করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ২৭৫,৪৮৭
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

সৎ ভাই ও তার স্ত্রী শিক্ষক দম্পত্তির অত্যাচারে অবরুদ্ধ হতদরিদ্র জেলে পরিবার

৮ আগস্ট ২০২০, ৮:৩৯:০২

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটের শরণখোলায় সৎ ভাই ও তার স্ত্রী শিক্ষক দম্পত্তির অত্যাচারে অবরুদ্ধ হতদরিদ্র জেলে পরিবারে সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ১নং ধানসাগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের রতিয়া রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রুস্তুম আলী হাওলাদার মারা গেলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সেতারা বেগম তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে ওই ওয়ার্ডের সরকারি খাস জমিতে জীবন-যাপন করতে থাকেন। কিন্তু রুস্তুম হাওলাদারের প্রথম সংসারের বড় ছেলে ও রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুল হালিম (বিএসসি) ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রতিবেশি বিধবা সেতারা বেগম তাদের চক্ষুশূল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে হালিম ও তার সহযোগীরা সেতারা বেগমকে তার ছেলে-মেয়ে সহ সরকারি ওই খাসজমি থেকে তাড়ানোর জন্য নানা প্রকার ষড়যন্ত্র শুরু করেন। সম্প্রতি আঃ হালিমের নেতৃত্বে বিধবা সেতারা বেগমের বসত বাড়ী সহ ঘরটি পিছনে ফেলে সরকারী সড়কের প্রায় ১৩০ফুট দৈঘ্যের সম্পত্তি জবর দখল করে ব্যবসার উদ্দেশ্যে আঃ হালিম ও তার প্রতিবেশি মোঃ আলম আকন এবং মোঃ মোস্তফা হাওলাদার একটি মার্কেট নির্মানের কাজ শুরু করেন। যার কারনে সেতারা বেগমের ওই বাড়ীতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে গেলে একেবারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন ওই পরিবারটি।
সেতারা বেগমের ছেলে মোঃ ফোরকান আলী হাওলাদার বলেন, মার্কেট শুরু আগে বাড়ী থেকে বের হওয়ার জন্য একটু পথের দাবি করি আমরা। ওই সময় ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন খাঁন, স্থানীয় সমাজ সেবক মোঃ ইউনুচ আলী শিকদার ও মোঃ আঃ রহমান হাওলাদার সহ স্থানীয়রা বলেন, তোমাদের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে এখানে কোন মার্কেট হবে না। পরে চলাচলের পথ না রেখেই কাজ শুরু হয়েছে। তখন আমি আমার সৎ ভাই মোঃ আঃ হালিম ও তার স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা শাহিনুর বেগমের পা জড়িয়ে ধরে অনেক কান্নাকাটি করি। কিন্তু তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন ভুমি অফিসের কর্মকর্তা ওই জমিতে লাল নিশান দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে তাকে ম্যানেজ করে নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় রাজাপুর বাজারের বাসিন্দা মোঃ মনির হাওলাদার ও তার স্ত্রী মিসেস দুলালী বেগম বলেন, ওই জেলে পরিবারের পক্ষে আমরা কথা বলায় হালিম সহ প্রতিপক্ষরা আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কাল্পনিক অভিযোগ উত্থাপন করে হয়রানির চেষ্টা চালাচ্ছেন। অসহায় পরিবারটি কারো কোন সহয়তা না পাওয়ায় আজ তারা গৃহবন্ধী। এছাড়া ভুমি কর্মকর্তা প্রতিপক্ষের কাছে ম্যানেজ হওয়ায় রহস্যজনক কারনে তিনি নির্মান কাজে এখন আর কোন বাঁধা দিচ্ছেন না।
ইউপি সদস্য জাকির হোসেন খাঁন বলেন, জেলে ফোরকান ও তার পরিবারটি যাতে গৃহবন্ধী হয়ে না পড়ে সে জন্য আমরা স্থানীয়রা বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। পরবর্তীতে কিছু চেরাই কাঠ ম্যানেজ করে তা দিয়ে খালের মধ্য থেকে একটি পথ করে দিয়েছি। ওই পরিবারটির জন্য কেউ একইঞ্চি জমি দিতে রাজি হননি। ফোরকানের সৎ ভাই আঃ হালিম একটু দয়া করলে কোন সমস্যা থাকতো না।
মোঃ আলম আকন ও মোঃ মোস্তফা হাওলাদার বলেন, আমরা এখনও ওই পরিবারের জন্য জমি ছাড়তে রাজি আছি। কিন্তু ফোরকানের ভাই হালিম রাজি না থাকায় ওরা অবরুদ্ধ হয়ে আছে। সেখানে আমাদের কিছু করার নেই। অপরদিকে, শিক্ষক আব্দুল হালিম দাবি করেন আমি ফোরকানদের পথের জন্য ১০ফুট জমি ছেড়ে দিয়েয়েছি। শালিসদারা পথ বের করে না দিলে সে দোষ আমার না।
বিষয়ে ধানসাগর ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) বাবু শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, সরকারী ওই জমিতে কোন ধরনের স্থাপনা তৈরী না করার জন্য হালিম সহ অন্যদের নোটিশ করে সংশ্লিষ্ট স্থানে লাল পতাকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা অমান্য করে যদি কেউ (পাকা ইমারত) মার্কেট নির্মান করেন তার বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: