fbpx
প্রচ্ছদ / জীবনধারা / বিস্তারিত

শুভ জন্মদিন নির্মলেন্দু গুণ

২১ জুন ২০১৯, ১২:১৯:০৭

কবি নির্মলেন্দু গুণ

‘আকাশে বন্দুক যুদ্ধ, মেঘের গর্জন।/ এখনও কদম্ব-ডালে দু’একটা কদম-,/ সুমিষ্ট সুগন্ধী আম, কৃষ্ণকালো জাম,/ হলুদ কাঁঠাল, লটকা, লাল কৃষ্ণচূড়া,/ এঁরা সবই জন্মসূত্রে আমার অর্জন’-

নিজের জন্মদিনের প্রাক্কালে এভাবেই নিজেকে, নিজের অর্জনকে লিখেছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। আজ শুক্রবার ৭৫-এ পা রেখেছেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এই অন্যতম কবি।

১৯৪৫ সালের আজকের এই দিনে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা থানার কাশবন গ্রামে নির্মলেন্দু গুণ জন্ম নিয়েছিলেন। তার মা বীণাপাণি, বাবা সুখেন্দু প্রকাশ গুণ। বারহাট্টার করোনেশন কৃষ্ণপ্রসাদ ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৬২ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন তিনি। এর আগেই নেত্রকোনা থেকে প্রকাশিত ‘উত্তর আকাশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কবিতা ‘নতুন কাণ্ডারী’। ১৯৬৪ সালে আনন্দ মোহন কলেজ থেকে আইএসসিও পাস করেন তিনি প্রথম বিভাগে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মাসি বিভাগে ভর্তির জন্য মনোনীত হলেও ঢাকায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হওয়ায় তিনি গ্রামে চলে যান। পরে ফিরে এসে দেখেন, তার নাম তালিকা থেকে লাল কালি দিয়ে কেটে দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৯ সালে তিনি প্রাইভেটে বিএ পাস করলেও সার্টিফিকেট তোলেননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, শ্রেণিসংগ্রাম, প্রেম-বিরহ, জীবন-প্রকৃতি আর স্বপ্ন দেখার তীব্র ঘোর তার কবিতার প্রাণশক্তি।

কবিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় গল্প, আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ও ভ্রমণসাহিত্যও রচনা করেছেন নির্মলেন্দু গুণ। প্রথম কবিতার বই ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ লিখেই কাব্যজগতে নিজের আসন স্থায়ী করে নেন তিনি। এ গ্রন্থের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা ‘হুলিয়া’ কবিতাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে এর ওপর ভিত্তি করে তানভীর মোকাম্মেল একটি পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়াও তার ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটি বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্য।

স্বাধীনতার আগে তিনি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। জড়িত ছিলেন সাংবাদিকতায়ও। পারিবারিক জীবনে এক কন্যাসন্তানের জনক। তিনি নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘কাশবন’। যার মধ্যে রয়েছে সঙ্গীত ও চিত্রাঙ্কন বিদ্যালয়, সংগ্রহশালা, গ্রন্থাগারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মুক্তমঞ্চ। তিনি ‘কাশবন বিদ্যানিকেতন’ নামে একটি বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেছেন। এ ছাড়া নেত্রকোনার মালনীতে কবিদের আড্ডার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘কবিতাকুঞ্জ’।

সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নির্মলেন্দু গুণ ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০১১ সালে একুশে পদক, ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার ও ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: