করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ৬০২,৯০৮
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

শরনখোলায় ভিজিডি কার্ডের জমাকৃত অর্থ ফেরত না দেয়ার অভিযোগ

৬ এপ্রিল ২০২১, ৬:৩৫:২১

মাসুম বিল্লাহঃ
সরকারী নিয়মানুযায়ী হতদরিদ্রদের জন্য সরকারী বিশেষ খাদ্য সহায়তা ভিজিডি কার্ডের অনূকুলে জমাকৃত টাকা ফেরত দেয়ার নিয়ম থাকলেও বাগেরহাটের শরণখোলায় আট শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারের জমাকৃত আট লক্ষাধিক টাকা ফেরত না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজমল হোসেন মুক্তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে উপকারভোগীদের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান। যার ফলে অনিয়মের বিষয়টি সঠিক কিনা এবং উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে উপজেলার চার ইউনিয়নের জন্য আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম.এম পারভেজকে রায়েন্দা ইউনিয়ন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলামকে ধানসাগর ইউনিয়ন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রতন কুমার বলকে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন ও পল্লীদারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মি. শিশির কুমারকে সাউথখালী ইউনিয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ এপ্রিল রবিবারের মধ্যে তাদেরকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

রায়েন্দা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মালিয়া রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা টুলু রানী, জুথিকা রানী সহ হতদরিদ্র পরিবারের একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, আমরা গত ২০১৯/২০২০ অর্থ বছরে ভিজিডি কার্ডের অনুকুলে রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুই বছর বিনামুল্যে ৩০ কেজি করে সরকারী চাল পাই এবং নিয়মানুসারে প্রত্যেক উপকারভোগীদের মাসে ২০০ শত করে টাকা জমা রাখতে হয়। ওই সময় রায়েন্দা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ৮১৫টি পরিবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলনের কাছে ২০১৯ সালের জানুয়ারী মাস হতে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসের এক হাজার টাকা করে আট লক্ষাধিক টাকা জমা দেই এবং বাকি ১৯ মাসের টাকা স্থানীয় একটি বেসরকারী ব্যাংকে জমা রাখি। আমাদের ভিজিডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় লাভ সহ ব্যাংকের সম্পুর্ন টাকা ফেরত দেন কিন্তু চেয়ারম্যানের কাছে জমা রাখা টাকাগুলো আজ পর্যন্ত আমরা ফেরত পাইনি। তাই বিষয়টি ইউএনও স্যার সহ অন্যদের কাছে জানিয়েছি। অনেক কষ্টের টাকা আমরা উক্ত টাকা ফেরত চাই।

জানতে চাইলে রায়েন্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান মিলন জানান, হতদরিদ্র পরিবারগুলোর ভিজিডির জমাকৃত সম্পুর্ন টাকা আমানত হিসেবে আমার কাছে জমা আছে এবং ইতিমধ্যে মাষ্টার রোল তৈরী করা হয়েছে। শীঘ্রই সকল উপকারভোগীর টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তাছাড়া দরিদ্রদের কয়েকজন বিষয়টি না বুঝে আমার ব্যপারে অভিযোগ তুলেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট হতদরিদ্রদের জমাকৃত টাকাগুলো তৎকালীন ভিজিডি উপকারভোগীদের মাঝে এখনো কেন ফেরত দেওয়া হয়নি তার কারন জানতে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া এ ধরনের অনিয়ম অন্য ইউনিয়নে রয়েছে কিনা তা জানতেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকল ইউনিয়নে নিরেপক্ষ তদন্ত করে দায়িত্ব প্রাপ্তদের চলতি মাসের ১১এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন চেয়ারম্যান অভিযুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: