করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ১,৫৮৬ ◈ আজকে মৃত্যু : ১৪ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩১২,০৬৫
প্রচ্ছদ / সারাবিশ্ব / বিস্তারিত

লোহাগড়ায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি বিলুপ্তির পথে

১৪ অক্টোবর ২০২০, ৭:০৩:৪৪

জহুরুল হক মিলু, লোহাগড়া (নড়াইল) \
প্রতিনিধি
গ্রাম বাংলার তরুণী-নববধূ ও কৃষাণীদের কণ্ঠে ‘ও বউ ধান
ভানে রে, ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, ঢেঁকি নাচে বউ নাচে,
হেলিয়া দুলিয়া,ও বউ ধান ভানে রে…… এ রকম গান আর শোনা
যায় না। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে
কৃষাণীদের ঘরে ধানের নতুন চাল ভাঙ্গা বা চাল গুঁড়া করা, আর
সে চাল দিয়ে পিঠা, পুলি, ফিরনি, পায়েশ তৈরী করার ধুম পড়ে
যায়। এছাড়াও নবান্ন উৎসব, বিয়ে, ঈদ ও পূজায় ঢেঁকিতে
ধান ভাঙ্গে আটা তৈরীর সময় গ্রাম্যবধূরা গান গাইতে থাকেন।
চারদিকে পড়ে যায় হৈ-চৈ। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন যেন
শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি
আগের মত আর চোখে পড়ে না। এক সময় ছিল ঢেঁকি গ্রাম
জনপদে চাল ও চালের গুঁড়া-আটা তৈরীর একমাত্র মাধ্যম। বধূরা কাজ
করতো গভীর রাত থেকে ভোর সকাল পর্যন্ত। এখন ঢেঁকির সেই
ধুপধাপ শব্দ আর শোনা যায় না। বর্তমানে আধুনিকতার
ছোঁয়ায় লোহাগড়া উপজেলায় ঢেঁকির শব্দ আর নেই।
লোহাগড়া উপজেলায় ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে। ফলে বিলুপ্তির
পথে গ্রামীণ জনপদের কাঠের তৈরী ঢেঁকি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে
যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানেও ঢেঁকির ব্যবহার কমেছে। তবুও
গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে কেউ কেউ বাড়ীতে ঢেঁকি
রাখলেও তারা ব্যবহার করছে না। তবে আবার কেউ কেউ দরিদ্র
নারীদের দিন মজুরী দিয়ে ঢেঁকিতে ধান-চাল বা আটা তৈরী
করতে দেখা গেছে। সেখানে একটু হলেও ধুপধাপ শব্দ শোনা
গেছে। ঢেঁকি শিল্প হলেও এ শিল্পকে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ
নেই। এক সময় ঢেঁকি শিল্পের বেশ কদর ছিল। যখন মানুষ

ঢেঁকিতে ধান ও চাল ভেঙ্গে চিড়া-আটা তৈরী করে জীবিকা
নির্বাহ করতো। তবে কৃষকের ঘরে এখন আর ঢেঁকি চোখে
পড়ে না। তেল-বিদ্যুৎ চালিত মেশিন দিয়ে ধান ও চাল ভাঙ্গার ফলে
ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে। সে সময়ে কবি-সাহিত্যিকগণ
ঢেঁকি কে নিয়ে অনেক কবিতা ও গান লিখেছেন। আর ঢেঁকি
ছাঁটা আউশ চালের পান্তা ভাত পুষ্টিমান ও খেতে খুব স্বাদ
লাগতো। বর্তমান প্রজন্ম সে স্বাদ থেকে বঞ্চিত। প্রাচীনকালে
ঢেঁকির ব্যবহার বেশী হলেও বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির
ব্যবহারের ফলে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে।
লোহাগড়া উপজেলার মরিচ পাশা গ্রামের গৃহবধূ মোছাঃ
স্বপ্না বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকেই ঢেঁকি দিয়ে বিভিন্ন
খাদ্যদ্রবাদি মাড়াই করেছি। আগে প্রতিদিনই বিভিন্ন
এলাকা থেকে লোকজন ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করতে
আসত। কিন্তু এখন আর তেমন কেউ আসে না। এখন সবাই
মেশিনে চাল মাড়াই করে। তাই এখন আর ঢেঁকির কদর নেই।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ^াস বলেন,
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গ্রাম বাংলায় ঢেঁকির
ব্যবহার কমে গেছে। তবে ঢেঁকি আমাদের একটি প্রাচীন
ঐতিহ্য। সে জন্য এ ঢেঁকি শিল্প রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য সকলের
সহযোগিতা ও গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: