করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ১০৩,২২৭
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

শরনখোলায় স্ত্রীর মর্যাদা পেতে প্রসাশনের দারস্থ হয়েছেন এক নারী!

২৭ জুন ২০২০, ৮:০৯:৩৪

শরনখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের শরনখোলায় জামায়াত নেতার স্ত্রীর মর্যাদা পেতে প্রসাশনের দ্বারস্থ হয়েছেন এক নারী। এ ঘটনায় উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির সহ বিভিন্ন মহলে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিন কদমতলা গ্রামের বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা মোঃ আয়শা আক্তার (২৭) তার দাখিলকৃত অভিযোগে বলেন, কয়েক বছর পুর্বে উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামের জনৈক ব্যক্তির সাথে আমার বিয়ে হলে দু,বছর পর সেখান থেকে তালাক হয়ে যায়। ওই ঘটনার সুত্র ধরে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফজলুল হক মোল্লার ছেলে নিকাহ-রেজিষ্টার (কাজী) ও শরনখোলা উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারী মাওলানাঃ মোঃ সরোয়ার হোসাইন মোল্লা ওরফে বাদল কাজীর সাথে ২০১৯ সালে আমার পরিচয় ঘটে। তার পর থেকেই বাদল আমার পিছু নেয় এবং রাত দিন আমাকে ফোন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমাকে সহ আমার বৃদ্ধা মায়ের হাতে পায়ে ধরে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে আমাদের বিয়ের সকল প্রস্তুতি সারেন বাদল নিজেই। সেই থেকেই আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে থাকতে শুরু করি। আমি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে স্ত্রীর মর্যাদা চাইলে সময় বাদল আমাকে বলেন, তিনি উপজেলা জামায়াতের বড় নেতা হওয়ায় এবং ইসলামের সঠিক প্রচারের কথা বলার কারনে আওয়ামীলীগরা আমার নামে গত কয়েক বছরে অনেক মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। তাই বিয়ের বিষয়টা কিছুদিন গোপন রাখতে হবে । উপজেলা নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষ থেকে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান প্রাথী হবেন এবং নির্বাচনের পর আমাকে সামাজিক মর্যাদা দিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে যাবেন। তাই বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষতি আছে। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আমাদের দাম্পত্ব্য জীবন ৮মাস চলার পর চলতি বছরের ১৭এপ্রিল স্থানীয় ব্যক্তিরা বাদলের কাছে আমাদের বিয়ের কাবিন দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেন না। পরে কাবিনের একটি কাগজ বাদল বাসায় নিয়ে আসলে তাতে দেখি দেনমোহর পাঁচ লাখ টাকার পরিবর্তে মাত্র দশ হাজার টাকা। তাও আবার (উসুল) পরিশোধ করা হয়েছে।

এ সময় আমি বাদলের কাছে কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রামবাসীর রোষানল থেকে রক্ষা পেতে আপাতত একটি নকল কপি তৈরী করেছি। বিষয়টি নিয়ে কোন চিন্তা করোনা। পাঁচ লাখ টাকার কাবিনের মুল কপি আমার অফিসে সংরক্ষন আছে। তার কিছুদিন পর বাদল আমাকে ফোন করে বলেন, তুমি আমাকে ভুলে যাও। তোমার সাথে আমার এখন আর কোন সম্পর্ক নাই। আমি তোমাক তালাক দিয়েছি। তখন আমি জানতে চাই আমার দোষ কি? তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। তোমার প্রতারনার বিষয়টি আমি প্রসাশনকে জানাবো এ কথা বলতেই বাদল আমাকে হত্যার হুমকি দেয়ায় আমি ও আমার বৃদ্ধা মা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
আয়শা আক্তার আরো বলেন, আমি কোন অন্যায় করিনি, কিন্তু বিনা কারনে বাদল আমাকে তালাক দেবেন কেন? আমি স্ত্রীর মর্যাদা না পেলে আত্মহত্যা করব । আর এ জন্য দায়ী থাকবে বাদল।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী সরোয়ার হোসাইন বাদল বলেন, এক সময় সে আমার স্ত্রী ছিল কিন্তু আমার সাথে খারাপ আচারণ করায় তাকে তালাক দিয়েছি এবং দেন মোহরের টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তাছাড়া স্ত্রী খারাপ আচারণ করলে স্বামী তালাক দিতে পারে সে বিধান ইসলামী শরীয়তে আছে।

অন্যদিকে, তালাকের বিষয়ে জানতে চাইলে রায়েন্দা কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, তালাক বিষয়টি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত ঘৃনীত। কারো স্ত্রী গুরুতর অপরাধ করলেও তা মার্জনা করা সবচেয়ে উত্তম। মন চাইলেই স্ত্রীকে তালাক দেয়ার বিধান ইসলামী শরীয়তে নেই। তালাকের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্ত্রীর মতামত থাকতে হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের সহ-সভাপতি এবং খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম কবির বলেন, কারো অপকর্মের দায় সংগঠনের নয়। বাদল বিভিন্ন বির্তকিত কর্মকান্ডে জড়িত হওয়ায় ইতিমধ্যে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সংগঠনের সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে, ক্ষতিগ্রস্থ নারী বাদলের নামে মামলা করলে তাতে দলের কোন আপত্তি নেই।
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ রেজাউল করিম জানান, এমন অভিযোগ আমি পাইনি তবে এটা সংগঠনের কোন বিষয় নয়, আইনের বিষয়। শরনখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, ওই জামাত নেতার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টিতে আমার কিছু করার নেই। ওই নারীকে আদালতে গিয়ে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: