করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ৩,২০১ ◈ আজকে মৃত্যু : ৪৪ ◈ মোট সুস্থ্য : ৭৬,১৪৯
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

সাতক্ষীরার শ্রীউলায় জামায়াত শিবিরের নেতৃত্বে ৩০ হাজার মানুষকে পানি বন্দি করে নদীতে বিলীনের চেষ্টা

২৮ মে ২০২০, ৯:৩৫:০৭

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার মানুষ প্রাকৃতিক দূর্যোর্গের সাথে লড়াই করে জীবন যাপন করে আসছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে উপকূলীয় এই জেলার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়ন পুরোপুরি লন্ডভন্ড। শ্রীউলার সব চেয়ে ভাঙন প্রবণ অঞ্চল হিজলিয়া, কোলা ও হাজরাখালি ঘেঁষে চলা খোলপেটুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার একর জমি এবং কাঁচা ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।এক সপ্তাহ ধরে রান্না খাওয়া বন্ধ এসব মানুষকে পানি বন্ধি রেখে কতিপয় জামায়াত শিবিরের নেতা কলিমাখালি গ্রামের কামালের নেতৃত্বে বাড়ি প্রতি চাঁদা নিয়ে শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যানের সম্মতিক্রমে প্রায় ৩০হাজার মানুষের ঘরবাড়ি পানি বন্ধি করে নদীতে বিলীনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে সেনাবাহিনীর বাঁধ বাঁধার কথা থাকায় তারা ২৭মে ৫৫ ব্যাটালিয়নের ইঞ্জিনিয়ারিংএর একটি টিম হাজরাখালি প্রদর্শন করেন এবং তারা বলেন আগামী পূর্ণিমার গণের পরে কাজ শেষ করা যেতে পারে। এলাকার জনতা স্বেচ্ছা শ্রমে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করলেও উক্ত জামাত শিবিরের কিছু নেতাদের গোগন বৈঠাকের মাধ্যমে নদীর ওবদা না বেঁধে মাড়িয়ালা থেকে প্রধান সড়ক দিয়ে হিজলিয়া পর্যন্ত বাধ দিয়ে এই অঞ্চলের অনুমানিক ৩০হাজার মানুষ ঘরবাড়ি , ২হাজার হেক্টর জমির সাদা সোনা মৎস্যঘের থেকে বাস্তহারা করবে। অনুসন্ধানে জানা যায় তারা ভারাটিয়া সন্তারাশি বাহিনীর পাহাড়ায় এ করিকল্পনা সম্ভব করবেন তারা।

হিজলিয়া ,কোলা,কলিমাখালি,লাঈলদাড়িয়া,মাড়িয়ালি,হাজরাখালি গ্রাম চির স্থায়ী ভাবে নদী গর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সড়ক জনপদ বিভাগের এই সড়কটি আশাশুনি, শ্যামনগর ও কয়রা উপজেলার লক্ষ্য মানুষের চলাচল। কিন্তু ড্রেজার মেশিন দিয়ে সড়কের গোড়া থেকে মাটি কেটে সড়কটিও নদীর গর্ভে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে এই সড়যন্ত্র কারীরা। প্রাক্তন শিক্ষক পরিমল সূধা বলেন এই এলাকায় আমরা অনেক সংখ্যালঘু মুসলিমদের সাথে মিলেমিশে বাস করি কিন্তু কিছু দিন ধরে এমন ষড়যন্ত্র কথা আমি শুনশি। আমাদের তাড়ানোর জন্য এটা বাস্তবায়ন যথেষ্ট বলে আমি মনে করি। এবিষয়ে মোবাইলে শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা সাকিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্যার আছে বলে পরে কথা বলতে চেয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।পরে তিনি আর ফোন ধরেননি। শ্রীউলা ইউনিয়ন সাবেক যুবলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন লাকি বলেন, হাজার হাজার একর জমি নদীতে দিয়ে জনগন এভাবে বাঁধতে দেবে না। ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

আমাদের ইউনিয়নের কিছু জামাত শিবিরের নেতা কর্মীরা আবু হেনা সাকিল চেয়ারম্যানের ছায়াতলে থেকে এসব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন। প্রভাষক দিপাংকার বাছাড় দিপু বলেন,এটা একটা অমানবিক কাজ, মেইন রোড দিয়ে বাঁধ দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়ার পক্ষে আমি নয়। যেখানে ভাংছে সেখানে সেনাবাহিনী বাঁধ নির্মাণ করবে দূরত্ব। আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজার ফোনে একাধিকবার কলদিলে ফোন না ধরায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন (বিএম এফ) মহা-সচিব মোঃ রবিউল ইসলাম সোহেল বলেন উক্ত স্থানে মানবাধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমাদের চেয়ারম্যান ও সাবেক পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক অধ্যাপক ড.মোঃ আব্দুর রহিম খান,পিপিএম,স্যার ব্যবস্থা নেওয়া জন্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক,দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মূখ্য সচিব মহাদয়ের কাছে অনুরোধ করে চিঠি পাঠানো নির্দেশ দিয়েছেন ।
উক্ত বিষয়ে এবং নির্দিষ্ট জায়গায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসক , সাতক্ষীরা ৩ আসনের সংসদ সদস্য ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ যত্ন শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকা বাসী।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: