করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ২,৪২৩ ◈ আজকে মৃত্যু : ৩৫ ◈ মোট সুস্থ্য : ১২,১৬১

সারাদেশের ন্যায় বীরগঞ্জেও টাক হওয়ার হিড়িক

১৮ এপ্রিল ২০২০, ৫:২৯:৫১

প্রদীপ রায় জিতু, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : বিশ্বব্যাপী নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পর সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার সব বয়সের মানুষের মাঝে মাথা ন্যাড়া অর্থাৎ টাক হওয়ার হিড়িক পড়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে মাথা ন্যাড়া করার দৃশ্য সকল মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে অবস্থান করতে বলা হয় বাসা-বাড়িতে। এই সুযোগে অনেক কেই মাথা ন্যাড়া করতে দেখা গেছে। মাথার চুল ফেলে কেউ নীরবে বাসায় অবস্থান করছেন আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় নিজে ও টাক হচ্ছে এবং অন্যকে টাক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। আরেকটি মাধ্যমে দেখা গেছে অনেকে ফেসবুক পোষ্ট একটা নির্ধারিত সময় বেধে দিয়ে বলেছেন এই সময়ের মধ্যে পোস্টে নিদিষ্ট কমেন্ট পরলে টাক সংবলিত ছবি দিবো। অনেকে এটিকে নেহাত কমেন্ট পাওয়ার ধান্দা মনে করছেন।

মাথার চুল ঘন হবে বলে কিছু দিন পরপরই অনেকেই চুল ফেলে দেন। এটা বেশ বড় বয়স পর্যন্ত চলে কারও কারও ক্ষেত্রে। যদিও বার বার ন্যাড়া করলেই যে মাথায় ভালো চুল গজাবে এ কথার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অনেকের মাঝে আবার প্রচলিত আছে, মাথা ন্যাড়া করলে মাথার চুল পড়া কমে যায়।

প্রতিদিন কেউ না কেউ মাথা ন্যাড়া করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি আপলোড করছেন। তারা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন সবাইকে বাসা-বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। কতদিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তারা স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরবেন, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এই সুযোগে মাথা ন্যাড়া করে নিচ্ছেন।

তা ছাড়া বাইরে বের না হওয়ায় সামনা-সামনি কোনো বিরূপ মন্তব্য শোনার বা কারও মাধ্যমে বিরক্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। সরকারি নির্দেশনায় এখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো সেলুনগুলোও বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন সেলুনে যেতে না পারায় মাথায় চুল বেড়ে যাচ্ছে। গরমের এই সময়ে চুল বেড়ে গিয়ে মাথা চুলকাচ্ছে। তাই বাড়িতে বসেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলছেন।

মনি আক্তার নামে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেন,এটা ভাই ফেইসবুকের হিরিক ভাই,প্রথমে বড় লোকের বেটিলো লম্বা তার চুল,তোর…….. গেনদা ফুল এই হলো কারন।

নয়ন অাহমেদ নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, হিরিক পড়ার কারণ
যাহাদের মাথায় মাল(চুল) কম বা নাই, তাহারা বৃথা চেষ্টা করিতেছেন।

এক সাংবাদিক লিখেছেন, করোনায় জনসমাগম বন্ধে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। অনেক জায়গায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এমন অবস্থায় সেলুন বন্ধ থাকায় কেউ চুল কাটাতে পারছেনা৷ মাথার চুল বড় হয়ে যাওয়ায় সবাই টাক হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কর্মস্থলে যেতে হচ্ছেনা বিধায় গরমে চুল ফেলে দিচ্ছেন অনেকে।

গতকাল একজন মাদ্রাসা শিক্ষক জানান, হোম কোয়ারেন্টিনে আছি, কাজ নেই। ঘরে বসে থেকে এ সুযোগে টাক হওয়া। সঙ্গে আরেকটি কারণ যুক্ত করে বলেন, সেলুন বন্ধ তাই টাক হয়ে গেলাম।

অপূর্ব নামে এক শিক্ষার্থী বলেন,
যে যেটাই বলেন টাক কিন্তু গুজবের অংশ নয়, অামরা বাসায় অবস্থান করার কারনে এবং ঘুম যাতে ভালো হয় তাই টাক করেছি,সেটা নিয়ে কেউ কোনো প্রকারের ষড়যন্ত্র করবেন না,টাক করলে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয় না এটা গুজব ছাড়া কিছু নয়।

এ বিষয়ে মিলণ সেলুনের কর্ণধার মিলণ মার্ডী বলেন, সরকারি নির্দেশে বাজারের সেলুন ঘরটি এখন বন্ধ রাখা হয়েছে। তাই সংসার চালাতে এখন হিমসিম খেতে হচ্ছে। তবে এখন সবাই চুল ন্যাড়া করার জন্য অনুরোধ করেন এবং হোম সার্ভিস চায়।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: