করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৭২১,৪৩৫
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

শরণখোলায় দোকান বরাদ্ধ নিয়ে মালিক ও ভাড়াটিয়া দ্বন্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা!

১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪:১২:৩৪

মাসুম বিল্লাহঃ
বাগেরহাটের শরনখোলায় একটি মার্কেটের দোকান বরাদ্ধ নিয়ে মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভাড়াটিয়া ও মালিক পক্ষ উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে শরনখোলা থানায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
উপজেলা আওয়ামীলীগের (প্রয়াত) সাধারন সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর কবির বাবুলের সহধর্মিনী মিসেস হেনা কবির সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকায় অবস্থিত তার স্বামীর রেখে যাওয়া বাবুল সুপার মার্কেটের ০১, ০৩, ১১ ও ১২ নং দোকান ঘর নুতন করে ভাড়া দেওয়ার জন্য মার্কেটের বর্তমান একক মালিক তার বড় মেয়ে তানিয়া আক্তার সাথী, উপজেলার উত্তর কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা মৃত. কার্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে এবং ওই মার্কেটের ভাড়াটিয়া শ্রী বিলাশ চন্দ্র রায় কালু, রাজৈর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদুর রহমান হাওলাদারের ছেলে একই মার্কেটের ভাড়াটিয়া দন্ত চিকিৎসক আবু ছালেহকে দোকান ঘর চারটি ছেড়ে দিতে বলেন। ১লা বৈশাখের মধ্যে দোকন ঘরগুলো না ছেড়ে তারা নুতন একটি ভুয়া চুক্তি নামা বের করে দোকান চারটি দখলে রাখার চেষ্টা শুরু করেন। ওই বিষয় নিয়ে চলতি মাসের ১৩ এপ্রিল সকালে ভাড়াটিয়া বিলাশ রায় কালু ও আবু ছালের নেতৃত্বে একদল বখাটে তাকে সহ তার মেয়ে সাথীকে কুরুচিপুর্ন ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন। এ সময় তারা প্রতিবাদ করলে বখাটেরা চাকু ও লোহার রড় নিয়ে তাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্য পিছন থেকে ধাওয়া করেন। জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু বিলাশ রায় কালু নগদ ৮০ হাজার টাকা সহ তার মেয়ের হাতে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় এবং সাথীকে লাঞ্চিত করেন। ওই সময় কালু বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দোকান ঘর দাবী করলে তোদের পরিবারের সবাইকে হত্যা করব। তাই জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি বিলাশ রায় কালু ও আবু ছালেহ সহ চার জনের বিরুদ্ধে গত ১৬ এপ্রিল শরনখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ব্যবসায়ী বিলাশ রায় কালু ও চিকিৎসক ডা. আবু ছালেহ দাবী করেন, বাবুল মার্কেটের (সাবেক মালিক) মরহুম জাহাঙ্গীর কবির বাবুল বেঁচে থাকাকালীন সময় আমাদেরকে ১০ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি দিয়ে গেছেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার বড় মেয়ে সাথী বেগম তা মানেন না। তাই কালু বাবুল সাহেবের ছোট মেয়ে সাদিয়া সুলতানা বিথির কাছ থেকে এ বছর ওই দোকানের নুতন একটি চুক্তি নামা নেন। কারন সে ও মার্কেটের ৫০ভাগের মালিক। এসব বিষয় নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল সাথী ও তার মায়ের সাথে আমাদের কথার কাটাকাটি শুরু হলে সাথীর ইন্ধনে আমাদের দোকানে অতর্কিত হামলা চালান হয়। এ সময় হামলাকারীরা টাকা পয়সা সহ মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তানিয়া আকতার সাথী সহ ৫জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি শরনখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী ও ভাড়াটিয়া বিলাশ রায় কালু।
বিথী বলেন, যেহেতু ওই মার্কেটের মূল মালিক ছিলেন আমার বাবা জাহাঙ্গীর কবির বাবুল সেহেতু ওখানে আমারও অধিকার আছে। তাই আমি ওই দোকান চারটি ভাড়া দিতেই পারি। তাছাড়া বাবার রেখে যাওয়া সকল সম্পত্তির অংশ বুঝে পাওয়ার জন্য আমি ইতিমধ্যে বাগেরহাট আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেছি।

অন্যদিকে, সাথী বলেন, বাবার মৃত্যুর আগে দেওয়া উইল অনুযায়ী আমার ছোট বোন মার্কেটে পাঁচটি রুম পেয়েছেন কিন্তু মার্কেটটি নির্মানের সময় সে এক পয়সাও দিতে পারেনি। এছাড়া ব্যাংক লোন সহ অন্যান্য সকল দেনা পাওনা আমি ও আমার কোরিয়া প্রবাসী স্বামী পরিশোধ করেছি। তাই বিথির অংশের দেনা পরিশোধের জন্য তার দোকানগুলো ১৫ বছরের জন্য আমার কাছে বন্ধক রেখেছেন। মেয়াদ শেষে তিনি তা ফিরে পাবেন। সুতরাং মার্কেটের সকল দোকানের মালিকানা বর্তমানে আমার। ওই ভাড়াটিয়াদের ব্যবসা করতে চাইলে আমার সাথে তাদের চুক্তি করতে হবে। আমার বাবা মারা যাওয়ার প্রায় দেড় বছর পর কালু ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে দোকানগুলো দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। তাছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে বিথী ও তার চক্রের উত্থাপিত সকল অভিযোগ কাল্পনিক। আমাদের পরিবারকে হয়রানি করার উদ্দ্যেশ্যে বিথীর ইন্ধনে কালু মিথ্যা নাটকের সৃষ্টি করে আমাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরনখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, উভয় পক্ষের মামলা রেকর্ড হয়েছে। বিষয়টি গভীর ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: