fbpx
প্রচ্ছদ / শিক্ষা / বিস্তারিত

মো. দ্বীন ইসলাম

মতলব উত্তর (চাঁদপুর)

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে প্রভাষক আলী আকবর

৩ জুন ২০১৮, ৬:৪৪:৫৫

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে প্রভাষক আলী আকবর


মো. দ্বীন ইসলাম, মতলব উত্তর (চাঁদপুর) :

মতলব উত্তর উপজেলার ১১নং পশ্চিম ফতেপুর ইউনিয়নাধীন দিঘলীপাড় গ্রামের নুরুল ইসলাম মৃধার তিন পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের মধ্যে মেজো ছেলে নাউরী আদর্শ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আলী আকবর মৃধাকে জানাজা শেষে দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে।রোববার সকাল ১০টায় নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১ ঘটিকায় দিগলীপাড় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০১ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আলী আকবর নাউরী আদর্শ ডিগ্রী কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের প্রভাষক ছিলেন। ২৫শে মে শুক্রবার জুমআ’র নামাজ আদায়ের পূর্বে অজু করতে গিয়ে পা পিচলে গিয়ে পড়ে যান।

কোন ব্যথা অনুভব না হলেও মাথায় চোট পাওয়ার বিষয়টা নিশ্চিত করেন তার সহকর্মী মারুফ বিল্লাহ ও মেহেদী হাসানকে, তারা আরো জানান, শনিবার সকালে প্রত্যক্ষ কথোপকথনে আলী আকবর বলেছিল, তার মাথা কেমন জানি লাগে কিছুই বুঝতে পারছেনা। সে অবস্থার স্বাভাবিক আলী আকবর আনন্দবাজারে চিকিৎসকের শরনাপন্ন হলে তাকে দ্রুত মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স-এ চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

মতলব যাওয়ার পথেই শরীর হারায় তার কার্যক্ষমতা, নিথর হয়ে যায় দেহ, শুধু শ্বাস চলাচল ছিল স্পষ্ট। এরপর প্রায় ডজন খানেক দেশ সেরা হাসপাতাল বদলে প্রায় বিশোর্ধ্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় স্পষ্ট প্রভাষক আকবরে মাথায় ক্ষুদ্র ব্রেন টিউমার হয়েছে এবং তা থেকে মাথায় চাপ প্রয়োগের কারনে টিউমার থেকে রক্তক্ষরণ হয়।

সর্বশেষ গত পাঁচদিন সময়কালে ক্রমাগত শরীরের অবনতির গতিবিধিতে অপারেশন করার কোন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি তার দেহে। দুই বছর বয়সী একমাত্র কন্যা সন্তানের জনক আলী আকবরের দৈহিক অবনতি দেখে তাকে গত শুক্রবার (১জুন) বিকাল ৬টায় তাকে রাখা হয় গ্রীণ লাইফ হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে।

অবশেষ প্রায় ২৮ ঘন্টা লাইফ সাপোর্টে থেকে গত শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে আলী আকবরের দেহ ছেড়ে উড়ে যায় প্রাণ পাখী। ৩৪ বছর বয়সী তরুণ প্রভাষক আলী আকবর এভাবে সকলের মাঝ থেকে চলে যাবেন তা কারোই মেনে নেয়ার মত নয়। বিধির বিধান তবু বাস্তবতা মেনে নিতে হবে, সর্বত্র জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
অশ্রুভরা লাখো নয়ন স্পষ্ট আলী আকবর আমাদের মাঝে ছিল অনেক জনপ্রিয়। তার আত্মীয় স্বজন, ছাত্র-ছাত্রী, সহকর্মী, শুভাকাঙ্খী, প্রতিবেশী ও পরিচিতদের মাঝে বেঁচে থাকবে আলী আকবর।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: