করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ২,২৫২ ◈ আজকে মৃত্যু : ২৪ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩৯০,৯৫১
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

“শরণখোলায় পানি বন্দী সাড়ে ৬ হাজার পরিবার” ‍মৎস্য ঘের ঘরবাড়িসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আংশকা

২৪ অক্টোবর ২০২০, ১:০৬:৩০

মাসুম বিল্লাহ, শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্মচাপের প্রভাবে গত বুধবার মধ্যরাত থেকে টানা ভারী বর্ষণে বাগেরহাটের শরণখোলায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন মৎস্য ঘেরসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আংশকা করা হচ্ছে। হাঁটু পানিতে ডুবে আছে উপজেলার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। পানিতে প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে অধিকাংশ পুকুর ও ঘেরের মাছ। সারাদিনে রান্না হয়নি পানিবন্দী অনেক পরিবারে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বাসিন্দারা। তবে নব-নির্বাচিত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তা, রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন ও ইউপি সদস্য জালাল আহমেদ রুমী ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তা নিয়ে দিনভর পানি নিষ্কাশনের জন্য চেষ্টা করেছেন।
শুক্রবার সারাদিন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজার ও উত্তর কদমতলা গ্রাম এবং রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুলের পশ্চিম পাশর্^ থেকে টিএন্ডটি এলাকা, পাঁচরাস্তা ও বান্দাঘাটা এলাকার প্রায় ৫ সহ¯্রাধিক পরিবারের বাড়িঘরে হাঁটু পানি জমে রয়েছে। শরণখোলা থানার সম্মুখে সরকারি পোস্ট অফিস ও রায়েন্দা খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে পানি জমে আছে এবং ওয়াপদা কলোনীর প্রত্যেকটি ভবনের মধ্যে ও ওয়াপদা জামে মসজিদে হাঁটু পানি জমে থাকায় শুক্রবার জুমুার নামাজ আদায় করতে পারেনি মুসল্লিরা। এছাড়াও রায়েন্দা বাজারের পুরাতন পোস্ট অফিস এলাকার পিছনে, উত্তর কদমতলা ফকির বাড়ি একলাকা ও কেজি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় সহ¯্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে আছে।
তবে, সারা দিন প্রচেষ্টার পরেও যখন পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সম্পন্ন না হওয়ায় বেলা ২টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তার নিজ উদ্যেগে এসকোবেটর এনে পানি অপসারনের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জালাল আহম্মেদ রুমি বলেন, আমার ঘরে পানি উঠে গেছে। রায়েন্দা বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। অনেকের পুকুর তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। শহর রক্ষা বাঁধ ও টেকসই বেড়ি বাঁধের কাজ চলমান থাকায় পানি নিষ্কাশনের পথ আটকে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ নিরসন হবে না।
রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট আমিরুল আলম মিলন সার্বক্ষনিক পানি বন্ধি মানুষের দূর্ভোগের খবরা খবর নিচ্ছেন এবং তার নির্দেশনা অনুযায়ী পানি নিষ্কাশনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চলছে।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন গনমাধ্যমকে জানান, ঘুর্নিঝড় আম্ফানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিগত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সে ক্ষয়ক্ষতিকেও হার মানিয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলায় সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ১৪৫০টি পুকুর ও মৎস্য ঘের সম্পূর্ণ প্লাবিত এছাড়া ২০ একর জমির জমির শাক-সবজি আড়াই একর জমির পানের বরজ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। দিন ব্যাপী প্রচেষ্টা ও এলাবাসীর সহায়তায় জলাবদ্ধ এলাকা থেকে পানি অপসারণের ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: