করোনা লাইভ
আজকে আক্রান্ত : ০ ◈ আজকে মৃত্যু : ০ ◈ মোট সুস্থ্য : ২৭৫,৪৮৭

হোম কোয়ারেন্টাইনে শিক্ষার্থীদের দিনকাল

৮ এপ্রিল ২০২০, ৮:১১:১০

রূপা,শোয়েব আহমেদ,সোহানা

মো.আরিফুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে হঠাৎ থমকে গেল এই শহর এই দেশ। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এর হানা স্তব্ধ করে দিয়েছে। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও এখন বন্ধ। হোম কোয়ারেন্টাইনে দিন কাটছে শিক্ষার্থীদের। ঘরে বসে অবসর সময়ে পরিবারকেও অনেকে সময় দিচ্ছেন।

হোম কোয়ারেন্টাইন কি?

হোম কোয়ারানটাইনের বাংলা অর্থ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি। হোম কোয়ারানটিন মানে বাইরে ঘুরে বেড়িয়ে ফুর্তি করা নয়।
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধি (আইএইচআর -২০০৫)-এর আর্টিকেল ৩২ অনুসারে, যে সব দেশে নভেল করোনাভাইরাস বা (কোভিড-১৯)-এর স্থানীয় সংক্রমণ ঘটেছে সে সব দেশ থেকে যে সব যাত্রী এসেছেন এবং আসবেন (দেশি-বিদেশি যে কোনো নাগরিক), যারা দেশে শনাক্ত হওয়া কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন এবং যার অথবা যাদের কোনো শারীরিক উপসর্গ নেই, তাদের ১৪ দিন কোয়ারানটাইন পালন করা আবশ্যক।

হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে দৈনিক আলোর প্রতিদিনকে নিজেদের অভিব্যক্তি জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

লেখক :
ফারহানা খানম রূপা,
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

হোম কোয়ারেন্টাইনে পরিবারকে সময় দেয়ার সবচেয়ে ভালো সময় মনে করছি

হোম কোয়ারেন্টাইন শব্দটাই তো মন খারাপ করে দেয়, দম বন্ধ লাগে। প্রথম প্রথম খুব কষ্ট হতো,একটুতেই রাগ উঠে যেতো। কিন্তু সবার আগে তো বেঁচে থাকতে হবে। পরিবার, প্রিয়জন,আমার দেশের প্রতিটা মানুষের কথা চিন্তা করে হলেও ঘরে থাকতে হবে।

সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করি,আশা রাখি তিনি সব কিছু ঠিক করে দিবেন। পরিবারের সবার সাথে রোজা রাখা,নামাজ পড়া,কোরআন পাঠ। একটা ডায়েরি নিয়েছি, নিজের পছন্দের কবিতাগুলো লিখে রাখি, গল্পের বই পড়ে যে লাইনগুলো ভালো লাগে সেগুলো লিখে রাখি। গান শুনি প্রচুর,সময় করে একসাথে মুভি দেখি সবাই। একটা কঠিন সত্যি হলো,পরিবারের থেকে দূরে চলে গিয়েছিলাম। হোম কোয়ারান্টাইনে পরিবারকে সময় দেওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় মনে করছি।সবার ছোট ছোট গল্প শুনি,তাদের কাজে সাহায্য করি। টবে ছোট ছোট কিছু গাছ লাগিয়েছি,সেগুলোর যত্ন করি। খুব মন খারাপ হলে ছাদে গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি। এভাবেই কেটে যাচ্ছে আমার দিনগুলি।

লেখক :
শোয়েব আহমেদ
শিক্ষার্থী, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অবসরে গল্পের বই নিয়ে সময় কাটাচ্ছি

করোনার এই সময়টা আমার খুব দ্রুত কাটছে। বাসায় বসে খুবই অলসভাবে সময় পার করছি। প্রতিদিন খাচ্ছি, ঘুমাচ্ছি,বাসার সবার সাথে টুকটাক বিষয়ে হৈ চৈ করছি আর প্রতিদিন পড়ব পড়ব করে কালকের জন্য নিয়ত জমা রেখে দিন শেষ করছি। একেবারেই না বাইরে যেতে যেতে এখন অনেক ঘরকুনো হয়ে গেছি। জরুরি কোননো প্রয়োজনেও ববের হতে আলসেমি লাগে। মাথায় মাঝেমাঝে বিভিন্ন দুশ্চিন্তা ভর করে। কখনো কখনো নিজের মধ্যে জোড় করেই করোনার উপসর্গ খোঁজার ব্যার্থ চেষ্টা করি। অবসরে গল্পের বই নিয়ে সময় কাটাচ্ছি। আবারও কোলাহলময় জীবনের প্রতিক্ষায় আছি।

লেখক :
তাকিয়া আফরিন সোহানা
শিক্ষার্থী, বিডিএস – ৩১ তম ব্যাচ,
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

উপন্যাস,থ্রিলারধর্মী সিনেমা দেখে কেটে যাচ্ছে এই বন্দি দিনগুলি

এবার ক্যাম্পাস থেকে প্রথম যখন বাসায় এসেছিলাম তখনো বুঝিনি এতদিন বাসায় থাকতে হবে। কিছুদিন যাওয়ার পর একঘেয়েমি লাগা শুরু হয়েছিল।কিন্তু ভয়ানক এই করোনা সংকট মোকাবেলায় হোম কোয়ারন্টাইনে থাকা যে কতটা জরুরি তা একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট হিসেবে উপলব্ধি করতে আমার মোটেও সময় লাগেনি।আর কথায় আছে না মানুষ অভ্যাসের দাস তাই খুব সহজেই মানিয়ে নিয়েছি নিজেকে এই ইট পাথরের দেয়ালের বন্দী জীবনে।
মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করি এজন্য সবার আগে সময়মত পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার চেষ্টা করি।বাসার কাজে আম্মুকে ছোটখাটো সাহায্য করা এখন নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে দাড়িয়েছে। । প্রত্যহ অবসরে হারমোনিয়াম আর তবলা নিয়ে আবার হারাতে শুরু করেছি রবীন্দ্র ও নজরুল সংগীতের নেশার জগতে। এছাড়া টুকটাক উপন্যাস,থ্রিলারধর্মী সিনেমা দেখে কেটে যাচ্ছে এই বন্দী দিনগুলো।
সবথেকে বড় কথা আব্বু আম্মুর সাথে প্রায় তিন বছর পর এত দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছি। তাদের সাথে মিলে আশে পাশের অসহায় মানুষদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি এবং করোনা মোকাবেলায় কি কি করনীয় তা তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি।।মাগরিবের নামাযের পর আব্বু-আম্মুর সাথে ছাদের আড্ডাটা ক্যাম্পাসে গিয়ে অনেক মিস করবো।পৃথিবী ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা চিন্তা করলে প্রচন্ড মন খারাপ হয়।আল্লাহ আমাদের সবাইকে মাফ করুন এবং দ্রুত আমাদের এই করোনা সংকট থেকে রক্ষা করুন।আমিন।।

দৈনিক আলোর প্রতিদিন এর প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: