরে মেলায় যেতে পারবে না,ঈদ কার্ড দিয়ে বন্ধুকে জড়িয়ে বলতে পারবে না ‘ঈদ মোবারক’।

এসব কিছুই এবার হবে না শুধু আমাদের ভালো থাকার জন্য, চারপাশের মানুষকে ভালো রাখার জন্য।
কিন্তু আমরা কি ভুল যাব আমাদের শিক্ষা,গোটা ১ মাসের সিয়াম সাধনা করে পাওয়া সেই শিক্ষা।কখনোই না।বরং এই বিপদে এক হয়ে সবাই বাঁচতে এবং বাঁচাতে চেষ্টা করব।এই ঈদে না হয় এবার উৎসব হলো না,কিন্তু দরিদ্রদের উদার জ্বালা অনুভব করেছি।তাই এই ঈদে আমার প্রত্যয়, এই দুর্যোগের সময় অন্তত একটি পরিবারকে বাঁচাব।আমার আশে পাশে যারা আছে তাদের সচেতন করব।এটাই হবে আমার সাফল্যের জন্য জাগরণের উৎসব।

একাদশ, মানবিক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ।

“অন্য রকম ঈদ, ভালো থাকুক দেশ”

ঈদ মানেই আনন্দ। ঈদ কথাটা শুনতেই মনের মধ্যে এক আনন্দ অনুভুতি কাজ করে। খুশিতে মনটা নেচে উঠে। অন্যান্য সময় ঈদের খুশি পরিবার পরিজনদের সাথে ভাগ করে নেয়ার জন্য চলে যেতাম নিজের সেই চিরচেনা ভূমিতে।এছাড়াও ঈদের নতুন জামা কেনার আমেজ তো ছিলই। কিন্তু এবারের ঈদটা অন্যান্য বারের তুলনায় না হয় একটু ভিন্ন ভাবেই করলাম বাসায় থেকে। কেননা আমার মাতৃভুমি যে এক অজানা ছোঁয়াচে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। ফলে সবকিছু কেমন যেনো উলটপালট করে দিয়েছে। দিন দিন মানুষের মৃত্যু ও আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। সকলে ঘর বন্দি । আমিও এর ব্যতিক্রম নই। আমিও আমার এই কোয়ারেন্টাইন এর দিনগুলিতে আম্মুকে টুকটাক কাজে সাহায্য করছি, এছাড়া ছোটভাইকে নিয়মিত পড়াচ্ছি ও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্রদের সাহায্য করছি।এবারের ঈদটা না হয় দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে বাসায় বসে কাটালাম।
তাও আমার দেশটা সুস্থ হয়ে উঠুক। আমরা সবাই সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলব। অযথা বাড়ি থেকে বের হব না । কেননা দেশটাকে এই ছোঁয়াছে ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমার, আপনার ও সকলের।
সকলে ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক এটাই আমার প্রত্যাশা।

এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২০
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: