fbpx
প্রচ্ছদ / শিক্ষা / বিস্তারিত

শেষ ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছিলেন নিহত বুয়েট শিক্ষার্থী

৭ অক্টোবর ২০১৯, ১২:১৯:৩৪

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মরদেহ পাওয়ার পর তার সহপাঠীদের কাছ থেকে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি, আর মধ্যরাতে শেরে বাংলা হলে দ্বিতীয় তলায় মেলে তার লাশ। সর্বশেষ বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে তাকে শিবিরকর্মী সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শেরে বাংলা হলের দ্বিতীয়তলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল, তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া।

আবরার তার সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে যা লিখেছিলেন বিডি২৪লাইভের পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘১. ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।

২.কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব।

৩. কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।

হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-
“পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি
এ জীবন মন সকলি দাও,
তার মত সুখ কোথাও কি আছে
আপনার কথা ভুলিয়া যাও।”’

আবরার শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: