করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৪,০১৯ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৮ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬৬,৪৪২
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

শরণখোলায় মাকে জিম্মি করে ফিল্মি স্টাইলে মেয়েকে অপহরণ

৩ জুন ২০২০, ১১:২৬:৩৭

মাসুম বিল্লাহ, শরণখোলা প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় মাকে জিম্মি করে সুজন গাজী (২৯) নামের এক মাদক কারবারী তার দলবল নিয়ে ফিল্মি স্টাইলে অনার্স পড়ূয়া এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে। শরণখোলা থানা পুলিশ অপহরণের ১৫ ঘন্টা পর মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নিয়েছে। এব্যাপারে অপহৃত ছাত্রীর পিতা জাহাঙ্গীর হাওলাদার বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অপহৃতের পিতা উপজেলার মঠেরপাড় গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার জানান, একই গ্রামের মোঃ ফারুক গাজীর পুত্র সুজন গাজী প্রায়ই তার মেয়েকে উত্যক্ত করত। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে সুজন তার ৬/৭ জন মাদকাসক্ত বন্ধুকে নিয়ে তার বাড়িতে আসে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তার স্ত্রী ময়না বেগমকে জিম্মি ও ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে মেয়েকে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে যায়। তিনি আরো জানান, সুজন ও তার দলবল খুবই দুর্দান্ত ও বেপরোয়া স্বভাবের। তার মেয়ে শরণখোলা সরকারি কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
এদিকে অপহরণকারী ও তার দলবলের হুমকিতে অপহৃত ছাত্রীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ জানান, অপহরনের খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ১৫ ঘন্টা পর বানিয়াখালী এলাকা থেকে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। ওই ছাত্রী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ভয়ে মামলা করতে প্রথমে রাজি হননি। পরে তাদের সবধরনের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে রাজি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ সুজনের অজ্ঞাত ৫/৬ জন বন্ধুর নামে মামলা দায়ের করেছেন। মাদককারবারী সুজনের বিরুদ্ধে এর আগেও শরণখোলা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সুজনের পিতা মোঃ ফারুক গাজী বলেন, ছেলের আচরনে তিনিও খুব অতিষ্ট। সুজন মাদকাসক্ত হওয়ার পর থেকে আইনী হেফাজতে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন প্রক্রিয়ার কারনে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও সুজনের মামা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন তালুকদার বলেন, সুজন বখাটে হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমাদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই এবং ওই ঘটে যাওয়া বিষয়টিকে সমর্থণ করিনা।
খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খাঁন মহিউদ্দিন জানান, ওই ছাত্রীর পিতা তার কাছে ঘটনা জানালে পুলিশের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: