প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

লোকমান হোসেন রানা

নিজস্ব প্রতিনিধি (যশোর)

বেনাপোলে ব্যাতিক্রমী "মানবতার দেয়াল"

সাড়া ফেলেছে বেনাপোলের ১৮ তারুন্য

১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:২৯:৪১


মোঃলোকমান হোসেন(রানা),নিজস্ব প্রতিনিধি:-
যশোর বেনপোল সীমান্তে ব্যাতিক্রমী মানবতার দেয়াল নির্মান করে সাড়া ফেলেছে তারুন্য-১৮র ১৮ জন শিক্ষার্থী।প্রচন্ড শৈতপ্রবাহে যখন কাপছে দেশ দুর্ভোগে এলাকার ছিন্নমূলের মানুষ,এসময়ে যশোর বেনাপোল মহাসড়কের পাশেই জনসম্মুখে উন্মুক্ত স্থানে দেয়ালে লেখা হয়েছে মানবতার দেয়াল।এক পাশে লেখা হয়েছে এখানে আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস রেখে যান। আর এক পাশে লেখা হয়েছে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যান।বাসাবাড়ীতে বা ব্যাবস্যা প্রতিষ্টানে থাকা পুরানো ও অপ্রয়োজনীয় শত শত বস্ত্র ও আসবাপত্র স্বেচ্ছায় মানবতার দেয়ালে রেখে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। এসব বস্ত্র মনের আনন্দে নিয়ে যাচ্ছে পথচারিসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষেরা।অপ্রয়োজনীয় বস্ত্র দিয়ে সাধারন মানুষের উপকার করতে পারায় খুশি অনেকে। আব্দুল জব্বার ও মরিয়ম বেগম এবং আবদার হোসেন জানান বাড়ীতে অনেক ভাল ভাল পোষাক নষ্ট হয়ে যায়।ছোটও হয়ে যায় অনেক জামাকাপড়।অনেক আসবাপত্র ও বস্ত্র তারুন্য ১৮ আহব্বানে সাড়া দিয়ে মানবতার দেয়ালে রেখে যেতে পেরে ভাল লাগছে।অনেকেই দিচ্ছেন সাড়া।

মানবতার দেয়ালে সাড়া দিয়ে শুক্রবার আলোচনা সভা করেছে এলাকার মানুষ-এসময় উপস্তিত ছিলেন চেয়ারম্যান বজলুর রহমান,শার্শা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এম এ রহিম,কাউন্সিলর আহাদুজামান বকুল,সাংবাদিক মসিয়ার রহমান,আজিজুল হক,স্থানীয় ফজলুর রহমান,এয়াকুব আলী,নাসির উদ্দিন,শুকুর আলী,মিজানুর রহমান,আলী হোসেন,রায়হান খান,আলামিন,আসিফ,সাকিব,রাব্বি,মাসুদ,মামুন মেহবুব,মাসুদ প্রমুখ।বেনাপোল বড় আচঁড়া গ্রামের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোমিও হাসান হিরোর আহবানে তারুন্য ১৮ উদ্যোগে সমমনা ১৮ জনকে নিয়ে এই সংগঠন করা হয়। এই কমিটির নাম দেওয়া হয়েছে মানবতার দেয়াল তারুন্য ১৮। বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে সদস্য।প্রচারনা সংগ্রহ ও বিতরন করা হচ্ছে প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র।বেনাপোল রিপোটার্স মাল্টিপারপার্স সমিতি ও জিওসি সমবায় সমিতির সহযোগিতায় বেনাপোল বাজার-বন্দর এলাকা ও সীমান্ত এলাকায় ৩টি স্পটে নির্মিত হয়েছে মানবতার দেয়াল-দেশ ব্যাপি ছড়িয়ে দিতে চান স্বেচ্ছাসেবী কর্মকান্ডটি।বস্ত্র দিতে ও নিতে পেরে খুশি গ্রহিতা সহ এলাকার মানুষেরা।

ভ্যানচালক ও এক শ্রমিক বলেন এমন ধরনের পোষাক কেনার সমর্থন নেই তাদের।রাস্তার ধারে খোলামনে পছন্দের পোষাক নিতে পেরে খুবই খুশি লাগছে তাদের।তরুণদের এই মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বেনাপোল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন,মানবতার দেয়াল মানুষের মধ্যে সাঁড়া জাগিয়েছে,আবেগ আপ্লত অনেকে।এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়াসহ সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

বেনাপোল মানবতার দেয়াল তারুন্য ১৮কমিটি সাধারন সম্পাদক -রোমিও হাসান হিরো বলেন,দেশে বৈরী আবহাওয়া বইছে-এজন্য মানবতার দেয়াল কাজে আসবে। কমবে ধনী গরিবের বৈষম্য।তিনটি স্পটে মানবতার দেয়াল থেকে অসহায় মানুষেরা পাচ্ছে তাদের আসবাপত্রের সন্ধান-মানবতার এ উদ্যোগটি আলো হয়ে ছড়িয়ে পড়ুক দেশব্যাপি-জয় হোক তারুন্যের এ আশা নিয়েই এগিয়ে যেতে চান উদ্যোক্তরা।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: