fbpx
বৃহস্পতিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

“সূর্য শিশির” পতঙ্গখেকো উদ্ভিদের সন্ধান দিনাজপুর সরকারি কলেজে

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১১:৪৪:৪৯

মো: সবুজ ইসলাম :
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় তিনটি পতঙ্গভোজী উদ্ভিদ এর সন্ধান পাওয়া গেছে।“ সূর্য শিশির” তন্মধ্যে অন্যতম। বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই উদ্ভিদটি এখন বিলুপ্তির পথে। বিশ্বে মোট ১৯৪ টি প্রজাতি পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে এই উদ্ভিদটির বিস্তার দিনাজপুর এবং রংপুরে সীমাবদ্ধ। উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর সরকারি কলেজ ক্যা¤পাসে “সূর্যশিশির” উদ্ভিদটির তিনটি উদ্ভিদ পাওয়া গেছে। দিনাজপুর সরকারি কলেজ ক্যা¤পাসে এক সময় এই উদ্ভিদ অনেক জন্মালেও এটি এখন বিলুপ্তি প্রায়। সূর্যশিশির-এই মাংসাশী উদ্ভিদটির, ইংরেজি নাম ঃ Sun dew, এটি Caryophyllales বর্গের, Droseraceae গোত্রের, Drosera গণের, Drosera rotundifolia প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও লেখক মো: দেলোয়ার হোসেন স্যার জানান , দীর্ঘ ৬ মাস পর্যবেক্ষণ করার পর এই পতঙ্গ খেকো গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। । তিনি বলেন, গাছটি পোকাকে আকৃষ্ট করে এবং পোকা গাছের উপরে বসা মাত্রই গাছটি পোকাকে আটকে মেরে মেলে। এই উদ্ভিদটি বাংলাদেশের শুধুমাত্র দিনাজপুরেই জন্মায় বলে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এর বায়োলোজি গ্যালারি থেকে জেনেছেন। উদ্ভিদটিকে আরও অধিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই উদ্ভিদ নিয়ে বিশদ নিবন্ধ দেয়া হবে। এই বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক বাবুল হোসাইন স্যারের সাথে । তিনি জানান, “সূর্য শিশির” একটি একবীজ পত্রী উদ্ভিদ । পুষ্পবিন্যাস অনিয়ত ধরনের।আবাস থেকে প্রায় ২-৩ ইি লম্বা পুষ্প মঞ্জুরী বাড়তি সৌন্দর্য ছড়ায়। উদ্ভিদটি হালকা সূর্যালোক পছন্দ করে। ৪-৫ সে.মি দৈর্ঘ্যরে উদ্ভিদটির পাতাগুলি স্তরায়িত হিসেবে বিন্যস্ত থাকে। পাতাগুলির কেন্দ্রিয় অংশ লোব যুক্ত এবং সমস্ত পাতায় এক বিশেষ ধরণের রোম থাকে যেগুলিতে মিউসিলেজ নিঃসরণকারী গ্রন্থি থাকে যা দ্বারা পতঙ্গগুলিকে আটকে ফেলে। । সাধারণত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করলেও সহায়ক পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে এরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পতঙ্গগুলিকে ব্যবহার করে। বিলুপ্তপ্রায় এই উদ্ভিদটি সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। যে পরিবেশে উদ্ভিদটি জন্মায় সেখানকার মৃত্তিকার পুষ্টি প্রোফাইল নির্ণয় করে রাসায়নিক গুণাগুণ জেনে উপযুক্ত আবাস তৈরি করতে পারলে উদ্ভিদটি সংরক্ষণ করা যাবে বলে তিনি আশাবাদী। তাছাড়া টিস্যু আবাদের মাধ্যমেও সংরক্ষণ করা যেতে পারে। বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিলুপ্তপ্রায় এই উদ্ভিদটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা আমাদের উচিৎ।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত:

সর্বশেষ

আমাদের ফেসবুক পাতা

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল


প্রতিনিধি নিয়োগ

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ রাসেল ইসলাম
নির্বাহী সম্পাদক : বনি আমিন
বার্তা সম্পাদক : রাইতুল ইসলাম
প্রধান কার্যালয় : ১৬১/১/এ উলন, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯
মোবাইল : 01715674001
বিজ্ঞাপন : 01727338602
ইমেইল : alorprotidin@gmail.com, news.alorprotidin@gmail.com

Developed by RL IT BD