করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৪০৭ ◈ আজকে মৃত্যু : ৫ ◈ মোট সুস্থ্য : ৪৯৬,১০৭
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

শরণখোলায় অবৈধ ইট ভাটার রমরমা ব্যবসা

২০ জানুয়ারি ২০২১, ৩:৫৪:৪৭

মাসুম বিল্লাহঃ
পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা প্রশাসনের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই বাগেরহাটের শরণখোলায় অবৈধ ইট ভাটার রমরমা ব্যবসা শুরু করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সরকারী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নানা প্রজাতির কাঠ ব্যবহার করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৫/৩০টি ইটের পাঁজা স্থাপন করেছে প্রভাবশালীরা।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরা প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ম্যানেজ করে অলিখিত অনুমতি নিয়ে আবাসিক, ঘনবসতিপূর্ন এলাকা, স্কুল-কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকা ও ফসলী জমি দখল করে ইটের পাঁজা স্থাপন করে ব্যবসা করছে চক্রটি এবং দেশীয় মূল্যবান বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ সহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল সুন্দরবনের নানা প্রজাতির কাঠ পোড়াচ্ছে। ইট পোড়ানোর কালো ধোঁয়ায় আশে পাশের গাছপালা শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার দূষনে পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দারাও। অবৈধ ইট কারবারীদের এমন আচরনে স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষুব্ধ হলেও রহস্যজনক কারনে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা। পোড়ানো ইটের পাঁজার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া এবং আগুনের তাপে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর সবুজ বনজ সম্পদ ও নানা প্রজাতির ফলজ গাছ। যার ফলে মাটির উর্ভরতা দিন দিন হ্রাস পাওয়ার আশংকা কৃষিবিদদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বাস কষ্ট জনিত রোগের প্রভাব ছড়িয়ে শিশু সহ বয়স্ক ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। যার ফলে হুমকির মুখে পড়তে পারে উপকুলীয় জনস্বাস্থ্য।
ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রন অধ্যাদেশ ১৯৮৯ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও আবাসিক এলাকার ৩ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কোন ধরনের ইটের ভাটা বা পাঁজা স্থাপন করার নিয়ম না থাকলেও তার তোয়াক্কা না করে এবং পরিবেশ সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অনুমতি, ছাড়পত্র কিংবা কোন ধরনের অনুমতি ছাড়াই জনস্বাস্থ্য ও ফসলী জমির জন্য চরম ক্ষতিকর ইটের পাঁজা নির্মান করে রমরমা ব্যবসা চালালেও সংশ্লিষ্টদের ঘুম ভাঙ্গছেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অবৈধ ইট ভাটার কর্মযজ্ঞের সাথে উপজেলার মোঃ মজিবর হাওলাদার, লিটু জোমাদ্দার, আসাদ খাঁন, মোঃ লোকমান হাওলাদার, মোঃ শামীম ফরাজী, মোঃ বারী শরীফ, মোঃ জামাল হাওলাদার সহ উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইট ভাটা ব্যবসার সাথে জড়িত এবং ফসলী জমির মাটি কেটে ইট তৈরি করছেন।
ইট ভাটা মালিক মোঃ মজিবর রহমান হাওলাদার বলেন, ইট পোড়ানোর জন্য আমাদের কোন অনুমতি নাই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার কয়েক জন সমাজ সেবক বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন অনৈতিক কর্মকান্ড কোন ভাবেই চলতে দেওয়া ঠিক নয়। ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কারনে শাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগ বৃদ্ধি পেতে পারে। ইট-ভাটা ব্যবসার প্রচলন করে গেছেন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি একটি বে-সরকারী স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তৎকালীন সময় উপজেলার বিভিন্ন ভাটা হতে হাজার হাজার ইট উপঢৌকন হিসাবে গ্রহন করেন।

শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওয়াসিম উদ্দিন বলেন, ফসলী জমিতে ইট ভাটা স্থাপন করলে মাটির কার্যকারিতা হারিয়ে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয় যার ফলে ফসল উৎপাদন ব্যহত হয়। এমনকি আশে পাশের জমিতেও এর ব্যাপক ভাবে প্রভাব পড়ে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, ইট পোড়ানোর জন্য কাউকে অনুমতি দেয়া হয়নি। খোঁজ খবর নিয়ে অবৈধ ইট ভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে ।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: