করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬০২,৯০৮
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

শরণখোলায় নিহত লাকীর মেয়েদের দায়িত্ব নেবে কে ?

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১:২৩:০৫

মাসুম বিল্লাহঃ
কুরসিয়া (১২), তায়েবা (৯) ও রোজিনা (৬) তিন বোনের জীবন এখন মেঘাছন্ন। বাবা নজীর আহম্মেদ পেশায় ছিলেন একজন জেলে। সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে ২০১২ সালে দস্যুদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। মহাজন পক্ষ সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় দেহের মধ্যে গুলি বহন করে পঙ্গুত্ব জীবন যাপন সহ ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরবিদায় নেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর মায়ের আঁচল তলে মাথা গোঁজার স্বপ্ন দেখছিলেন যে মেয়েরা পিতার মৃত্যুর সাড়ে তিন মাসের মধ্যে তিন সন্তানকে আগলে রাখা মা লাকী বেগমও তাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেলেন। যার কারনে তাদের জীবন এখন অন্ধকারে ঢাকা পড়ার আশংঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন একটাই প্রশ্ন নজীর ও লাকীর রেখে যাওয়া তিন মেয়েকে দেখভাল করা ও মানুষ হিসেবে গড়ার দ্ধায়িত্ব এখন কার?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি দুবৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলে মৃত. নজীর আহম্মেদের স্ত্রী ৩ সন্তানের জননী লাকী বেগম (৩৫)। ২০, ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় শরনখোলা থানা পুলিশ উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রামের একটি ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ময়না তদন্তকালে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাকীর পরিচয় নিশ্চিত হন আইনশৃংখলা বাহিনী। তবে পুলিশ বলছে, নৃশংস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যে সাড়াশি অভিযানে মাঠে নেমেছেন তারা। অপরদিকে, লাকী হত্যাকান্ডের পর এলাকা থেকে সটকে পড়েছে তার দ্বিতীয় স্বামী উপজেলার ছোট নলবুনিয়া (গাজীর ব্রীজ) এলাকার বাসিন্দা মো. বাদশা সরদারের ছেলে ভ্যান চালক মো. আব্দুস ছালাম সরদার (৩৮)।

নিহত লাকীর ভাই ব্যবসায়ী মো.মহিদুল হাওলাদার বলেন, আমার বোনের স্বামী নজীর অসুস্থ্য হলে তার সংসারে অভাব দেখা দেয়। সেই সুযোগ নিয়ে প্রতারক ছালাম লাকীকে ফুসলিয়ে বিয়ে করেন। কিন্তু বিষয়টি আমরা মেনে নেইনি। এ নিয়ে কয়েক বার ছালামের সাথে আমাদের ঝগড়া-বিবাদ ও হয়েছে। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তার পরেও লাকীর পিছু ছাড়েনি ছালাম। লাশ উদ্ধারের দুই দিন আগে ছালামের সাথে লাকীকে ঘুরতে দেখেছেন স্থানীয়রা। আমার বোনকে হত্যার পিছনে প্রতারক ছালামের হাত থাকতে পারে বলে তিনি দাবী করেন। তা না হলে ঘটনার পর ছালাম পালালো কেন। বোনের রেখে যাওয়া অনাথ মেয়েদেরকে আমি যেন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি সে জন্য দোয়া করবেন বলে মন্তব্য করেন মহিদুল।

লাকী বেগমের মেজ মেয়ে মোসা. তায়েবা আকতার বলেন, ১৮, ফেব্রুয়ারী মায়ের কাছে একটি ফোন আসে। তখন মা বলে তোরা বাসায় থাকিস, আমি জরুরী এক জায়গায় যাই বিকালে ফিরে আসব। তারপর সন্ধ্যা হতে মায়ের মোবাইল বন্ধ। ২১ ফেব্রুয়ারী বিকালে খবর পাই মায়রে মানুষেরা মাইরা হালাইছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেন খাঁন বলেন, জেলে নজীর ডাকাতের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে অসুস্থ হওয়ার পর ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। তার পরিবারে অভাব থাকার কারনে সরকারী সাহায্য ছাড়াও আমি বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত ভাবে পরিবারটিকে সাহায্য করতাম। এছাড়া ছালাম ও লাকীর দন্ধের ব্যাপারে কয়েক বার সালিশ বৈঠকও করেছি। অসহায় এই মহিলাকে হত্যা করার কোন কারন দেখিনা না। এখন মেয়ে তিনটিকে দেখাশুনা করার মতো তাদের মামা মহিদুল ছাড়া আর কেউ নাই।

ছালামের প্রথম স্ত্রী মোসা. রোখসানা বেগম বলেন, লাকী আমার স্বামীকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করার পর আমাদের সংসার ভাঙ্গতে চেয়ে ছিলেন। বিয়ের খবর শুনে আমি ওই সময় থানায় ছালামের বিরুদ্ধে কেস করি। তারপর লাকীকে ছালাম তালাক দিয়েছে। ওর সাথে আমার স্বামীর কোন সম্পর্ক ছিল না। তাড়াছা সে কোথাও পালিয়ে যায়নি। তাদের গ্রামের বাড়ী ভান্ডারিয়া গেছে। তাকে হয়রানি করার জন্য লাকীর আত্মীয়রা ছালামের নামে মিথ্যা অভিযোগ রটিয়েছে।

এ ব্যাপারে শরনখোলা সরকারী কলেজের রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, অসহায় ওই শিশুদের এখন দেখভালের দ্বায়িত্ব কেবল রাষ্টের নয়। সমাজ সচেতন মানুষদেরও দায়িত্ব রয়েছে। তবে, মৌলিক অধিকার পুরনে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের দায়ভার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমাজের বিত্তশালী ব্যাক্তি ও নিকট আত্মীয় সহ প্রতিবেশিদের এগিয়ে আসা উচিত।

লাকী হত্যার বিষয়ে বাগেরহাট জেলা (অতিরিক্ত) পুলিশ সুপার মীর সাফিন মাহমুদ জানান, ইতিমধ্যে লাকী হত্যাকান্ডের অনেকটা অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহুর্তে সুনিদৃষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। আশা করা হচ্ছে শীঘ্রই হত্যার রহস্য উম্মোচিত হবে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: