শিরোনাম
     করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ১,৩৮০ ◈ আজকে মৃত্যু : ১৮ ◈ মোট সুস্থ্য : ৩০৭,১৪১
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

শরনখোলায় টিআর-কাবিখা প্রকল্পে হরিলুট!

২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:৫৯:২২

বাগেরহাটের শরনখোলায় কাজের বিনিময় খাদ্যসহ টাকা উন্নয়ন কর্মসুচী (টিআর-কাবিখা) প্রকল্প বাস্তবায়নে হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দু-দফায় (টিআর-কাবিখা) একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই সরকারি অর্থ হরিলুটের প্রতিযোগীতা চালিয়েছেন ।

গৃহীত প্রকল্পগুলোর কাজ ৩০শে জুন ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অনেক প্রকল্প বর্তমানে চলমান। কোন কোন প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে প্রকল্প সমাপ্ত করেছেন এবং বাস্তবে না হলেও কিছু প্রকল্প কাগজে-কলমে সমাপ্ত দেখানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানাগেছে , ২০১৯-২০অর্থ বছরে ১২০টি প্যাকেজের অনুকুলে (টিআর) প্রকল্পে ৭৩লাখ ৪৭হাজার ৫২২টাকা এবং ৩২টি প্যাকেজের আওতায় কাবিখা প্রকল্পের জন্য ৩শতাধিক মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ দেয় ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের সাথে যোগসাজশ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তার মাটি ভরাট, রাস্তা সংস্কার , বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ নানা প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন বিভাগের তৎকালীন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের দায়সারা তদারকির কারনে সরকারের লাখ লাখ টাকাসহ বরাদ্ধকৃত চালের অধিকাংইশ লোপাট করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাবিখা প্রকল্পে উপজেলার রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য ৯ মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ হলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নান্না মিয়া বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। তবে দেখেছি বিদ্যালয় সংলগ্ন খাল খননের কিছু মাটি স্থানীয় এক ব্যক্তি মাঠে ছিটিয়ে দিয়েছেন। অপরদিকে, চাল রায়েন্দা সিনিয়র মাদ্রাসার মাঠ ভরাটের জন্য ৮মেট্রিকটন চাল বরাদ্ধ হয়। কিন্তু মাঠে নাম মাত্র বালু দিয়ে এক প্রকার দায় সেরেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উত্তর সোনাতলা আনছার হাওলাদারের দোকান হতে গুচ্ছ গ্রামের পুকুর পর্যুন্ত একটি রাস্তা সংস্কারের জন্য ১১মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ থাকলেও স্থানীয়রা জানান, অতিরিক্ত কাঁদা হতে মুক্তি পাওয়ার জন্য গ্রামবাসীদের নিকট থেকে চাঁদা তুলে রাস্তাটিতে সামান্য বালু ফেলে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, টিআর প্রকল্পে ৪০হাজার ৫৪৯ টাকায় রায়েন্দা ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার জামাল গাজীর ঘর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে মাটি ভরাট এবং ৬০হাজার টাকায় ঝিলবুনিয়া এলাকার তোমেজ খাঁনের বাড়ীর কালভার্ট হইতে হারুন খাঁনের বাড়ীর পুকুর পর্যুন্ত রাস্তা ইট সলিংয়ের কথা থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জামাল গাজী ও মোঃ হারুন খাঁন সহ ওই এলাকার কয়েকজন বলেন, সড়ক দুইটিতে চলতি বছরে এধরনের কোন কাজ হয়নি ।
উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারের ভাসানী কিন্ডার গার্ডেনের অনুকুলে ২০হাজার টাকা বরাদ্ধ থাকলেও এ পর্যন্ত কোন টাকা পাননি বলে জানান, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইলিয়াস হোসেন লিটন।
৬০হাজার ৫৩২ টাকায় ধানসাগর ইউনিয়নের ছুটুখার বাজার মসজিদের পার্শের একটি রাস্তা পাইলিংয়ে নামমাত্র কাজ করে বাকী অর্থ হজম করা হয়েছে। এমনকি একই ইউনিয়নের পহলান বাড়ী বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি (পিএসএফ) ৩০হাজারের অধিক টাকায় মেরামতের নির্দেশ থাকলেও নিদিষ্ট সময়ের পর ইতিমধ্যে তিন মাস অতিবাহিত হলেও ওই (পিএসএফটি) অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ধানসাগরের ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মইনুল ইসলাম টিপু বলেন, কোন ইউনিয়নে কি কাজ হয়েছে তা জানি না। আমার ইউনিয়নে আমি ২/৩টি প্রকল্পের কাজ নিজেই নিয়ম অনুসারেই করেছি। এছাড়া ছুটুখার বাজারের ওই প্রকল্পের সম্পুর্ন টাকা এখনো পাইনি। তাই কিছু কাজ বাকি থাকলেও তা করে দেওয়া হবে।

নাম গোপন রাখার শর্তে উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা বলেন, উপজেলা জুড়ে টিআর-কাবিখার অধিকাংশ প্রকল্পেই হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে। প্রকল্পগুলো তদারকি করা যাদের দ্বায়িত্ব ওই সকল কর্তা ব্যক্তিরা উদাসীন থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে হরিলুটের ঘটনা ঘটেছে। কর্মক্ষেত্রে তারা দ্বায়িত্ববান হলে সরকারের উন্নয়নের সু-ফল জনগন ভোগ করতে পারবেন। তাছাড়া দুর্নীতির লাগাম টানা সম্ভব নয়।

প্রকল্পের নানা অনিয়মের বিষয়ে শরনখোলা উপজেলার তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রনজিত কুমার সরকার মুঠোফোনে বলেন, আমি এখন ওই উপজেলার দ্বায়িত্বে নেই। তবে গৃহীত প্রকল্পের অধিকাংশ পরিদশর্ন করেছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা যতটুকু কাজ করেছেন আমি তাদেরকে ততটুকু বিল প্রদান করেছি। এছাড়া কোন ঠিকাদার প্রকল্পের কাজ না করে থাকলে কিংম্বা অনিয়মের আশ্রয় নিলে সর্বপরি তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় দেখবেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, প্রকল্পের বিষয়ে কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: